নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞান ডাক্তারের অপারেশনে জরায়ু হারালেন নারী | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ নাঙ্গলকোট সাংবাদিক সমিতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ◈ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে গৃহীত তেরখাদায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ◈ মানবতার ফেরিওয়ালা এমপি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ◈ সুন্দরবন থেকে হরিণের মাংস,মাথা,ও পা উদ্ধার ◈ করোনার চাইতেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ধর্ষণ ◈ মরচেপড়া মানুষ ____ মোঃ মাহমুদুল হাসান কিরণ ◈ ধর্ষণ মামলার মাস হতে চললেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি আসামি ◈ বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিল গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। ◈ চৌদ্দগ্রামে নিজ বাড়ি ও এলাকায় জানাজা না দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হাছে লতিফুর রহমানের মরদেহ ◈ দীর্ঘ সামাজিক বিরোধের ফসল নাঙ্গলকোটের রাবেয়ার লাশ!

নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞান ডাক্তারের অপারেশনে জরায়ু হারালেন নারী

21 October 2019, 9:35:17

প্রতিনিধি, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা):

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অজ্ঞান করার চিকিৎসক ওমর ফারুকের ভুল অপারেশনে পিংকি আক্তার নামে এক প্রসূতি মৃত্যু সন্ধিক্ষণে রয়েছে। ওই প্রসূতি পৌর সদরের দৈয়ারা দক্ষিণপাড়া গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটে নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতালে। অজ্ঞানের চিকিৎসক ফারুককে দিয়ে একাধিকবার সিভিল সার্জনের নিষেধাজ্ঞা থাকা শর্তেও তাকে দিয়ে অপারশেন করান ওই উপজেলার প্রাইভেট ক্লিনিক গুলো। ডাক্তার ওমর ফারুক নিজেকে মা, শিশু, মেডিসিন, গাইনি বিশেষজ্ঞ পরিচয় দেয় এবং সার্জন না হয়েও অপারেশন করেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে কেন অজ্ঞানের চিকিৎসক দিয়ে প্রসূতিদের অপারেশন করানো হচ্ছে।
পরিবার ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দৈয়ারা গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী পিংকি আক্তারের প্রসব ব্যাথা অনুভব করলে তাকে পরিবারের লোকজন চলতি মাসের ১৩ তারিখে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পিংকির আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসক জানায় রোগীর ডেলিভারি নরমাল হবে। পরে পিংকিকে অপারেশন রুমে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘন্টা রেখে দেন। এরমধ্যে একটি ছেলে নবজাতকের জম্ম হয়। কিন্তু অপারশেনের প্রায় ৪ ঘন্টা পর্যন্ত রোগীর সাথে স্বজনদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। ঐদিন গভীর রাত থেকে প্রসূতির রক্তপাত শুরু হলে স্বজনরা ২ ব্যাগ রক্ত ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর ঐ হাসপাতালে বিভিন্ন চিকিৎসার অজুহাতে প্রায় এক সাপ্তাহ ভর্তি রাখেন। কিন্তু তারপরও প্রসূতির রক্তপাত বন্ধ না হয়ায় তড়িগড়ি করে হাসপাতাল কতৃপক্ষ চলতি মাসের ১৮ অক্টোবর রোগীকে ছাড়পত্র দেয়ার কথা বলে হাসপাতালের চিকিৎসা ফি আদায় করে পিংকিকে কুমিল্লা মা-মনি হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রোগীর স্বজনরা ঐ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়।
এ বিষয়ে প্রসূতির শ্বশুর মনির হোসেন বলেন, জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত আমার ছেলের স্ত্রী পিংকি আক্তার ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না। হাসপাতালের বেডে শুয়ে-শুয়ে কান্না করছেন। তাকে অপরাশেনরে সময় অনেক কষ্ট দেয়া হয়েছে। ঠিকভাবে সেলাই করতে পারেনি। আমি এঘটানার সর্বোচ্ছ বিচার দাবী করছি।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ওমর ফারুক মুঠো ফোনে বলেন, পিংকির অপারেশন আমি করেছি এটার আগে বাচ্চা ছিল, আমি পুনঃরায় অপারেশন করার পর সমস্যা সৃষ্টি হলে ৭ দিন পর কুমিল­ায় রেপার করি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: দেব দাস দেব বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে অজ্ঞান ডাক্তার হয়ে অপরাশেন করতে পারবে না। কেন এ কাজ করেছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জেনে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এর আগেও এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সে মুচলেকা দিয়েছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: