দেড় ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

দেড় ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

13 October 2016, 9:40:01

মাত্র দেড় ঘণ্টায় উড়ালসড়কে রাজধানী ঢাকা থেকে যাওয়া যাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এমনই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, সেতু বিভাগের আওতায় এই উড়ালসড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। চলতি সপ্তাহে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন শিগগির বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে এ উড়ালসড়কের ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক আগে থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে চার লেন সড়ক। কিন্তু এতে দুর্ভোগ কমেনি। বিভিন্ন উৎসব, বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে এই পথে যানবাহনের চাপ বাড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। সে সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে আট থেকে ১০ ঘণ্টা লেগে যায়। অবশ্য অন্য সময় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় চট্টগ্রামে পৌঁছা সম্ভব।

সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু এ সড়ক যানবাহন বৃদ্ধির চাপ চার থেকে পাঁচ বছরের বেশি নিতে পারবে না বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এই প্রেক্ষাপটেই ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে জোর দেওয়া হয়। প্রথম এ উদ্যোগ নেয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তখন পরিকল্পনা ছিল, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে (সওজ) এই এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশ হবে এলিভেটেড বা মাটির ওপর এবং কিছু অংশ যাবে সমতল বা অ্যাট গ্রেড দিয়ে। কিন্তু পরবর্তীকালে সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করলে তেমন ফলোদয় হবে না। এ ছাড়া উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার জন্য এটি সময়োপযোগীও নয়। এর পরই পুরো সড়ক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সেতু বিভাগ থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের যুক্তি দেখিয়ে সম্প্রতি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এতে এলিভেটেড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের অনুমতি চাওয়া হয়। পরে চলতি সপ্তাহে ওই নথিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উড়ালসড়ক নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সারসংক্ষেপে বলা হয়, অ্যাট গ্রেড (সমতল) সড়কে অনেক ইন্টারসেকশন এবং সাইড রোড থাকে। তা ছাড়া বাজার এবং অন্যান্য স্থাপনার পাশ দিয়ে গাড়ি চলতে হয়। এর ফলে ধীরগতির যানবাহন প্রবেশের সুযোগ থাকায় গাড়ি কাক্সিক্ষত গতিতে ছুটতে পারে না। এ ছাড়া সমতল রোডে অধিক পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন। এ কারণে আবাদি/ফলদ জমিরও ক্ষতি হয়। শুধু তাই নয়, সমতল-জাতীয় সড়কের কারণে বাজার, মসজিদ, স্কুল, কবরস্থান বাড়ে। এতে নির্বিঘেœ গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। একই কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম উড়ালসড়ক নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেতু বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬’ উপস্থাপনকালে সেতু বিভাগের আওতায় উড়ালসড়ক নির্মাণের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীকালে আইনটি সংসদে পাস হলে আইনানুযায়ী এখন থেকে দেড় হাজার মিটার বা ততোধিক দৈর্ঘ্যরে উড়ালসড়ক নির্মাণের দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ওপর। সূত্র জানায়, এ কারণেই প্রথমে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথা সওজের থাকলেও পরে তা সেতু কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।

সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে ঢাকা-চট্টগ্রাম উড়ালসড়ক নির্মাণে ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনো হয়নি। বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। অন্যদিকে সওজের পক্ষ থেকে এক্সপ্রেসওয়ের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। তাই এখনো পর্যালোচনার বিষয় বাকি। আপাতত জোর দেওয়া হচ্ছে ফিজিবিলিটি স্টাডির ওপর।

সওজ জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে লাগবে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। তা ছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটি যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সিংহভাগ পণ্য আনা-নেওয়া হবে এ রুট দিয়ে। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটানের যানবাহনও এ রুটে যাতায়াত করতে পারবে। সমতল এবং উড়াল উভয় পথ মিলে মোট ২৩২ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব উল আলম আমাদের সময়কে বলেন, বছরখানেক আগেই ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। কিছু অংশ গ্রেড (সমতল) এবং কিছু হবে এলিভেটেড (উড়াল পথ)। আগামী ১৬ অক্টোবর ডিটেইল ডিজাইনের রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। আশা করছি, ২০১৮ থেকে ৪ বছর অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলবে। ২০২৩ সালের মধ্যে এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েকে সেতু বিভাগের এলিভেটেড করতে চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি জানা নেই। আমরা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।

সওজ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বর্তমান দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। প্রচলিত ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কপথটি ভারী যানবাহন পরিবহনে সম নয়। ওই পথে নির্মিত ব্রিজগুলোও সরু। ফলে একটি সম্পূর্ণ লোডেড কনটেইনার এ পথে চলতে পারে না। নানা ধরনের যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের নিরাপত্তাও যথেষ্ট নয়। তাই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর প্রস্তাবিত পথ হচ্ছে ঢাকা-দাউদকান্দি-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম। এটি হওয়ার কথা বিদ্যমান জাতীয় মহাসড়কের সমান্তরালে। ভূমি অধিগ্রহণসহ এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সড়কপথে যানবাহন বাড়ছে, যেগুলোর মাধ্যমে ৭০ শতাংশ যাত্রী এবং প্রায় ৬০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়। বাংলাদেশ রোড মাস্টারপ্ল্যানের (২০০৭) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হারে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৯ সালে তৈরি করা ট্রাফিক-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে এডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিদিন এ পথে ২০ থেকে ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ ট্রাক। ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে যানবাহনের সংখ্যা ৩৫ হাজারে উন্নীত হবে, যা ২০৩০ সাল শেষে ৬৬ হাজারে পৌঁছবে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েকে চার লেনে রূপান্তর করা হলেও এত বেশি যানবাহনের চাপ সামলাতে পারবে না। এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের আকাশ, রেল ও নৌপথে সংযোগ সড়ক রয়েছে। এ অবস্থায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: