নাঙ্গলকোটে প্রকৃত শহীদ হয়েও মেলেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / নাঙ্গলকোট / বিস্তারিত

নাঙ্গলকোটে প্রকৃত শহীদ হয়েও মেলেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

3 April 2015, 9:36:17

এমডি আলাউদ্দিন, কুমিল্লা :
বাংলাদেশ, একটি রক্তমাখা নাম। একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তয়ী যুদ্ধের পর পৃথিবীর মানচিত্রে ঠাই করে নেয় বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশ। সেই রক্তয়ী যুদ্ধে দেশকে ভালোবেসে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক মুক্তিসেনা। অনেকেই বরণ করেছেন যন্ত্রনাদায়ক পঙ্গুত্ব। ইজ্জত হারিয়েছেন অনেক মা-বোন। তারপরেই আমরা পেয়েছি লাল-সবুজ পতাকা খচিত আমাদের এই বাংলাদেশ। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, ইজ্জ্বত হারিয়েছেন এবং বরণ করেছেন যন্ত্রনাদায়ক পঙ্গুত্ব। আজকের এই সমাজে তারাই সবচেয়ে বেশি অবঙ্গা ও ঘৃণার পাত্র। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেেিত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলার পর সেটাই উপলব্দি করতে পারলাম। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও শহীদ আবদুল করিম আজও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি। যা অত্যন্ত লজ্জাস্কর ও দুঃখজনক।
স্থানীয় একাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের আত্মীয় স্বজনদের তথ্য মতে, সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর। সময় রাত সাড়ে ১০টা। অদম্য সাহসী ৬৮জন গেরিলা যোদ্ধা প্রশিণ শেষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের চোত্তাখোলা হয়ে বাংলাদেশের কুমিলা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বেতিয়ারা গ্রাম দিয়ে প্রবেশের অপোয়। গাইডদের সবুজ সংকেত পেয়ে ইতিমধ্যে প্রবেশ মুখের দেড়শ গজ সামনে হাইওয়ের দু’পাশে অবস্থায় নেয় ৪জন করে গেরিলা যোদ্ধা এলএমজি হাতে। এরপর দুটি ভাগে প্রবেশ করছে সশস্ত্র যোদ্ধা। প্রত্যেকের হাতে রাইফেল, পিঠে গুলিভর্তি হ্যাভারসেক (ব্যাগ)। ধান েেতর আইল ধরে এগিয়ে চলা, কিন্তু হঠাৎ বদলে গেল কুয়াশচ্ছন্ন সেই শীতের রাত। গোপন অবস্থান (বাংকার) থেকে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর করা মুহুর্মুহু গুলি ও গ্রেনেড হামলায় বিধ্বস্ত চিরায়ত মুক্তির সেই অভিযাত্রা। এতে কুমিলার তৎকালীন চৌদ্দগ্রামের (বর্তমান নাঙ্গলকোট) আবদুল কাদের, আবদুল করিম, আবদুল ওহাব, আবদুস ছোবাহানসহ ৯জন গেরিলা যোদ্ধা শহীদ হয়। এছাড়া ৩জনকে ধরে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয়। তবে পাল্টা আক্রমনে এবং সহযোদ্ধাদের সাহসী প্রতিরোধে ওইদিন বেঁচে যায় অন্য ৫৬জন গেরিলা যোদ্ধা।
ওই ৯জন শহীদের মধ্যে ৪জনের বাড়িই ছিল কুমিলার নাঙ্গলকোটে। তারা হলেন: উপজেলার নারায়নবাতুয়া গ্রামের আবদুল করিম, আবদুল ওহাব, আবদুস ছোবাহান এবং সাতবাড়িয়া গ্রামের আবদুল কাদের। এর মধ্যে আবদুস ছোবাহান, আবদুল ওহাব ও আবদুল কাদেরের নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হলেও আবদুল করিমের নাম আজও গেজেট ভূক্ত হয়নি। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হলেও উপজেলার গোরকাটা গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এরই পরিপ্রেেিত শহীদ আবদুল করিমের স্ত্রী আমেনা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ৩ছেলে ও ২মেয়ের সংসার নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তদপুরী তিনি তার স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তভূক্ত করার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়া, যুদ্ধকালীন কমান্ডার আবদুল মালেক ভূঁইয়া ও রশিদ আহমেদ খন্দকার, জোনাল কমান্ডার প্রকৌশলী আ জ ম মহসিন ভূঁইয়া এবং অধ্যাপক আরিফুর রহমানকে জানিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমতাবস্থায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x