শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

নাঙ্গলকোটের একমাত্র নদী মৃত্যুর কোলে! – বাপ্পি মজুমদার ইউনুস

১২ মে ২০১৮, ৯:২৭:৪৭

ডাকাতিয়া একটি বড় নদী। এটি সদর দক্ষিন ও লাকসাম বাগমরা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট ইউনিয়নের মধ্যে হয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনাকাপৈত ইউনিয়নের দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফেনী মহুরী নদীর সাথে মিশেছে। বন্যার পানি নিস্খকাশনে নদীর গুরুত্ব অপরীসিম। সুষ্ণ মৌসুমী নদীর তলায় প্রচুর পরিমানে ফসল উৎপাদন হয়। অত্র এলাকার মানুষের প্রায় ৫০ ভাগ মাছের চাহিদা এই নদী থেকে মিঠানো হয়। নদীর মধ্যে বাধ দিয়ে কৃষকরা পানির সেচের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে ফসল উৎপাদন করতে পারে।

একসময় ডাকাতিয়া নদীর উপর দিয়ে বরিশাল, ভোলা, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মালামাল পরিবহন করা হতো। নদীর বুকে পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। নদী বন্দর চাঁদপুর থেকে মালামাল নিয়ে নৌকাগুলো বয়ে বেড়াতো হাজীগঞ্জ,শাহরাস্তি, মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রামসহ এ অঞ্চলের প্রত্যন্ত হাটবাজারগুলোতে। পাট বোঝাই নৌকাগুলো চৌমুহনীর ডেল্টা জুটমিল, হাজীগঞ্জের হামিদিয়া জুটমিলসহ বিভিন্ন পাটকলকে নিরন্তর প্রাণ জুগিয়েছে। আর্শিবাদ ছিল এ অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবনে। কিন্তু ডাকাতিয়া এখন মরা নদী। চাঁদপুর ২০০ মিটার চওড়া ডাকাতিয়া নদ এখন ৫০ মিটারের সরু খাল। আবার কোথাও কোথাও এর প্রস্থ ২০-৩০ মিটারে এসে ঠেকেছে। চাঁদপুর শহরের ১০ নম্বর ঘাট থেকে বাগাদী রোড পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার শুধু পাড়ই নয়, ডাকাতিয়ার বক্ষও দখল হয়ে গেছে এরই মধ্যে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। দিন দিন হয়তো এই মহান নদীটি হারিয়ে ফেলবে তার সৌন্দয্যে তার লিলাভূমি।

কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী দখল ও দূষণে ধীরে ধীরে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে নদীনির্ভর সেচ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নদীটি দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ও পরিকল্পনামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরে  আবেদন জানানো হয়েছে। আর এ নদী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে নাঙ্গলকোট জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ নামের বৃহৎ এ সংগঠনটি। উত্তর বাগমারা ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর পাড় কৌশলে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর পাড়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী অটো রাইস মিল ও ইটের ভাটা স্থাপন করে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করছে। রাইস মিলের দূষিত বর্জ্য নদীতে ফেলে ক্রমে নদীর অংশবিশেষ ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদী এক সময় জেলার সদর দক্ষিণ, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর কৃষি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু নদীটি দিনে দিনে প্রভাবশালীদের কবলে পড়ে বিলীন হতে চলেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার সভাপতি ডা. মো. মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘকাল খনন বা সংস্কার না হওয়ায় নদীটির গভীরতা কমে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে, এ সুযোগে নদীপাড় অনেকের দখলেও চলে যাচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি খনন-সংস্কার প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক অাহবায়ক বলেন, আমরা প্রথম থেকে এ নদী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি আর গত তিন বছর যাবৎ পত্র পত্রিকায় নিবন্ধন লিখে যাচ্ছি আর বিভিন্ন সরকারী মহলে আবেদন করে যাচ্ছি কিন্তু আমরা এর কোন পতিকার পাইনি এখনো।

 

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস
সম্পাদক
দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: