নির্বাচনি আওয়াজ তুলে ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা,রুহুল কবির রিজভী | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

নির্বাচনি আওয়াজ তুলে ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা,রুহুল কবির রিজভী

10 June 2017, 7:12:37

আমাদের নাঙ্গলকোট ডেস্ক :

সরকার নির্বাচনি আওয়াজ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আসলে আগামী নির্বাচনও আওয়ামী লীগ অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে চায় কি না তা নিয়েই এখনো জনমনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। ভরাডুবির ভয়ে নানা প্রহসন ও নকশা করে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। : রিজভী বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চার লাখ দুই শ ছিষট্টি কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করেছেন। বাজেটের বেশির ভাগ অংশই ধরা হয়েছে ভ্যাট ও করের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ জনগণের পকেট কেটে অর্থ লুটপাটের জন্যই যে এই বাজেট প্রণীত হয়েছে তা এখন সুস্পষ্ট। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো-ব্যাংক লেনদেনে আবগারি শুল্ক ধরা হয়েছে যার নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামান্য জমানো টাকাতেও হাত দেয়ার উদ্দেশ্যে। এখন থেকে কেউ যদি ব্যাংকে এক লাখ টাকা রাখেন কিংবা উত্তোলন করেন তাহলে তার হিসাব থেকে ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক কেটে নেয়া হবে। শুধু ৮০০ টাকাই নয়, ব্যাংক লেনদেনের অন্যান্য মাশুল তো রয়েছেই। আবগারি শুল্ক নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন এক লাখ টাকা যাদের আছে তারা সম্পদশালী। অথচ উনিই একসময় বলেছিলেন, চার হাজার কোটি টাকা মানে কিছুই না। আসলে দুর্নীতিবাজ সরকার ও তার মন্ত্রীরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন, তাই তারা জনগণকে নিয়ে এমন তামাশা বা রসিকতা করতে পারেন। আসলে অর্থ লেনদেনের বেআইনি ফাঁকটি আরো প্রসারিত করার জন্যই সরকার সাধারণ মানুষের এক লাখ টাকা সঞ্চয়ের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের ওপর ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, যার খড়গ সরাসরি নেমে আসবে জনগণের ওপর। : তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাল্লা দিয়ে যেভাবে ক্ষমতাসীনদের লুটপাট আর দুর্নীতি চলছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভোটারবিহীন সংসদের এমপিরা বলেছেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে দেশ থেকে পাচার করে দেয়া হচ্ছে। তাদের বক্তব্যে লুটপাটের কথা শুনে দেশবাসী আরো বেশি বিস্মিত হয়েছেন। লুটপাটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমস্ত আর্থিক খাত আজ শূন্য গহ্বর হয়ে গেছে। সমাজের প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। জোর জবরদস্তি করে মানুষের সম্পদ দখল নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নেশায় পরিণত হয়েছে। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য চলছে মহাসমারোহে। চাল-ডাল-লবণ-তেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। : বাণিজ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে না, অথচ এমন কোন জিনিস নেই যার মূল্য দেড় গুণ থেকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়নি। তিনি কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়েই একতরফা আইন করে প্রধানমন্ত্রী নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারিণী হয়েছেন। গণতন্ত্রের দেহে ছুরি চালিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছেন। এখন এনেসথাসিয়া হিসেবে আকাশ-বাতাস-মৃত্তিকায় নির্বাচনি আওয়াজ তুলে দেশের মধ্যে ফটকা আনন্দলহরি জাগিয়ে তুলে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হয়েছেন। আসলে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণ চায় কি না তা নিয়ে এখনও জনমনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। ভরাডুবির ভয়ে নানা প্রহসন আরা নকশা করে যাচ্ছেন। কারচুপির দুরন্ত ফলাফল দেখিয়ে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ডাকাতির যে বীভৎস নিদর্শন তারা দেখিয়েছেন সেটিতে আওয়ামী লীগের অগণতান্ত্রিক ঐতিহ্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আগামী দিনে আওয়ামী ঝুড়িতে অবৈধ ভোট ভরার জন্য কোন নীল-নকশা বা অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবায়িত হতে দেবে না জনগণ। সন্ত্রাসের নির্মাণ ও বিপণন করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কোনো সুযোগ পাবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গলা ফাটিয়ে ঘোষনা দিয়েছিলেন, দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দিবেন। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে আশার বাণী শুনিয়ে যে চরম ধোঁকা দিয়েছেন তা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। মোটা চালের দাম এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দামে বাংলাদেশে চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে লাখ লাখ টন চাল ঘাটতি রেখে বর্তমান সরকার বাহাদুরী করে শ্রীলঙ্কায় চাল রফতানি করেছিল। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ এখন কম খেতে শুরু করেছে। চালসহ নিত্যপণ্যের দাম এতটাই দুর্বিষহ ও লাগামহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই রমজানেও মানুষকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার যে আশার বাণী তিনি শুনিয়েছিলেন বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে কর্মক্ষম প্রায় কোটি লোক বেকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে যত লোককেই চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের এবং তাও কি না ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে, এমন খবরও প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। : তিনি বলেন, পয়লা জুন ২০১৭ থেকে আবারো বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের মূল্য। যা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এমনিতেই নিত্য পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। নানা ট্যাক্স, ভ্যাট ও আবগারি শুল্কের কবলে পড়ে মানুষের জীবনে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তার উপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ ঘোষণা। কারণ তারা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়। তাই জনগণের ভাষা বোঝার ক্ষমতা তাদের নেই। জনগণের সরকার হলে জনগণের প্রতি দরদ থাকতো। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলথÑবিএনপির পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ব্যাংক লেনদেনের ওপর যে আবগারি শুল্ক ও পণ্যের ওপর যে ভ্যাট ধরা হয়েছে তাও প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। : বেগম খালেদা জিয়ার নাম ফলক সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামফলক ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গতকাল ভাঙচুর করে সরিয়ে ফেলেছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবহিত করলেও তিনি বরং উল্টো ছাত্রলীগকেই উৎসাহিত করেছে অপকর্মটি সাধনের জন্য। সরকারের ইশারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির তত্ত্বাবধানেই এই অপকর্মটি করা হয়েছে। এটি একদলীয় নিষ্ঠুর বাকশালী ফ্যাসিস্ট শাসনেরই নমুনা। আওয়ামী লীগ ভিন্ন অন্য রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের কোন অর্জনকেই তারা বরদাশত করে না। সকল প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশকেই তারা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে বলেই পিতা-কন্যার নামফলক ছাড়া কারো নামেই তারা রাখতে দিবে না। কিন্তু তারা জানে না স্বদেশ-মাতৃকার জন্য যারা অবদান রাখেন তাদের নাম মানুষের মন থেকে মুছে দেয়া যায় না। আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। : তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলাধীন কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেদ মঞ্জুর রোমেলকে তার গ্রামের বাড়ি শাহজাদপুর থেকে সাদা পোশাকধারী লোকেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এখন  পর্যন্ত স্থানীয় থানাসহ কোথাও তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আমি অবিলম্বে রোমেলকে জনসম্মুখে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: