নাঙ্গলকোট’র কৃতি সন্তান কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপার্থী | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নাঙ্গলকোট’র কৃতি সন্তান কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপার্থী

7 November 2016, 10:39:19

এইচ এম মহিউদ্দিন , সিনিয়র প্রতিনিধি-

কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের নারায়নকোট গ্রামের মৃত মোঃ উজির আলী মজুমদারের সন্তান এম এ করিম মজুমদার (আবদুল করিম মজুমদার)।
এম এ করিম মজুমদার আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি এইচ এম মহিউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ আলোচনায় আলোকপাত করেছেন তার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে । তিনি বলেছেন, শৈশবে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ড আমাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হতো। আমার হৃদয় আন্দোলিত হতো। কৈশোরের সোনালী সময়ে আমি রাজনীতির উত্যপ্ত পথে জড়িয়ে পড়ি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃপ্ত প্রত্যয়ে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজও অবিচল কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৮৩ সনে লাকসাম- চৌদ্দগ্রামের অংশ বিশেষ নিয়ে নতুন ভাবে নাঙ্গলকোট উপজেলা গঠিত হয়।

 

এছাড়া নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগসহ দলের বিভিন্ন অংগ সংগঠনকে সু-সংগঠিত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি।3

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১৯৮৩ সনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে পড়া অবস্থায় কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের নির্দেশে আমি এলাকায় গিয়ে ২/৩ জন পরিচিত নেতার সাথে আলোচনা করে সাবেক সংসদ মরহুম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠন করি। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি, পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব মরহুম জাকারিয়া চৌধুরীকে নিয়ে ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীসহ উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করি। নতুন উপজেলা হওয়ায় ও সাংগঠনিক কাঠামো না থাকার কারণে আমি প্রতিটি কমিটি গঠন করতে থাকি। বিভিন্ন নামে ক্লাব গঠন করে নতুন প্রজন্মকে সংগঠিত করি। আমার উপজেলায় তখন কোন কলেজ না থাকার কারণে প্রতিটি স্কুল, মাদ্রাসায় মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে গিয়ে ছাত্রলীগকে সু-সংগঠিত করতে থাকি। যার ফলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আমাদের সংগঠনের এক ঝাঁক কর্মী বের হয়ে আসে। আমি দীর্ঘ ছাত্র- রাজনীতির মাধ্যমে অসংখ্য চরিত্রবান নেতাকর্মী তৈরি করি। যারা আজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রশাসন থেকে শুরু করে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের আসনে সু- প্রতিষ্ঠিত।5

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শিক্ষা জীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে এল.এল.বি সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকে সামাজিক কর্মকান্ডে থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষা জিবনে ছাত্রলীগের একজন কর্নধার হিসেবে সংগঠনের কাজ করতে করতে দলের একজন্য ত্যাগীনেতা ও একজন সফল সংগঠক হিসেবে দলের কর্মীদের মাঝে বেশ পরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট উপজেলার আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগ (২০০৬ইং) এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (১৯৯৭ইং), নাঙ্গলকোট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক (১৯৯৬ইং), কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সদস্য (১৯৯১ইং), নাঙ্গলকোট ছাত্রলীগের সভাপতি (১৯৯২ইং), নাঙ্গলকোট উপজেলার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৭ইং), সদস্য সচিব নাঙ্গলকোট ছাত্রলীগের (১৯৮৩ইং), সভাপতি জোড্ডা ইউনিয়ন শাখার (১৯৮৩ইং), সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শর্শদি হাই স্কুল শাখা (১৯৮১ইং, ফেনী), সাধারণ সম্পাদক মন্তলী হাই স্কুল শাখা (১৯৭৯ইং, নাঙ্গলকোট)। এছাড়া সামাজিক অবস্থান থেকে জনগনের ভোটে মনোনীত হয়ে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ (২০০৯ইং), সাবেক চেয়ারম্যান জোড্ডা ইউনিয়ন পরিষদ (১৯৯৭ইং), সভাপতি, জোড্ডা বাজার পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় (নাঙ্গলকোট), সভাপতি, গভর্নিং বডি, মন্তলী হাই স্কুল এন্ড কলেজ, নাঙ্গলকোট। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সমবায় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ও পরিচালনাকারী হিসেবে সামাজিক কর্মকান্ডে বেশ অবদানের দাবীদার।6

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রাজনৈতিক আন্দোলন- সংগ্রামে কারাবরণ ও নির্যাতনঃ
১৯৮৪ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে সেলিম- দেলোয়ার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ছাত্র ধর্মঘটের মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় কুমিল্লা কান্দিরপাড় থেকে গ্রেফতার হন।
১৯৮৬ সালে জামায়াত-শিবির কর্তৃক আক্রমনের শিকার হয়ে তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে উপজেলা ঘেরাও আন্দোলন গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন মামলায় জড়িয়ে থাকেন।
১৯৯০ সালে ঢাকা ঘেরাও আন্দোলনে পল্টন থেকে গ্রেফতার হন। ১৯৯২ সনে ভারতের বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শান্তি- সম্প্রীতি মিছিল বের করলে বিএনপি কর্তৃক আক্রান্ত হন ও মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়। ৮০ দশক থেকে জেলা ও কেন্দ্রের সকল আন্দোলন- সংগ্রামের কর্মসূচীতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
স্কুল জীবন থেকে মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্বেও সার্বক্ষণিক রাজনীতি ও বিভিন্ন মামলা- হামলার কারণে আমার শিক্ষা জীবন বাধাগ্রস্থ হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও সোনার মানুষ গড়ার জন্য আমি স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্বেও কোন নূন্যতম অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। অসচ্ছল পরিবারের জন্ম নিয়েও টাকার মোহে আকৃষ্ট হইনি। নিজের ও পরিবাত্রেত্র- স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ভাবিনি। ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়ে শত কষ্টে থেকেও কোন দিন অন্যায়ের পথে পা বাড়াইনি। শত প্রতিকূলতা ও প্রলোভনে আওয়ামী সংগ্রামী কাফেলা থেকে বিচ্যুত হইনি। গন আন্দোলন- সংগ্রামে মুজিব রনাঙ্গনের সাহসী মিছিলে পথ চলেছি অবিরত। দল, কর্মী ও মানুষের কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি একজন নেতার চেয়েও দলে একজন সাহসী ও দক্ষ সংগঠক অত্যন্ত প্রয়োজন। সব সময় মনে রাখি ‘‘একজন সৎ দেশ প্রেমিক মানুষই পারে সমাজ ব্যবস্থাকে বদলে দিতে’’। আমি মনে করি একটি দল দৃশ্যমান নয়। একজন মানুষের চরিত্র ও তার কর্মকান্ডই দৃশ্যমান । একজন আদর্শমান মানুষকে দেখে জনগন অনুপ্রাণিত হয়, দলকে ভালবাসে ও অনুসারী হয়। বঙ্গবন্ধুর চরিত্র, আদর্শ ও নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়ে ছিনিয়ে এনেছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।
আমার ছাত্র রাজনীতির সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় প্রতি বছরেই ‘‘প্রশিক্ষণ কর্মশালা’’ করতাম। বিভিন্ন ধর্ম- দর্শন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তুলনামূলক রাজনীতি এবং রাজনৈতিক সংজ্ঞা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর্মীবাহিনীকে রাজনৈতিক ভাবে শিক্ষিত ও সুসংগঠিত করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতাম। কর্মীদের রাজনৈতিক চেতনা বিকাশে বই- পুস্তক কিনে সরবরাহ করতাম। আমার সময় প্রায় মাদ্রাসায় ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করি। যারা আজকে বিভিন্ন স্তর ও উপজেলা আওয়ামী ওলামালীগ কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমার উপজেলায় সংগঠিত রাজনীতির কারণে আজও জামায়াত- শিবির মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
পরিশেষে, সুন্দর আগামীর জন্য, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয়ে, আগামী দিনের সোনালী মিছিলে আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত সৈনিক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।
তিনি বর্তমানে নগরীর বাদুরতলা ডাক্তারপাড়ার সিলভার আফিয়া গার্ডেনের ৬ষ্ঠ তলা ও ঢাকার উত্তরার ‘আফরোজা ভিলায় বসবাস করেন। তিনি ১৯৬৮ সালের ২৬ অক্টোবর নারায়নকোট গ্রামে জম্ম গ্রহন করেন।

 

সাক্ষাৎকারটি নেন দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকার সিনিয়র রির্পোটার এইচ এম মহিউদ্দিন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: