নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির রাজনীতি দুই গ্র“পে বিভক্ত | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির রাজনীতি দুই গ্র“পে বিভক্ত

17 October 2014, 2:43:26

Gafor n mobasser

 

 

 

 

 

 

পছন্দের নেতৃত্ব না পেয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা;

মোঃ আলাউদ্দিন, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা):

যতই দিন যাচ্ছে, ততই কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। এতে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপো করে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের বারবার চাপিয়ে দেয়া কমিটির কারণে দল এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। দলের এ বিপর্যস্ত অবস্থা এবং সরকারদলীয়দের চাপের মুখে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অনেকটা দিশেহারা।
সাড়ে ছয় বছর আগে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, যুবদলের কমিটি গঠন করা হলেও দু-গ্র“পের দ্বন্ধে একাধিকবার কমিটি ভেঙে যায়।  গত উপজেলা নির্বাচনের এক দিন আগে এবং নির্বাচনের দিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার অভিযোগে মোট ছয়টি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়াসহ অনেক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এতে বর্তমানে অনেক নেতাকর্মীই এলাকাছাড়া। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সরকারবিরোধী অন্দোলনকালীন মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে তিন-চারজন নেতা গুলিবিদ্ধ হন। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত হত্যা, হত্যার চেষ্টা, বিস্ফোরক আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, দ্রুত বিচার আইন, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, পুলিশকে আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও চুরির অভিযোগ এনে সাতটি মামলায় আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও অন্য নেতাকর্মীদের নামে প্রায় ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়ার নেতৃত্বাধীন এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার নেতৃত্বাধীন দু’টি গ্র“প রয়েছে উপজেলা বিএনপিতে। ২০০৯ সালে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার অনুসারীদের নিয়ে উপজেলা সদরে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলেও আবদুল গফুর ভুঁইয়ার অনুসারী নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তা আর সম্ভব হয়নি। পরে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কোনো সম্মেলন না করে জেলা নেতৃবৃন্দ মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়াকে সভাপতি করে উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেন। ওই সময়ে অভিযোগ উঠে, জেলা নেতৃবৃন্দ কোনো সাংগঠনিক নিয়ম না মেনেই মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়াকে উপজেলা সভাপতি করেন। পরে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া তার অনুসারী নেতাকর্মীদের দিয়ে উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি ও যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন। গত সাড়ে ছয় বছরেও ছাত্রদলসহ কোনো অঙ্গসংগঠনের উপজেলা কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়নি। ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে উপজেলা বিএনপির দু’জন সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভা যুবদলের সেক্রেটারিসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার গ্র“প থেকে পদত্যাগ করে আবদুল গফুর ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হন।
উপজেলা বিএনপির দীর্ঘ দিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে উপজেলা বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে গত বছর ২০ জুন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হামিদুল হক ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবদুল গফুর ভুঁইয়ার নেতৃত্বে সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত হয়।
২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আবদুল গফুর ভুঁইয়া সমর্থিত বিএনপির পাঁচ নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সময়ে পৌরসভা নির্বাচনে আবদুল গফুর ভুঁইয়া সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী অল্প ভোটের ব্যাবধানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন। কিন্তু ইউপি নির্বাচনে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া সমর্থিত কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। আবদুল গফুর ভুঁইয়ার অনুসারী নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গত ডিসেম্বর মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জোটের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় মোবাশ্বের আলম  ভুঁইয়া সবাইকে অনেকটা অন্ধকারে রেখে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আবারো তৃণমূল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন আনেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর সারা দেশের মতো নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের আশায় বুক বাঁধলেও তাদের সে প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।  
এ দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহাজাহানকে নাঙ্গলকোট বিএনপিকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি এ নিয়ে দু’পরে সাথে চার বার বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার অনুসারী অনেক নেতাকর্মী অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে চারজন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গফুর ভুঁইয়ার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশায় গত ৯ আগস্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে বৈঠকের জন্য আবদুল গফুর ভুঁইয়ার নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছলে আবারো বৈঠকটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবদুল গফুর ভুঁইয়া বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করব না। নাঙ্গলকোটের জনগণের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করব। জনগণ বিচার করবে, কার অবস্থান কী?
নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া বলেন, উপজেলা বিএনপিতে কোনো  গ্র“পিং নেই। ২০ দলীয় জোটের আহ্বায়ক হিসেবে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। দু’টি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপির কার্যক্রম আমার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমি তার পে কাজ করব।

 

 

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: