তিতাসে স্কুলছাত্র অপহরণের ৬দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

তিতাসে স্কুলছাত্র অপহরণের ৬দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

28 December 2016, 9:02:18

নিজস্ব প্রতিনিধি
কুমিল্লার তিতাসে আবু তাহের হৃদয় (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণের ৬দিন পেরিয়ে গেলেও জীবত কিংবা মৃত উদ্ধার করতে পারেনী তিতাস থানা পুলিশ। গত ২১ডিসেম্বর বুধবার উপজেলার মধ্য আকালিয়ার মতিন বেপারীর বাড়ির পাশে ব্যাটমিন্টন খেলতে এসে অপহরণের শিকার হয় ওই স্কুল ছাত্র। সে বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ও মধ্য আকালিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মোঃ বশির আহমেদ বাচ্চু মিয়ার একমাত্র ছেলে।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ব্যাটমিন্টন খেলার জন্য প্রতিবেশী মতিন বেপারীর বাড়ির পাশে গেলে আর ফিরে আসেনি। এরপরদিন বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোজি করে এবং রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং করেও কোথাও না পেয়ে হতাশ হয় পরিবারের লোকজন। পরে সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল থেকে ফোন আসে, ‘আপনার ছেলে অপহরণ হয়েছে। আমাদের হেফাজতে রয়েছে। ২০ লাখ টাকা দিলে, আমরা তাকে ছেড়ে দিবো। অন্যথায় হৃদয় লাশ পাবেন।’ বলে ফোনটি কেটে দেন।
এরপর রাতে আরেকবার ফোন করা হয় এবং জানতে চাওয়া হয় টাকা জোগার হয়েছে কি না? উত্তরে হৃদয়ের পিতা বাচ্চু মিয়া কিভাবে টাকা পাঠাতে হবে জানতে চাইলে, পরে জানানো হবে বলে লাইন কেটে দিয়ে আর কোন ফোন করা হয়নি।
এবিষয়টি তিতাস থানা পুলিশকে স্কুল ছাত্র হৃদয়ের পরিবার থেকে জানানো হলে পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে শুক্রবার সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মধ্য আকালিয়া গ্রামের মতিন বেপারীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে সিলভার মোঃ আলীকে আটক করে পুলিশ। আটকের ২দিন পর একই গ্রামের বর্তমান মেম্বার রেনু মিয়াকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে রেনু মিয়ার ছেলে রিয়াদ (২৫), পুলিশের নিকট আত্মসমর্পন করলে রেনু মেম্বারকে ছেড়ে দেয়। এরপর একই কসাই নজরুলের ছেলে মহিন (২৪) ও কালাইগবিন্দপুরের জাকিরের ছেলে সাকিবকে (২৩) আটক করে জেলা সিআইডি ও তিতাস থানা পুলিশ।
তিতাস থানা পুলিশের নিকট দেয়া শিকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, ২০লক্ষ টাকার জন্য রিয়াদকে অপহরণ করেন মোহাম্মদ আলীগং। এরপর কয়েক দফা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিও করা হয়। কিন্তু স্কুল ছাত্র হৃদয় অপহরণের সময়ই শ^াসরোধ হয়েই মারা যায়। পরে বাতাকান্দি বাজার থেকে দু’টি বস্তা কিনে, হৃদয়ের লাশ বস্তাবন্দি করে হোমনা-বাঞ্ছারামপুর সড়কের সংযোগ সেতুর উপড় থেকে তিতাস নদীতে লাশটি বুধবার রাতেই ফেলে দেয়। অপহরণকারীদের এমন লোমহর্ষক বর্ণনার ভিত্তিতে গতকাল সোমবার নিহত হৃদয়ের লাশ উদ্ধারে নামে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া, তিতাস থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম ও এসআই কমল মালাকারসহ সঙ্গীয় ফোর্স। সারাদিন তিতাস নদীতে জাল ফেলে হৃদয়ের লাশের কোন হদিস মেলেনি। তবে ডুবুরী দিয়েও লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে বলে জানান পুলিশ।
সোমবার সকালে সরেজমিনে হৃদয়ের বাড়ি গেলে চোখে পড়ে ৬দিন ধরে একমাত্র পুত্র শোকে কাতর বাবা-মা, ভাই-বোনসহ স্বজনদের আহাজারি। তাদের আহাজারীতে আকাস বাতাস ভারি হয়ে উঠসে কাঁদছে পাখিরাও। দুর দুরান্ত থেকে আগত উৎসুক জনতার চোখেও জলের ভার ছল ছল করতে দেয়া যায় চারপাশটা কেমন বিষন্ন হয়ে উঠে।
নিহতের পিতা বশির উদ্দিন বচ্চু মিয়া কান্না জড়ানো কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমার একমাত্র ছেলেটাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ চাইলো, আমি আমার ছেলের সাথে কথা বলতে চাইলে ফোনটি বন্ধ করে দেয় তারপর ওই নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেও কোন যোগাযোগ করতে পারিনি। তারা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যা করে গুম করেছে। আমি আইনের কাছে আমার একমাত্র ছেলের হত্যার বিচার চাই এবং আমার ছেলের লাশটাও যেন অন্তত পাই প্রশাসনের কাছে এই একটাই দাবি। অপরদিকে সদ্য সন্তানহারা হৃদয়ের মা যেন বাকরুদ্ধই হয়ে গেছেন, তিনি কোনো কথা বলতে পারছেন না।
তবে স্থানীয় একাধিক মহল বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন, তারা বলেন, খুনিরা খুব শক্তিশালী। তাদের হাত অনেক লম্বা। সে জন্য হৃদয়ের লাশ উদ্ধার হবে না। হত্যার মোটিভ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানাহ নাটয়কিতা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে অদৃশ্য হাতের ইশারাও রয়েছে বলে দাবি করেন।
এই বিষয়ে তিতাস থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চা ল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের দেয়া শিকারোক্তি অনুযায়ীই তাদেরকে সাথে নিয়েই হোমনার তিতাস নদীতে হৃদয়ের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: