নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ-চিন সম্পর্ক | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ-চিন সম্পর্ক

15 October 2016, 9:24:17

২৭ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর # বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা # ঢাকার আতিথেয়তায় সিক্ত চিনের প্রেসিডেন্ট # ২০১৭ সালকে বন্ধুত্বের বছর ঘোষণা # কর্ণফুলি টানেল নির্মাণসহ ৬ প্রকল্পের উদ্বোধন # আজ ঢাকা ত্যাগ।

 

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থেকে দেশ দুটি এখন নতুন করে পারস্পরিক সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ে ২৭টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিগুলোর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ১৫টি এবং অন্য পর্যায়ে হয়েছে ১২টি। এর মধ্যে চিন থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেওয়ার চুক্তিও রয়েছে। গতকাল শুক্রবার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থি’তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের শীর্ষ নেতা ৬টি প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। শি জিনপিং ও শেখ হাসিনা যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন সেগুলো হলোÑ চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে একাধিক লেনের টানেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট স্থাপন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার, পটুয়াখালীর পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট থারমাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াটের থারমাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। এর বাইরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৩টি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এ চুক্তির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবেন।
গতকাল সই হওয়া উল্লেখযোগ্য সমঝোতা স্মারকগুলো হলোÑ দুর্যোগ মোকাবিলা ও হ্রাসকরণ, সেতু নির্মাণ, বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা সহযোগিতা, বাংলাদেশ-চিন মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই, সামুদ্রিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা, ইনফরমেশন সিল্ক রোড, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সহযোগিতা। এছাড়া সই হওয়া দুটি রূপরেখা চুক্তি হলো কর্ণফুলী নদীর তলদেশে একাধিক লেনের টানেল নির্মাণ ও দাশেরকান্দিতে সাগরকেন্দ্রিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এ দুটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চারটি পৃথক ঋণচুক্তিও সম্পাদিত হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা সহযোগিতা চুক্তিও সই হয়েছে। সই হওয়া চারটি অর্থনৈতিক চুক্তি হলোÑ পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, চিনের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্প, ব্রডকাস্টিং লাইসেন্স প্রটোকল চুক্তি। এ ছাড়া দ্বিস্তরের পাইপলাইন সমৃদ্ধ পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং ডিপিডিসি এলাকা ও পাঁচটি টেলিভিশন স্টেশনের মধ্যে পাওয়ার সিস্টেম বর্ধিতকরণ চুক্তি।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশে দুদিনের আনুষ্ঠানিক সফরে গতকাল সকালে ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরের কাছে লা মেরিডিয়ান হোটেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সারা দিন শি জিনপিং অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। হোটেল থেকে তিনি বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চিনের পক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা তাদের সহায়তা করেন।
বৈঠক শেষে দুই দেশের দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দেন। তারা বলেন, এখন থেকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি এখন পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়াবেন তারা। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারস্পরিক কার্যক্রম হাতে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। ওই বিবৃতিতে তাদের মধ্যকার বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। দুই নেতাই মনে করছেন, সম্পন্ন হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও প্রসারিত হবে।
শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি খুব খুশি ছয় বছর পর বাংলাদেশের মতো একটা সুন্দর দেশ সফর করতে পেরেছি। চিন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার। ২০১৭ সাল হবে চিন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের বছর। আমি মনে করি, এই সফর সামগ্রিকভাবে দুই দেশের অগ্রযাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে নানা চুক্তি হয়েছে। কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, সমুদ্র বিষয়ে ও সন্ত্রাস মোকাবিলা, যৌথভাবে বিসিআইএসএম-এফসি, অর্থনৈতিক করিডর ও যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একযোগে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। চিন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন ঐতিহাসিক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে। চিন বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে ও অংশীদার হিসেবে বিশ্বাস এবং সমর্থন নিয়ে কাজ করে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমাদের উভয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ‘একচিন নীতি’তে আমাদের জোরালো সমর্থন দিয়েছি। আমরা খুবই ঘনিষ্ঠভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং কৃষি খাতে একযোগে কাজ করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এখানে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সাক্ষী হলাম। এই চুক্তিগুলো হয়েছে ব্যবসা, বিনিয়োগ, সমুদ্র অর্থনীতি, বিসিআইএমইসি, সড়ক ও সেতু, রেলপথ, বিদ্যুৎ, সমুদ্র, আইসিটি, শিল্প উৎপাদন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতার উন্নয়ন সংক্রান্ত।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা ছয়টি প্রকল্পও উদ্বোধন করেছি। এই চুক্তি ও প্রকল্পগুলো উদ্বোধনের পর দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া উচ্চপর্যায়ে পৌঁছবে। আজকে আমরা ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি। এই কৌশলগত অংশীদারত্বের অধীনে আমরা দুই দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছি। আমাদের এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উপনীত হওয়া। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনামুক্ত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব।
এর আগে বিকাল ৩টায় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। এরপর কার্যালয়ের শিমুল কক্ষে একান্ত বৈঠক করেন দুই নেতা। এ ছাড়া দুই দেশের প্রতিনিধি দল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়।
এর আগে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এগুলোর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। দুই দেশের সম্পর্কের বহুমাত্রিকতা আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে, ব্যাপ্তি বাড়বে। বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এখন কৌশলগত সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আমরা সম্পর্কের নতুন অবয়ব দেখব।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর শি জিনপিং হোটেল লা মেরিডিয়ানে ফিরে যান। সেখানে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর বিকাল পাঁচটার কিছু সময় পর চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বৈঠকে উল্লেখ করেছেন, চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় স্থাপিত হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে অভূতপূর্ব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। চিন সব সময় বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। খালেদা জিয়া আশা করেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যক্রম, বিশেষ করে উন্নয়নকাজে চিনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং পাশে থাকবে। খালেদা জিয়া আশা করেন ভূরাজনীতিতে চিন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
রাত ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শি জিনপিং বঙ্গভবনে যান। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চিনা প্রেসিডেন্টের কাছে বর্তমান বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা হ্রাসে চিনের বাজারে বাংলাদেশের সব পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার কামনা করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘বর্তমান বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা হ্রাসে আমরা চিনের বাজারে বাংলাদেশের সব পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের অনুমতির জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে চিন তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, চিনে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়টি তার দেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বৈঠকের পর শি জিনপিং তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন। আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজ শেষে রাত ১০টার দিকে শি জিনপিং ফিরে যান হোটেলে।
এর আগে শি জিনপিংকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিশেষ বিমান ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ১১টা ৩৬ মিনিটে। তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের আকাশ সীমায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবাহিনীর ৪টি জেট বিমান অভ্যর্থনা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসে। ১২টা ২ মিনিটে বিমান থেকে নেমে এলে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। লাল পাড়ের সবুজ শাড়ি পরা একটি শিশু ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পর লালগালিচায় হেঁটে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান। একুশবার তোপধ্বনির পর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল সফররত প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, চিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিনের প্রেসিডেন্ট রওনা হন বিমানবন্দর সড়কের হোটেল লা মেরিডিয়ানের পথে। এই সফরে সেখানেই অবস্থান করেন তিনি। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বড় ব্যানারে লেখা ছিলÑ বাংলাদেশে স্বাগতম হে মহান অতিথি।
আজ শনিবার সকাল ৯টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাবেন চিনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি একটি চারাগাছও রোপণ করবেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবেন। ৩০ বছর পর এটিই প্রথম কোনো চিনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর। অবশ্য ২০১০ সালে শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তখন তিনি চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: