দাউদকান্দিতে যুবলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / নাঙ্গলকোট / বিস্তারিত

দাউদকান্দিতে যুবলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

7 May 2017, 11:15:55

আল্ আমিন শাহেদ-হোমনা (কুমিল্লা)

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঠিক একমাসের মাথায় ফের প্রকাশ্য দিবালোকে আরো একটি নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন রাজন (৩৫) দিনদুপুরে দুর্বৃত্তের হাতে এ নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। সকালে উপজেলা সদরের বলদা খাল রাস্তার মোড়ে তাকে কুপিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে ও হাত-পায়ের রগ কেটে এ হত্যাকান্ড ঘটায় একদল সন্ত্রাসী।
নিহত যুবলীগ নেতা আমির হোসেন রাজন উপজেলার কাজিরকোনা গ্রামের দুলাল মুন্সির ছেলে। তিনি উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসাও করতেন। তবে পরিবারের অভিযোগ পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
এর আগে গত ১ এপ্রিল দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পেন্নায় গ্রামের আবু সাঈদ ও মো. আলীকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে থেতলে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। হাসপাতালে নেয়ার পর আবু সাঈদ মারা যায় এবং ৭ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবলীগ নেতা মো. আলী মারা যায়। এরা দু’জনই তিতাস উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হত্যার অন্যতম আসামী ছিলো।
এদিকে আমির হোসেন রাজনকে হত্যার ঘটনায় দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদ্যাপনের প্রস্ততি সভায় যোগ দিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমি হোসেন বিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে হেঁটে বলদা খাল রাস্তার মোড়ে পৌঁছামাত্র একদল অস্ত্রধারী দুর্বত্ত তাঁকে ঘিরে ফেলে। এসময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তখন এলোপাথারী কুপিয়ে ডান পা ও বাম হতটি কেটে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে ও পায়ের ও হাতের রগ কেটে ফেলে। এসময় আমিরের চিৎ্কার শুনে পথচারীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে থানার সমানে নিয়ে যায়। পরে দলীয় লোকজন সকাল ১১টার দিকে তাঁকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা আমিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গৌরীপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আল-আমিন মিয়াজী জানান, যুবলীগ নেতা আমির হোসেন রাজনের হাত-পায়ের রগ এবং হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত মাংস কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ায় এক সন্তানের জনক আমির গ্রামের বাড়ি ছেড়ে গৌরীপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় এক বছর আগে দাউদকান্দিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং গ্রামের বাড়ি কাজিরকোনায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘাতের পর তিনি ঢাকায় চলে যান। কিছুদিন পর আবার দাউদকান্দি ফিরে আসেন এবং যুবলীগের রাজনীতি শুরু করেন। এর পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসাও শুরু করেন এবং গৌরীপুরে চলে আসেন আমির। নিহতের বড় ভাই দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ভাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে বিধায় তার কিছু শত্রু রয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে নৃশংসভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো সে, অথচ তখন কিছুই হয়নি; আজ দলীয় সরকারের আমলেই আমার ভাইকে প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এসময় তাঁর ছোট ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান।
এদিকে এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ এলাকায় জানা যানি হলে চরমক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।’
উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হেলাল মাহমুদ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবে প্রকাশ্যে খুন-খারাবির ঘটনা ঘটলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়। এই খুনি-সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
দাউদকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমির হোসেন রাজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা প্রাথমিক তদন্তে জেনেছেন। খুনিদের ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ড নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: