নাঙ্গলকোট ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

২৪ জুলাই ২০১৯, ২:৫০:৪৬

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউপির ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার সকাল ১১টার সময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী ঐক্যবদ্ধ ভাবে একত্রিত হয়ে শিক্ষকের আসল রূপ তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তিনি শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের সাথে অসৎ-আচরণ করেন,ছাত্রীদর গায়ে হাত দেন,ছাত্রীদের কাছে ফোন নাম্বার চান এবং ফোন নাম্বার না দিলে তাদের কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে থাকেন।ছাত্রীরা কোন কথায় যদি কোন রকম সাড়া না দেন তাহলে তাদের টিসি দিয়ে বের করে দিবেন বলে জানান। এমন কিছু ট্রফিক নিয়ে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক অগ্রসর হন।ছাত্র-ছাত্রীরা একতা বদ্ধ হয়ে এই স্যারের বিরুদ্ধে অনেক মিছিল করেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি হল রুমে ও মূল ফটকে তালা জুলিয়ে দেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের বিচার দাবী করে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত হাতের লেখার পেস্টুন প্রদর্শন করে রাস্তায় দফায় দফায় বিক্ষোভ করে এবং ওই শিক্ষকের অপসারনের দাবী জানান।সরেজিমেনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন ইমন ও তার সহপাঠী এক ছাত্রীর সাথে বেঞ্চে বসা নিয়ে ঝগড়া জাটি করে সাজ্জাদ হোসেন ইমন। এরপর ওই ছাত্রী মুখ বুঝে বসে থাকতে দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম উভয় ছাত্র-ছাত্রীকে সহাকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদের নিকট পাঠায়। তিনি বিদ্যালয়ের কোন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে ওই ছাত্রকে ঘুরোতরো ভাবে পিঠিয়ে ও গাল মন্দ করে তাকে থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে গতকাল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের মাঠে বিক্ষোভ ও ওই শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মজুমদারের নিকট ৮টি অভিযোগ দায়ের করেন। ছাত্র-ছাত্রীরা অভিলম্বে এই চরিত্রহীন শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত না করলে বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী ক্লাস করবে না এবং কোন ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসবেনা বলে কঠোর হুশিয়ারী দেন।তারা বলেন আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সকল ছাত্র-ছাত্রীর দাবী মানতে হবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে।এই বিক্ষোভ অংশগ্রহণরত নবম শ্রেণীর ছাত্রী মাইশা আক্তার, নাফিজা আক্তার, নুসরতা জাহান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,এই চরিত্রহীন সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ সব সময় ক্লাসে গেলে আমাদের গায়ে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে, তোদেরকে আমার ছেলের বৌ বানবে বলে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয়। আমরা ক্লাসে আসতে ভয় পাই সব সময়। তাই ওই শিক্ষককে দ্রুত চাকুরিচ্যুত করার জন্য আহ্বান জানাই এবং বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদুল ইসলাম ঈমন, কামরুল হাসান মেহেদী ও ইস্রাফিল হোসেন বলেন, আমরা ক্লাসে গেলে স্যার বিভিন্ন রকম গালমন্দ করে।এই শিক্ষক আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অযোগ্য এবং তিনি বহু নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত,আমাদের বিদ্যালয় পবিত্র এই পবিত্র বিদ্যালয়ে অপবিত্র শিক্ষকের কোন স্থান নেই। যে পর্যন্ত আমাদের সকল শিক্ষার্থীর দাবী মানা হবে না আমরা কোন শিক্ষার্থী ক্লাসে যাবো না বলে তারা কঠোর হুশিয়ারী দেন।অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজদের মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে ও তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, আবু তাহের বলেন, দু’জন শিক্ষার্থী নিয়ে এ ঘটনার সুত্রপাত। আমরা কয়েকজন এসে শিক্ষার্থীদের শান্তনা দিয়ে শান্ত করি এবং এটা সমাধানের জন্য আশ্বাস দিয়েছি।বিদ্যালয়ের সভাপতি ঢালুয়া ইউপির চেয়ারম্যান নাজমূল হাছান ভূঁইয়া বাছির বলেন, মুঠো ফোনের মাধ্যমে আমি ঘটনাটি জানতে পারি।বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভায় আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোঠোর ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়ে থাকেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: