শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

নাঙ্গলকোটের বকুলের ৬জনের সংসার চলছে দর্জির কাজ করে!

৭ মে ২০১৮, ১০:৪৯:৩৫

জামাল উদ্দিন স্বপন•
মহিলাদের সেলাই জাতীয় সকল ধরণের জামা-কাপড় সেলাই করে দীর্ঘদিন সংসার চালাচ্ছেন বকুল আক্তার (৩০)। বাবা-মা শখ করে ছোট বেলায় নিশ্চিতপুর গ্রামের নুরুল হকের ছেলে কামাল হোসেনের কাছে বিয়ে দেয়। এত ছোট বয়সে বিয়ে দিলেও বিয়ে কি,তা বুঝতেন না বকুল আক্তার। যেহেতু তার বয়সটা ছিল পুতুল খেলার বয়স। বিয়ের পরের বছর কোল জুড়ে আসে মেয়ে কুলসুম আক্তার।

যে বর্তমানে ১৯ বছরের বালিকা। যদিও কুলসুমকে বিয়ে দেওয়ার পর (বকুলের) নাতিও জন্ম নেয়। বর্তমানে মেয়ে, মেয়ের স্বামী, মেয়ের ঘরে নাতি, বৃদ্ধা মা সাফিয়া বেগম (৭৮) ও বকুলসহ ৬জনের সংসারের গ্লানি টানতে হচ্ছে তার একা। সংসার টানতে গিয়ে নিয়মিত দেওয়া হয় না চট্টগ্রাম শহরের কাট্টলীর বাসা ভাড়া ২ হাজার ৩ শত টাকা। নিয়মিত কেনা হয় না বৃদ্ধা মা সাফিয়ার ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম। অন্যদিকে স্বামী কামাল হোসেনও চাপ দিচ্ছে মামলা তুলে নেয়ার জন্য। হুমকি ধমকি আর ভবিষ্যত জীবন অনিশ্চিত হওয়ায় বেকায়দায় ও টেনশনে আছেন বকুল। ৫ মে শনিবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট রেলষ্টেশন এলাকায় চট্টলা ট্টেনের জন্য অপেক্ষারত বকুলের সাথে দেখা হয়।

সাংবাদিক পরিচয় দিলেও মুখ ফুটে বলতে থাকে জীবনের ফেলে আসা সাদা রং মিশানো কথাগুলো। বকুলের বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের দায়েমছাতি বাজার সংলগ্ন খিলপাড়ায়। ৫ ভাই ২ বোনের সবার ছোট বকুলকে মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবা মা কৃষক কামাল হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের ১৭ মাসের মাথায় কামাল হোসেন নোয়াখালী জেলায় আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের দীর্ঘ ১৭ বছর বকুল আক্তার অন্য সতীনও সংসারকে টিকিয়ে রাখতে চাইলেও স্বামী কামাল হোসেনের মনগড়াও দুষ্টুমির ছলে স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হন বকুল। এক পর্যায়ে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। বাঁচার জন্য নাঙ্গলকোট থানায়

একটি জিডি করলেও স্বামীর পক্ষের লোকদের নানান হুমকি ধমকি সর্বদা লেগেই আছে। অন্যদিকে ৬জনের সংসারকে টেনে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। মেয়েকে বিয়ে দিলেও পরিবারে পুরুষ মানুষ না থাকায় মেয়ে ও মেয়ের স্বামীকে নিজ বাসায় রেখে দেন। বর্তমানে মেয়েটি ছাড়াও বকুলের আড়াই বছরের রাকিব নামে একটি ছেলে রয়েছে। স্বামীর সাথে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে যোগাযোগ নেই তার। তবে বকুল জানিয়েছেন স্বামীকে তিনি মনে প্রাণে ভালবাসতেন। আরেকটি বিয়ে করার পরও সর্বদা মিলেমিশে থাকতে চেয়েছেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: