শিরোনাম

নাঙ্গলকোটের সৌন্দয্যের প্রতিক ডাকাতিয়া নদী

২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১২:৫২:০৫

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস

ডাকাতিয়া নদী নাঙ্গলকোট উপজেলা হতে প্রায় ০৬ কিলোমিটার দূরে  অবস্থিত।এটির নাঙ্গলকোট অংশটুকু মরা ডাকাতিয়া হিসাবে পরিচিত। এক সময়ের প্রমত্তা ডাকাতিয়া আজ জীর্নশীর্ন।নদীর বুকে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে।

ডাকাতিয়া একটি বড় নদী। এটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট ইউনিয়নের মধ্যে হয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনাকাপৈত ইউনিয়নের দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফেনী মহুরী নদীর সাথে মিশেছে। বন্যার পানি নিস্খকাশনে নদীর গুরুত্ব অপরীসিম। সুষ্ণ মৌসুমী নদীর তলায় প্রচুর পরিমানে ফসল উৎপাদন হয়। অত্র এলাকার মানুষের প্রায় ৫০ ভাগ মাছের চাহিদা এই নদী থেকে মিঠানো হয়। নদীর মধ্যে বাধ দিয়ে কৃষকরা পানির সেচের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে ফসল উৎপাদন করতে পারে।

 

একসময় ডাকাতিয়া নদীর উপর দিয়ে বরিশাল, ভোলা, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মালামাল পরিবহন করা হতো। নদীর বুকে পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। নদী বন্দর চাঁদপুর থেকে মালামাল নিয়ে নৌকাগুলো বয়ে বেড়াতো হাজীগঞ্জ,শাহরাস্তি, মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রামসহ এ অঞ্চলের প্রত্যন্ত হাটবাজারগুলোতে। পাট বোঝাই নৌকাগুলো চৌমুহনীর ডেল্টা জুটমিল, হাজীগঞ্জের হামিদিয়া জুটমিলসহ বিভিন্ন পাটকলকে নিরন্তর প্রাণ জুগিয়েছে। আর্শিবাদ ছিল এ অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবনে। কিন্তু ডাকাতিয়া এখন মরা নদী। চাঁদপুর ২০০ মিটার চওড়া ডাকাতিয়া নদ এখন ৫০ মিটারের সরু খাল। আবার কোথাও কোথাও এর প্রস্থ ২০-৩০ মিটারে এসে ঠেকেছে। চাঁদপুর শহরের ১০ নম্বর ঘাট থেকে বাগাদী রোড পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার শুধু পাড়ই নয়, ডাকাতিয়ার বক্ষও দখল হয়ে গেছে এরই মধ্যে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।

দিন দিন হয়তো এই নদীটি হারিয়ে ফেলবে তার সৌন্দয্যে।

লেখক ও সাংবাদিক
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: