নাঙ্গলকোটের হঠাৎ ডা. হুকিউ মাজার শরীফ! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!

নাঙ্গলকোটের হঠাৎ ডা. হুকিউ মাজার শরীফ!

14 October 2014, 4:24:20

dr. hukai dorbar sorif

 

 

 

 

 

 

 

 

আজিম উল্যাহ হানিফ:
বলা নেই,কওয়া নেই। হঠাৎ কবরের উপর পাকা তৈরি করে মাজার শরীফ নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কয়েক মাস আগে একটি কবরের উপর ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে পাকা তৈরি করে চারদিকে বেড়া আর উপরে টিনের চাউনি দিয়ে প্রচার করে আসছে একটি মহল,এই যে এটি মাজার শরীফ বলে। ঘটনার সত্যতা জানতে গত ঈদুল আযহার পরদিন ৭ অক্টোবর বিকালে ঘটনাস্থল কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের হিয়াজোড়া গ্রামে যাই। গিয়ে দেখি আসলে মানুষের মুখে শুনা অনেকটা মিল রয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়াতে মাজারের খেদমত করা এক মহিলার সাথে দেখা হয়। তিনি জানান এই মাজারে তিনি বেশ কিছু দিন যাবত কাজ করে আসছেন। মাজারের পীর উদিলা দরবেশ তাকে কিছু দিনের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। তার কাজ হচ্ছে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাজারের ভিতরে টিনের ঘরটিতে ঢুকে হারিকেন, লাইট কিংবা মোমবাতি সর্বোপরি আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা। সেই অনুযায়ী আজও তিনি মোমবাতি আলো জ্বালাতে এসেছেন। আমাদের দেখে তিনি মাজারের ঘরটিতে নিয়ে গেলেন। আমরা তাকে মোমবাতি জালিয়ে রুমটিতে রাতের বেলা আলোর ব্যবস্থা করতে দেখলাম। তারপর একটি ইটের উপর মোমবাতিটি রেখে, টিনের দরজা বন্ধ করে তালা লাগিয়ে রাস্তার উপর  এসে মাজার সম্পর্কে বলতে লাগলেন। আর যাকে কেন্দ্র করে মাজার নির্মাণ হয়েছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কৌতূহূল দেখালে তিনি অকপটে বলতে থাকেন আজ থেকে প্রায় দুইশত বছর আগে এই মহল্লায় (শাকতলী-হিয়াজোড়া-পাপাচৌ-পাটোয়ার গ্রামে) ডাক্তার হুকিউ নামে এক লোক বসবাস করতেন। তিনি নাকি ছিলেন আল্লাহওয়ালা। এটি যেমন ডাক্তার হুকিউ বিশ্বাস করতেন, তেমনি মানুষদের নিকটে দ্বীনের দাওয়াত দিতেন। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা ব্যবসা করতেন। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক যে রকম মৃত্যু হয়,তেমনি তার ও হলো। কিন্তু তারপর থেকে এত বছর তার নামে মাজার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ কিংবা ব্যবস্থা নেয়নি, এখন কে করলো? এমন প্রশ্নের জবাবে লোকটি আমাদের এই প্রতিবেদককে জানান তিনি কয়েকমাস আগে স্বপ্নে দেখাইছিলেন যে তার এক বিশ্বস্ত আত্মীয়ের মাধ্যমে, যেন তার কবরের উপর পাকা করে মাজার নির্মাণ করা হয়। এই কথাটি কতটুকু সত্য। তা জানতে মাজারের খাদিমদার বা দেখাশুনা যে করেন উদিলা দরবেশ তার সাথে আলাপ করি। তিনি বলেন, আমাকে তার আত্মীয় স্বজনদের স্বপ্নের কথা জানালে আমি তার পাকা ঘর তুলে মাজার এর প্রাথমিক অবস্থায় একটি টিনের ঘর তুলি, তাও এলাকার মানুষদের সাহায্য সহযোগিতায়। দায়িত্ব প্রাপ্ত মহিলাটি আরো বলেন ডা: হুকিউর (হুকিউ মাজারের নামে) নামে যে কোন সময়ে হাসঁ, মুরগি, ছাগলসহ যে কোন নিয়তে হালাল কিছু দান বা নিয়ত করলে তা নাকি ফলে (আগেও ফলতো)। মহিলাটি দাবি করে বলেন মাজার যার নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেই ডাক্তার হুকিউর নামে আমরা ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি আমার বাপ-চাচা কিংবা পূর্ব পুরুষরা তার নামে বর্তমান মাজারের একটু দনি পার্শ্বে রাস্তার উপর সিন্নি দিতো। বিভিন্ন মিলাদ মাহফিল হতো। কিন্তু এখন মাজার হওয়াতে মাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। মাজারটি হঠাৎ নির্মাণ হওয়ায় রাস্তার দিয়ে আগত লোকদের কৌতহূলের শেষ নেই বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। মাজার থেকে যেরকম তথ্য জানতে গিয়েছি, তবে যা তথ্য পেলাম তা নিয়ে ফেরার সময় দেখলাম মাজারের সামনে ক্যাশ বাক্সটির তালা নেই। তালা ভেঙ্গে নাকি টাকা লুট হয়েছে,এমন খবর এলাকাবাসী কয়েকজন জানলেও দায়িত্বরত মহিলা ও উদিলা দরবেশরাও জানে না। পরদিন তালা নিয়ে তালা লাগালে আমাদের প্রতিবেদক গিয়ে ছবি তুলে আনেন। এ ব্যাপারে এলাকার কয়েকজনের সাথে আলাপ করলে তারা এ ব্যাপারে কোন সুদুত্তর দিতে পারেন নি। তবে তারা ঠাট্রা মশকারি করে বলেন আমরা বছরে একবার সহ বিভিন্ন সময় দেওয়া সিন্নি ও তবারক খেতে পারলেই হয়। কে মাজার দিলো না দিলো এত মাথা ব্যথা নেই।

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: