সর্বশেষ সংবাদ
◈ নাঙ্গলকোটে প্রবাসীর স্ত্রীকে চায়ের সঙ্গে ঔষধ মিশেয়ে অচেতন ◈ প্রতিটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিচ্ছি আপনি-আমিও ◈ হামলা না চালাতে পাকিস্তানকে অনুরোধ ভারতের! ◈ পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে হবে-অর্থমন্ত্রী ◈ সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম, সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম ◈ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট থেকে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শোভন ◈ নাঙ্গলকোটের কৃতি সন্তান তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘এডুবট’ ◈ বিনা খরচে বাংলাদেশিদের জন্য জাপানে চাকরির সুযোগ ◈ কুমিল্লায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ◈ তিতাসের জুনাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী হলেন জালাল সরকার

নাঙ্গলকোটে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আ,লীগ’র লোটাস কামাল, বিএনপির আব্দুল গফুর ভূঁইয়া

১২ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৩:২৩

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস•
সারাদেশে নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় নাঙ্গলকোটও চলছে নিরবে হালকা হাওয়া। এ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থা বিগত নির্বাচনগুলোর থেকে অনেক ভালো তার কারণ এই নির্বাচনী এলাকায় আ,লীগের হেভিওয়েট নেতা সরকারের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী ও সাংসদ আ হ ম মোস্তফা কামাল লোটাস কামাল এফসিএ। সদর দক্ষিন, লালমাই, নাঙ্গলকোট উপজেলায় আ,লীগের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভালো অবস্থায় রয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিন, লালমাই, নাঙ্গলকোট উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের একমাত্র হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান সরকারের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী ও সাংসদ আ হ ম মোস্তফা কামাল লোটাস কামাল এফসিএ। এই আসনে আ,লীগ থেকে আর কেউ  মনোনয়ন চাইবেন এমন কোন আবাস এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, লোটাস কামাল তার দক্ষতায় ও নেতৃত্ববলে তার একক জনপ্রিয়তা রয়েছে এ আসনে।সদর দক্ষিন, লালমাই, নাঙ্গলকোট উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে জনসমর্থনে শীর্ষে অবস্থানকারী এই প্রতি বারের ন্যায় এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে সার্বিক অবস্থায় এগিয়ে রয়েছেন।
পেশায় চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট মোস্তফা কামাল এ পর্যন্ত তিনবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যরূপে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলা (দক্ষিণ)-এর আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। এরপূর্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
গত ত্রিশ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথিতযশা ক্রিকেট ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মোস্তফা কামাল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ক্রিকেট কমিটির সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বকালীন সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সকল খেলোয়াড়কে বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন। আইসিসি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের পূর্বে তিনি সেপ্টেম্বর, ২০০৯ থেকে অক্টোবর, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ – ২০১৪ মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। আইসিসি’র অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ মেয়াদকালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)’র সভাপতি ছিলেন তিনি। ২৬ মে, ২০১৪ তারিখে আইসিসি’র ১১শ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিদায়ী সভাপতি নিউজিল্যান্ডের অ্যালান আইজ্যাকের স্থলাভিষিক্ত হন মোস্তফা কামাল। ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের মানের বিষয়ে তিনি সংক্ষুদ্ধ হন ও সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের হুমকি দেন।  এরপর এপ্রিল ১, ২০১৫ তারিখে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি৷ আর এইভাবেই তার নেতৃত্ব চলে আসছে সুদক্ষতার পরিচয়ে।

 

অপর দিকে  লোটাস কামালের দুর্গে দুই ভূঁইয়ার লড়াই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। নাঙ্গলকোটের একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, লালমাইয়ের  ৯টি ইউনিয়ন ও সদর দক্ষিণের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ। এ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করে সবার কাছে নিজের অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন বর্তমান এমপি। দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নানা চাপের মধ্যেও গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে দলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করেছেন বিএনপির আরেক নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্বে দিশেহারা বিএনপির মাঠের নেতাকর্মীরা। বিভ্রান্ত এ আসনের ৫ লাখ ৫৮ হাজার ১২৮ ভোটারও।

সম্প্রতি এ আসনের সীমানা বদল করা হয়েছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড ছিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার অংশ। এসব ওয়ার্ড এ আসন থেকে এবার বাদ দিয়ে কুমিল্লা সদর (কুমিল্লা-৬) আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা-১১) স্বতন্ত্র আসন ছিল। ২০০৮ সালে ভোটের আগে কুমিল্লায় আসন কমাতে গিয়ে এ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন নাঙ্গলকোটের ১২টি ইউনিয়ন ও সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ (৬টি ইউনিয়ন) নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন করা হয়। দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনটিতে ফের সীমানা বদল করা হয়। ওই সময় নাঙ্গলকোটের ১২টি ইউনিয়ন, সদর দক্ষিণের ১৪টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে আসনটি পুনর্গঠিত হয়।

সাবেক কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ডা. একেএম কামরুজ্জামান এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আবদুল গফুর ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিক জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এমপি হন। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনে এমপি হন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। এর আগে ১৯৯১ সালে সাবেক কুমিল্লা-৯ আসনে এমপি হন বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। একই আসনে ১৯৯৬ সালে মুস্তফা কামাল এমপি নির্বাচিত হন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, বর্তমান এমপি লোটাস কামাল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। আজ প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। গরিব, দুঃখী, অসহায় মানুষের মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন তিনি। গোটা এলাকাটিই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং সব ইউপি চেয়ারম্যান এখন আওয়ামী লীগের দখলে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৮ সালে লোটাস কামাল এমপি হওয়ার পর অবহেলিত এই জনপথ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির সবত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। জাতীয়করণ করা হয়েছে হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ও এআর মডেল হাইস্কুল। নির্বাচন সামনে রেখে কথা হয় পৌর মেয়র আবদুল মালেকের সঙ্গে। তিনি আমাদের নাঙ্গলকোটকে বলেন, লোটাস কামাল নাঙ্গলকোটের উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তিনিই আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী।

স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিএনপির ডা. একেএম কামরুজ্জামান রাজনীতিকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে নাঙ্গলকোটে বিএনপির হাল ধরেন আবদুল গফুর ভূঁইয়া। ২০০১ সালে সাবেক কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসন থেকে এমপি হন তিনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বিদ্যুতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। এক-এগারোর মামলায় জেলে যান তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল গফুর। ওই সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও একসময়ে গফুরের আস্থাভাজন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বিএনপিতে আলাদা গ্রুপ তৈরি করেন। সেই বিএনপির এই দুর্গে ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় এ আসনে দলের পদ না ফেলেও জনগনের আস্বতার প্রতিক আব্দুল গফুর ভূইয়া।

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বক্তব্যে নেওয়া হয়নি, তিনি বর্তমানে জেলে আছেন। তবে নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় সাবেক এমপি বিএনপির নেতা গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়। এমপি থাকা অবস্থায় এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। মানুষ তা ভুলে যায়নি। আমি তৃণমূলের কাছে যেতে পেরেছিলাম বলেই তারা আজও আমাকে মনে রেখেছে। অন্য দল করার কারণে কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করিনি। আমার বিশ্বাস, নির্বাচন করলে নাঙ্গলকোটের মানুষ আমাকে ভোট দেবে। নির্বাচন করার জন্য আমার টাকা-পয়সা লাগে না। নবগঠিত লালমাই সদর দক্ষিণের মানুষের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আছে। তারাও আমাকে ভালোবাসেন। আগামী নির্বাচনে আমিও তাদের সমর্থন পাব।

সরেজমিনে লোটাস কামাল ও আব্দুল গফুর ভূইয়ার জনপ্রিয়তাই বেশি, সাধারণ জনগন মনে করে আব্দুল গফুর ভূইয়া মনোনয়ন ফেলে এই আসনে ভোট যুদ্ধ হবে দেশের স্বরণকালের ইতিহাস।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: