নাঙ্গলকোট একাদশে জোর করে ভর্তি করাচ্ছে আইটপাড়া আলিম মাদ্রাসা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নাঙ্গলকোট একাদশে জোর করে ভর্তি করাচ্ছে আইটপাড়া আলিম মাদ্রাসা

17 August 2020, 3:05:17

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস.
নানা কৌশলে শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউপির আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। এ জন্য শিক্ষার্থীর নামে ভুয়া আবেদন, প্রশংসাপত্র না দিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগে মাদ্রাসায় ভর্তি হতে বাধা করা হচ্ছে। এভাবে ভর্তিতে বাধ্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ। এমন হয়রানির শিকার হওয়া অনেকেই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেছেন। একাদশে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করলে তার বাতিল হয়ে যায়, পরে জানা যায় শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ নিজেরাই তাদের অনলাইন রেজি: করে ফেলেছেন।এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গতবছরও এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তাদের কে প্রাথমিকভাবে সর্তক করা হলেও তা কর্নপাত করেনি। ভর্তির শর্ত অনুযায়ী প্রশংসাপত্র আনতে স্কুলে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েছেন অনেক শিক্ষাথী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করে, তাকে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই (মাদ্রাসা সংযুক্ত) একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। ভর্তিতে আপত্তি জানালে তার প্রশংসাপত্র দিতে গড়িমসি করে প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃপক্ষ। পরে প্রশংসাপত্রের জন্য চাপ দিলে ভাইস প্রিন্সিপাল গোলাম মাওলা বলেন, ভর্তি হলে এই মাদ্রাসায় হতে হবে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে প্রশংসাপত্র দিতে বাধ্য হয়।

একজন অভিবাবক অভিযোগ করে বলেন: প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসাটি থেকে দাখিল পাশ করে দেশের বিভিন্ন কলেজ-মাদ্রাসায় ভর্তি হতে চাইলেও তারা তাদের জোর করে তাদের মাদ্রাসায় রেখে দিচ্ছেন। ২০১৯ সালে দাখিল পরিক্ষা দিয়ে এক শিক্ষার্থী কুমিল্লায় কলেজে ভর্তি হতে চাইলে তাকে বলা হয়ে-” যেখানে পার ভর্তি হও, তোমার মার্কশীট, প্রশংসাপত্র কে দেয় দেখব।” এরপর ওই শিক্ষার্থী আর কুমিল্লায় ভর্তি হতে পারেনি।
উক্ত মাদ্রাসা থেকে ২০২০ সালে দাখিল পরিক্ষা দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী কলেজে আবেদন করতে গিয়ে দেখে তাদের আবেদন করা হয়ে গেছে! তাঁরা তখন উক্ত মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন দিয়ে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ” আবেদন আমরা করে ফেলেছি। আমাদের শিক্ষার্থী আমাদের কাছে থাকবে তাতে সমস্যা কি বলে ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত ভাইস প্রিন্সিপাল গোলাম মাওলার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: অনেক শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের, আমরা তাদের ফরম ফিলাপের ব্যবস্থা করেছি এবং তাদেরকে পরীক্ষা ব্যবস্থা করেছি, এখন পাশ করার পর যদি তারা অন্য স্থানে চলে যায় এটা মেনে নেওয়া যায় না এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তাদেরকে আমরা অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। প্রতিষ্ঠানের দিকে লক্ষ করে তাদেরকে আমরা অন্য স্থলে যেতে দিতে পারি না এবং আমরা তাদের অনলাইনে ফরম ফিলাপ করে ফেলেছি। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের কে না জানিয়ে অনলাইন আবেদন করার কি কোনো অধিকার রয়েছে আপনাদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন অবশ্যই অধিকার রয়েছে তার কারণ শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রয়েছে। যারা থাকতে চাইবে না তারা চলে যাবে। একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁর পরিবারের রয়েছে এ কথা বলার পর তিনি ফোন কেটে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মুঠোফোনে প্রতিবেদক বলেন, ‘এভাবে শিক্ষার্থীকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া একাদশে ভর্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভুক্তভোগী ভর্তি-ইচ্ছুকরা জানায়, ভালো কলেজে মনোনয়ন পাওয়ার পরেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কলেজ কর্র্তৃপক্ষ জোর করে ভর্তি করাচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ভর্তির আবেদন করার সময় দেখা যাচ্ছে আবেদন সম্পন্ন হয়ে গেছে। অথচ সে আবেদনই করেনি। এমন ভুয়া আবেদনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিনই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষা বোর্ডে ধরনা দেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায় বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা সমন্বয় সাব-কমিটি এক বিজ্ঞাপ্তিতে বলেছে,”কোন শিক্ষার্থীকে না জানিয়ে, তার অনুমতি না নিয়ে তার আবেদন ফি প্রদান করা ও তার কলেজে আবেদন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: