প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

তেরখাদার ইছামতি গ্রামের তরিকুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগঃ তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

১ আগস্ট ২০১৯, ৪:৩১:৫৯

বিশেষ প্রতিবেদক ঃ খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলাধীন ছাগলাদাহ ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামের কাজী আবুল খায়েরের পুত্র কাজী তরিকুল ইসলাম তরুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা সহ ও নানা অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ অন্যান্য দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হতাশাগ্রস্থ শিক্ষিত বেকারদের পুলিশে নিয়োগ ও এ্যাসেনসিয়াল ড্রাগে চাকুরী দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে সে। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতের মিটার দেয়ার কথা বলে ইছামতি গ্রামের মাঝিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আত্মসাত করে সে। এই তরু নিজে কোন চাকরী বা ব্যবসা করে না। অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজী, ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষদের প্রতারনার ফাঁদে ফেলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তরু’র সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ডে তার সহদর কাঁচা কাজী সহায়তা করে আসছে। এই তরু ও তার পরিবার বর্গা জমি চাষ ও দুধ বিক্রি করে সাদামাঠা জীবনযাপন থেকে হঠাৎ করে এত অর্থ-বিত্তের মালিক কিভাবে হলো তা সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রহস্য হয়ে রয়ে গেছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম তরু সম্প্রতি নিজ বাড়িতে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করছে। এসব টাকা সে কোথা থেকে পাচ্ছে তা সবাই না জানলেও, এসব টাকা যে অন্ধকার পথে রোজগার করা তা সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানেই শেষ নয়; এই তরু উপজেলার ধানখালী গ্রামের বাসিন্দা ও ছাগলাদাহ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্যাকে তিন মাস আগে বেধড়ক মারপিট করে। ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু কুশলা গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ সমির কৃষ্ণ ঢালীকে মোবাইলে জীবন-নাশের হুমকি দেয়। গত বছর কোরবানী ঈদের দিন তরু ও তার বাহিনী ইছামতি গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেয়। এঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তরু দীর্ঘ দিন জেলহাজতও খেটেছে। এই মাসুম কাজীর পিতাও ওই বাহিনীর হাতে খুন হয়। গত ১৩ মে খুলনা নগরীর লোয়ার যশোর রোডের দলীয় কার্যালয়ে তেরখাদা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এরশাদকে বেধড়ক মারপিট করে তরু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। ছাগলাদহের বুড়োমায়ের গাছতলার মেলায় জুয়ার বোর্ড না বসাতে পেরে স্থানীয়দের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ আটক করে তাকে। মুচকেলা দিয়ে সেবারও ছাড়া পায় সে। ২০ জুলাই ছাগলাদহ বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আ’লীগ নেতা রবিউল ইসলাম রঞ্জু মোল্যার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তরু। চাঁদার টাকা না দেয়ায় ব্যবসায়ী রঞ্জুকে মারপিট করে সে। তাৎক্ষনিকভাবে তেরখাদা থানা পুলিশ এলে বাহিনী নিয়ে পালিয়ে যায় তরু পরে তার অভিভাবকরা মুচলেকা দেয়; ভবিষ্যতে আর চাঁদাবাজী করবে না শর্তে। বহু অপরাধের হোতা তরু নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হলেই এলাকার যে কোন সম্মানী লোকের সম্মান বিনষ্ট করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে। এলাকার অপরাধী সিন্ডিকেটসহ জামাত-শিবিরের একটি গ্রæপের সাথে তার প্রতিনিয়ত উঠা-বসা।এদিকে এই তরুর বিরুদ্ধে এলাকায় নানাবিধ অপরাধমুলক কর্মকান্ডের শিকার নিরীহ মানুষ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি এসএম দীন ইসলামের শরনাপন্ন হওয়ায় এবং চেয়ারম্যান তার অপরাধী কর্মকান্ডের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় নতুন করে ফন্দি আটে তরু। একপর্যায়ে গত ২২ জুলাই বিএনপি-জামাতের অর্থায়নে চেয়ারম্যান দীন ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা তথ্য সাজিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এসব বিষয়ে তদন্তপূর্বক অপরাধ জগতের মুকুটবিহীন স¤্রাট অস্ত্রধারী কাজী তরিকুল ইসলাম তরুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি সহ এ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। কাজী তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: