ধর্ম যার যার উৎসব সবার-মুকুল মজুমদার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

ধর্ম যার যার উৎসব সবার-মুকুল মজুমদার

12 October 2016, 9:57:12

বাংলাদশেরে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবলো করার মত আমার সে সাহস নেই। আবার হয় তো তা আছে। আমি মুসলমি, আমি বাঙ্গালি। ইচ্ছে করলইে যেমন অন্য ধর্ম গ্রহণ করা আমার পে সম্ভব নয়, তেমনি ইচ্ছে করলেই দেশ ত্যাগ করাও আমার পে সম্ভব নয়। সবচেয়ে সহজ ভাবে যেটা সম্ভব তা হলো আত্মত্যাগ। “ত্যাগ” দু”অরে একটি শব্দ যার তাৎপর্যও আমার পে ব্যাখ্যা করে শেষ করার মত নয়! আত্ম-হত্যাটার শুদ্ধ রুপ হিসেবে আমি আত্মত্যাগ বলে কছিু দোষ লুকানোর চেস্টা করে যেতে পারি।

এ লেখাটা যে কারণে লিখতে বসলাম তা লেখার পরে কোন স্বাধীন দেশে লেখকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে কিনা আমার তা জানা নেই, তবে আমাদরে দেশে হওয়ার জন্য যতেষ্ঠ কারণ থাকতে পারে।
আমি বলছি- “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এ প্রসঙ্গে কয়কেটি কথা। এখানে কোরান হাদীসরে ব্যাখ্যা টানবো না, নিজের চিস্তা চেতনা থেকে বলছি- কারণ যেটুকু পড়া লেখা করেছি ঐটুকু দিয়ে নিজের ভালো মন্দ বুঝার যতেষ্ঠ জ্ঞানবোধ উপরওয়ালা দিয়েছেন। ব্যক্তি বিশেষ নয় আপনার কাছেই প্রশ্ন: ঈদ শব্দের অর্থ কি? হয়তো থমকে গেলেন এত সহজ প্রশ্ন কোন জ্ঞাণী ব্যক্তি করে না! গাধা না হলে কি এত সহজ প্রশ্ন করে কেউ? ঈদ মোবারক হল আরবি শব্দ, এটি মুসলিমদের একটি ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য, যেটি আমরা ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আজহায় পরস্পরকে বলে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলে থাকি। ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ বা উদযাপন। আর মোবারক শব্দরে অর্থ কল্যাণময়। সুতরাং ঈদ মোবারকের অর্থ হল ঈদ বা আনন্দ উদযাপন কল্যাণময় হোক। আবার অন্য কারো ভাষ্যে- ঈদ মোবারক মানে হলো বরকতময় হোক আপনার ঈদ। এটি কোন অনসৈলামকি শব্দ নয়। মোবারক শব্দটি আরবী ভাষায় শুভেচ্ছা জানানোর জন্য একটি সর্বোত্তম শব্দ। যেমন পবত্রি রমযানের দিবসকে আমরা বলি রমযানুল মোবারক।

অপর দিকে হিন্দুদের বারো মাসে তের পর্বণ কথাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য প্রচলিত থাকলেও শারদীয়া বা দূর্গা পূজাই বেশি আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে পালন করে থাকে। ওদের মতে দেবী দূর্গা হলেন শক্তির রূপ, তিনি পরব্রহ্ম। অনান্য দেব দেবী মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর বিভিন্ন রূপের প্রকাশ মাত্র। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দেবী দূর্গা ‘দূর্গতিনাশিনী’ বা সকল দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিনী বলে তাদের ধারণা।

দূর্গা পূজা কবে, কখন, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল তা জানা যায়নি। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল বলে তথ্য মিলে। সিন্ধু সভ্যতায় দেবীমাতা, ত্রিমস্তক দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল। তবে কৃত্তিবাসের রামায়নে আছে, শ্রী রাম চন্দ্র কালিদহ সাগর (বগুড়ার) থেকে ১০১ টি নীল পদ্ম সংগ্রহ করে সাগর কূলে বসে বসস্ত কালে সীতা উদ্ধারের জন্য সর্বপ্রথম শক্তি তথা দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছিলেন।

আর এ বিষয়গুলো হিন্দু ধর্মে জায়েজ তাকলেও মুসলিম ধর্মে এসব দেবদেবী পূজা সর্ম্পূণ হারাম এবং যা মুসলিমদের পক্ষে নীতি বিরোধী কাজ। এই মূর্তী পূজাই যদি মুসলমানরা সমর্থন করবে, তবে কেনো যুগে যুগে নবী রাসুলের আগমন ঘটবে!
এখন বলার জন্য যে বিষয়টি তুলে আনার চেস্টা করছি তা হলো- আপনারা যারা আমাদের মুসলিমদের ঘাড়ে পূজার উৎসব চাপিয়ে দেয়ার চেস্টা করছেন আবার হিন্দু মুসলিম মিলে পূজার গানও গাইছেন “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- এইতো গেলো রমজানে কি কোন হিন্দু মুসলিমদের সাথে রোজা রেখেছিলেন? কেউ কি আমাদের মুসলিমদের মসজিদ প্রাঙ্গনে এসে ঈদের নামাজ পড়েছিলেন? তার পর গেলো কোরবানির ঈদ এতে কি কেউ গরু কোরবানি করেছিলেন? এ ঈদে কয়জন হিন্দু গরুর গোস্ত দিয়ে চালের রুটি খেয়েছিলেন? যদি তাই না হয় তা হলে আপনাকে বলছি- হ্যাঁ আপনাকে বলছি যিনি ৯৫ ভাগ মুসলিমের দেশে মুসলিম হয়ে পূজা মন্ডপের সামনে দাঁিড়য়ে বলছেন “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” আপনার ঈমানের জোর র্দূবল হয়ে এসেছে, পারলে ঈমান মজবুত করার চেস্টা করুন। না হলে যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়বেন।

 

আমি মুসলিম, আমার যতষ্ঠে জ্ঞাণ রয়েছে নিজের ভালো নিজে বুঝার জন্য। আপনি আমাকে ভুল ঠিকানা দেখালেই আমি সেই পথে হাটছিনা। হিন্দুরা যেমন দলে বলে এসে গরু জবাই করে গোস্ত খাওয়ায় মত্ত্ব হতে পারবে না, তেমনি আমিও দল বল নিয়ে পূজা মন্ডপে গিয়ে দূর্গা বিষর্যনের সাথে সাথে নিজের অস্তিত্বকে বিষর্যণ দিতে পারবো না। আপনার মন চায়তো আপনি দিন। আমি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রাথনা করবো আমার মঙ্গলের জন্য। “দূর্গা মা” বলে কোন মাটির মূর্তির কাছে নয়। এই মূর্তি পূজা করার জন্য যুগে যুগে ইসলামের ইতিহাস সৃষ্টি হয়নি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: