নাঙ্গলকোটের বজলুর সাথে কিছুক্ষণ – এস এম আবুল বাশার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নাঙ্গলকোটের বজলুর সাথে কিছুক্ষণ – এস এম আবুল বাশার

16 January 2017, 10:46:48

তারিখটা ছিল ১০ জানুয়ারী রোজ মঙ্গলবার সকাল দশ টা। আমার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চেয়ারে বসলাম মাত্র। হঠাৎ দেখতে পেলাম মাষ্টার বজলুর রহমান সাহেবকে। সাহেব বললাম এই কারণেই যে পাকিস্তান আমলে নাঙ্গলকোট বাজারে যে কয়েকজন ব্যবসায়ী সাহস ও ধৈর্য্যের সাথে ব্যবসা করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন বজলুর রহমান। তাকে সেই সময়ের মানুষেরা সম্মানের সহিত সাহেব বলে ডাকতেন। সেই মানুষটিকে দেখে আমার মনটা কেমন যেন আতঁকে উঠে, কারন তিনি ও আমি পাশাপাশি থেকে নাঙ্গলকোট পশ্চিম বাজারে দীর্ঘদিন ব্যবসা করে আসছিলাম। সেই সুবাদে আমার একান্ত ঘনিষ্ঠতা জন্ম নেয়, আমি নাঙ্গলকোটে ব্যবসা শুরু করি দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭৯ সনে। নাঙ্গলকোট তখন লাকসাম থানার অধীনে ছিল। তখন থেকে মাষ্টার বজলুর রহমানের সাথে আমার নিবিড় ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠে। একেক সময় তিনি আমি এক সাথ হয়ে আড্ডা মারতাম, সেই সাথে যোগ দিতেন দক্ষিণ বাজারের আব্দুর রহিম, আব্দুল লতিফ, জাকের হোসেন, আমার এক বড় ভাই সাইদুল হক, বাতুপাড়ার মাষ্টার ফজলুর রহমান, তারই ছোট ভাই হাফেজ আব্দুর রশিদ। এই ছিল আমাদের আড্ডার সহযোগী। তার পর আমরা আমাদের যার যার সাংসারিক ঝায়-ঝামেলা নিয়ে আলাপ আলোচনা সেই সাথে তর্ক বিতর্ক চলত তার পরে চলত চায়ের আসর এর পর যার যেমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে যেতেন, আমাদের পূর্বের কয়েক জন মুরুব্বী শ্রেণির ব্যবসায়ী তারা ছিলেন হাসানুজ্জামান খান সাহেব, তার ছোট ভাই হাজী আলী আহমদ সাহেব, মাস্টার আবদুল হাকিম সাহেব, হাজ্বি আফছার উদ্দিন, হাজ্বি সুরুজ মিয়া এবং হাজ্বি মোজ্জাফর আহমেদ সাহেব, হাজ্বি আলি মিয়া সাহেব, হাজ্বি আলী আকবর সাহেব, ডা: অজি উল্লাহ, হাপাঁনিয়ার বজলুর রহমান খান, আরো ছিলেন মসজিদের পিছনের মজুমদার বাড়ির আলি আশরাফ মজুমদার, হাজী তনু মিয়া, হাজ্বি বসু মিয়া, আব্দুল আজিজ মেকার, মাষ্টার আবুল বাশার, মুক্তিযুদ্ধা এহছাক কমান্ডার এবং মজুমদার বাড়ির আনু মিয়া সওদাগর, হাজ্বি আব্দুল গফুর।
এই মাস্টার বজলুর রহমান অনেক সময় আমাকে অথবা আমাদের অনেক ব্যবসায়ীকে সৎ উপদেশ দিতেন। সকলের মঙ্গল কামনা করতেন। তিনি তখন দায়েমছাতি হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ছিলেন। আফসারুল উলুম মাদ্রাসায়ও কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন। তার অনেক ছাত্র রয়েছে আজকে খুব ভালো ভালো অবস্থানে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-বিসিএস ক্যাডারসহ দেশের সর্বস্থানে। আজ র্দীঘ একটি বছর পর বজলুর রহমান মাস্টার আসলেন তার বাজারে তার ছেলেদের প্রতিষ্ঠানে। বড় ছেলে শাহজাহান পরিচালনা করেন শাহজাহান র্ফামেসী, আর মেঝু ছেলে জাহাঙ্গীর আলম পরিচালনা করেন জাহানারা র্ফামেসী। ছোট ছেলেটি বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের পৌরসভার দৌলতপুর আর দুইটি প্রতিষ্ঠানেই সুযোগমত সময় দিয়ে আসছে।
বজলুর রহমান সাহেব জীবিত থেকে ও মৃত প্রায় অবস্থায় ঘরে বসা। দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থতা নিয়ে দিনক্ষন কেটে যাচ্ছে। অথচ একটু পিছনের দিকে চিন্তা করলে বা গেলে দেখা যাবে যে,বজলুর রহমানের সেইসব দিনগুলো কতনা হাসি-তামাশা আর রহস্যতে তার সময় কাটতো। প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা, স্কুলে সময় দেয়া আর সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা আর সেই সাথে সময়ের ¯্রােতে বার্ধক্যে নিজেকে সপেঁ দেয়া লোকটি আজ মৃত্যুর পথযাত্রী। যখন আমি তার প্রতিষ্ঠানে যাই, আমাকে দেখেই দুচোখ জুড়ে কান্না করে উঠলো। আমার ও চোখ দুটো ভিজে আসলো। আমি তাকে সাহস দিলাম, অভয় দিলাম, আপনি কাঁদবেন না, মহান ¯্রষ্টার মেহেরবান আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন। তিনি আমার ডান হাত চেপে ধরলেন,বুকে টেনে নিলেন। গুনগুনিয়ে বিলাপের মত করে বাম হাতে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন- ’আশি বছর পেরিয়ে আসলাম। কবে চলে যাই প্রভুর নিকটে,ঠিক নাই। আমার জানাযায় কিন্তু তুমি যেতে হবে।’ আমি বললাম তোমার জানাযায় যাব। তবে তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে দেখো। জানাযার টেনশন এত দ্রুত করো না।
তার সাথে দেখা করে আসার পর নিজ প্রতিষ্ঠানে বসে বেশ কিছুক্ষণ বজলুর রহমান কে নিয়ে চিন্তা করলাম-এই বজলুর রহমানের সম্পদ-সম্পত্তি আর অর্থকড়ির অভাব ছিল না,এখনোও নেই। কিন্তু তিনি তো ¯্রষ্টার পথের পথিক। এসেছেন আর চলে যাবেন এটাই হয়তো নিয়তি,তবে তাকে যেন মহান প্রভু আরও কিছুদিন আমাদের মাঝে সুস্থ করে রাখে সেই কামনা করছি।
লেখক: এস এম আবুল বাশার, কবি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: