নবীগঞ্জের ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও অলৌকিক ‘ফুলতলী ঝরনা’ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নবীগঞ্জের ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও অলৌকিক ‘ফুলতলী ঝরনা’

22 November 2016, 10:33:44

শাহ মনসুর আলী নোমান, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে ফিরে:
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ফুলতলী বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী, সুপ্রাচীন ‘ফুলতলী ঝরনা’। এ ঝরনা কে নিয়ে এলাকায় অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। সরেজমিনে এ ঝরনা পরিদর্শনকালে সাক্ষাৎ হয় স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল্লাহ (৫৮) এর সাথে। তিনি জানান আজ থেকে প্রায় ২/৩ শত বছর পূর্বে স্থানীয় ছয় মৌজার লোকজন, নবীগঞ্জ, বাহুবল ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অধিবাসীরা বিশুদ্ধ পানির অভাব এ ঝরনা দিয়েই পূরণ করতেন। বিভিন্ন জটির রোগ মুক্তির উদ্দেশ্যে এ ঝরনার পানি পান করলে রোগী আরোগ্য লাভ করতেন। তিনি পূর্বেকার কিছু জনশ্রুতি ও ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় লোকজনের বিবাহ কিংবা যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানেরপূর্বে ঝরনারপাথরের কাছে এসে থালা, বাসন, বাটি, গ্লাস ও চামচ এর সংখ্যা বললে পরদিন উল্লেখিত পরিমাণ স্বর্ণের থালা, বাসন, গ্লাস, বাটি ও চামচ ঝরনায় ভেসে উঠত। আবার অনুষ্ঠান শেষ হবার পর থালা, বাসন, বাটি, গ্লাস ও চামচ পরিষ্কার করে ঝরনার পানিতে রেখে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে তা অদৃশ্য হয়ে যেত। এ রেওয়াজ দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় প্রচলিত ছিল। কিন্তু একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক আয়া লোভের বশীর্ভূত হয়ে একটি স্বর্ণের বাটি রেখে দেয়, এ ঘটনার পর থেকে ঝরনাতে আর এগুলো ভাসে না। তিনি এ গল্প উনার নানা ও দাদার কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ও গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুর রহমান মুকুল জানান, তিনিও এ ধরণের কাহিনী উনার পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে শুনেছেন, তবে এর কোন দালিলিক ভিত্তি আছে বলে উনার জানা নেই।
ঢাকা সিলেট মহাসড়ক নির্মিত হওয়ার অনেক পূর্বে পায়ে হেঁটে ছাত্র-ছাত্রীরা তৎকালীন সময়ে এলাকার একমাত্র দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করত এবং ঐ ঝরনার পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাত। এখনও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও অলৌকিক এই ঝরনা দেখার জন্য আসেন। ঢাকা সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তর পূর্বদিকে এই ঐতিহ্যবাহী ঝরনাটির অবস্থান।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: