নাঙ্গলকোটে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে হত্যা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নাঙ্গলকোটে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে হত্যা

15 June 2014, 4:39:33

f.1

 

 

 

 

 

 

তাজুল ইসলাম: নাঙ্গলকোটে যৌতুকের দাবিতে তিনি মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধুকে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও তার ঝাঁ কর্তৃক হত্যার পর লাশ ঘরে ঝুঁলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর ঘটনা ঘটেছে।

নিহত গৃহবধু রহিমা আক্তার (২৮) উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউপির দাঁড়াচো গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার ভোর আনুমানিক ৫টায় উপজেলার পেড়িয়া ইউপির দৌলতপুর মধ্যপাড়ায়।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর থেকে রহিমা আক্তারের শ্বশুর আবুল কালাম পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহত রহিমা আক্তারের বোন সালমা আক্তার জানান, গত ৬ মাস পূর্বে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউপির দাঁড়াচো গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে রহিমা আক্তারের সাথে পাশবর্তী পেড়িয়া ইউপির দৌলতপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মাওলানা জামাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের এক সপ্তাহ পর থেকেই রহিমার স্বামী জামাল হোসেন, শ্বশুর আবুল কালাম ও শ্বাশুড়ী রেজিয়া বেগম যৌতুকের জন্য রহিমাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

রহিমা বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র নিয়ে আসেন। কিন্তু যৌতুকের অবশিষ্ট ফ্রিজ না দেয়ায় অন্যান্য আসবাপত্র প্রায় এক মাস বাহিরে রেখে দেয়া হয়। পরে ফ্রিজ দেয়ার পর আসবাবপত্র ঘরে নেয়া হয়। কিন্তু তারপরও স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির নির্যাতন থেকে রহিমার রক্ষা নেই। তাকে গত ছয় মাস থেকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

মৃত্যুর দু‘দিন পূর্বে তার শ্বশুর আবুল কালাম তাকে ভাত খাওয়া অবস্থায় কসম দেয়, শ্বশুর বাড়িতে যা কিছু হচ্ছে তা যেন বাপের বাড়িতে না বলে। এছাড়া, রহিমার ভাসুর কামাল হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তারের সাথে তার স্বামী জামাল হোসেনের পরকিয়া নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো বলে এলাকাবাসী জানান। রহিমা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বিএসএস ( স্নাতক) পাস কোর্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

রহিমা আক্তারের ফাঁসিতে ঝুঁলন্ত অবস্থায় তার সারা শরীরে ধুলো লেগে থাকতে দেখা যায়। তার পরনের নতুন কাপড়টিও মৃত্যুর পর পরানো হয়েছে বলে আলামত হিসেবে স্পষ্ট দেখা যায়। ফাঁসির আলামত হিসেবে জিহবা বের হয়ে যাওয়া সহ মুখ দিয়ে লালা বের হবারও কোন আলামত লক্ষ্য করা যায়নি বলে জানা যায়।

এছাড়া, রহিমার ঝুঁলন্ত লাশের আশেপাশে চেয়ার, শোবার ছকি, সাইকেল, ধানের মেশিন সহ অন্যান্য জিনিসপত্র যেভাবে ছিল, ঠিক সেভাবে পড়ে আছে। এলাকাবাসী জানান, তার আশে-পাশে যে সব জিনিসপত্র ছিল সে ইচ্ছা করলে, সেগুলো আকড়ে ধরে বাঁচার জন্য শেষ চেষ্টা করতে পারতো।

তার তলপেট, কোমর, গাড়ের এক পাশে আঘাতের চিহৃ রয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, যে ঘরে রহিমার ঝুঁলন্ত লাশ পাওয়া যায়, সে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় ছিল।

নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আসাদ জানান, আমরা ফাঁস অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। বর্তমানে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে এটা হত্যা না আত্মহত্যা  জানা যাবে।

রহিমার ভাই মাসুম জানান, রহিমার স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও ঝাঁকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ছলছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: