নিলামে বিক্রি হয়ে গেল দুটি ক্লাব | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

নিলামে বিক্রি হয়ে গেল দুটি ক্লাব

14 November 2016, 9:21:09

স্পোর্টস ডেস্ক :নিলামে তুলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ খেলা দুটি ক্লাব, অথচ সেই খবর ক্লাবের কর্মকর্তাদের জানাই ছিল না! তাঁরা অনেক বিলম্বে ক্লাবের মালিকানা হারানোর খবর জেনেছেন, তাও আবার আনুষ্ঠানিকভাবে নয়। তাঁদের অন্ধকারে রেখে ‘অভিনব’ উপায়ে ক্লাব দুটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে!

অভিযোগ করেছেন ক্রিকেট কোচিং স্কুলের (সিসিএস) কোষাধ্যক্ষ ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী। অবশ্য তিনি একাই নন, তাঁর মতো ভুক্তভোগী কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির (কেসিএ) কর্মকর্তারাও। যাঁরা আবার জড়িত লুত্ফর রহমানের মালিকানাধীন প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সঙ্গেও। ২০১৪-১৫ ক্রিকেট মৌসুমে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং নিয়ে ক্লাব মালিকের বেফাঁস মন্তব্যের জেরে মামলায় জেরবার হতে হয়েছে তাঁদেরও। যে কারণে কেসিএ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম গতকাল দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতেই চাইলেন না। তবে তিনিও স্বীকার করে গেছেন, ‘নিলামে তুলে কলাবাগান একাডেমি বিক্রি করে দেওয়ার খবরটি আমরাও অনেক পরে জেনেছি।’

নির্দিষ্ট করে বললে ইকবালরা সেই খবর পেয়েছেন গত ৭ সেপ্টেম্বর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ১৫তম সভার পর, ‘এখনো কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে খবরটি জানি না। বোর্ডের গত সভায় বিষয়টি অবহিত করার পরই বিষয়টি আমাদের কানে আসে।’ এই খবরও তাঁর কানে এসেছে, ‘শুনেছি ক্লাব দুটি কিনেছেন বোর্ড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই।’

বিসিবির পাওনা পরিশোধ না করার অপরাধেই দল দুটিকে বেচাকেনার হাটে তোলা হয়। দুই ক্লাবই সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতে পারেনি। ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ নামের বিতর্কিত পদ্ধতির দলবদলের সময়ই বিসিবি ঘোষণা দিয়েছিল যে ক্লাব টাকা দিতে না পারলে দেবে তারাই। তারা দিয়েছেও এবং কেসিএ-সিসিএসের ক্রিকেটারদের চুক্তি অনুযায়ী পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পর নিজেদের কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধারে নামে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর দাবি, বোর্ডের প্রাপ্য টাকা পরিশোধে অনীহাই ওই দল দুটির একই রকম নিয়তি ডেকে আনার কারণ।

যদিও বিসিবি এভাবে কোনো ক্লাব নিলামে তুলে বিক্রি করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সিসিএস কর্মকর্তা ইকবাল তো এটিকে অগঠনতান্ত্রিকই বলে দিলেন, ‘গঠনতন্ত্রের কোথাও বোর্ডকে এ ধরনের কোনো অধিকার দেওয়া নেই।’ তবে বিসিবি প্রধান নির্বাহী আবার বলছেন এর উল্টোটা, ‘আমাদের সেই অথরিটি আছে। দল দুটিকে নিলামে তুলে বিক্রি করার প্রক্রিয়াটি আমরা আইনি পরামর্শ নিয়েই সেরেছি।’ প্রক্রিয়া যেভাবেই সারুন না কেন, বিসিবির এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের ঝড় তবু থামার নয়!

যেমন প্রশ্ন উঠেছে প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেটারদের টাকা না দেওয়া অন্য ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা কেন নেয়নি বিসিবি? ইকবালও সেটি করতে বাকি রাখলেন না, ‘ভিক্টোরিয়া এবং ব্রাদার্সের মতো দলের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও তো বিসিবিই পরিশোধ করছে। তাহলে ওই দল দুটিকে কেন নিলামে তোলা হলো না?’ নিজাম এই প্রশ্নের জবাব দিলেন এভাবে, ‘অন্য দুই ক্লাব বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিতই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। কেসিএ এবং সিসিএস সেটি করেনি। বা করলেও তাদের জবাব বিসিবির কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।’

বিসিবি প্রধান নির্বাহীর এই বক্তব্যও উড়িয়ে দিলেন সিসিএসের ইকবাল, ‘গত ২৪ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে আমাদের কাছে পাওনা ৫৮ লাখ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের অনুরোধ জানায় বিসিবি। এর প্রেক্ষিতে আমরা ১ সেপ্টেম্বর আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে চিঠির জবাবও দিয়েছি।’ জবাবের কিছু অংশও তিনি তুলে ধরেছেন, ‘চিঠিতে এ বছরেরই ২ এপ্রিল লিগ পরিচালনা সংস্থা সিসিডিএমের সভার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই সভাতে বলা হয়েছিল লিগে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবকে বিপিএলের লভ্যাংশ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। এর সঙ্গে যাতায়াত ভাতা বাবদ বোর্ডের কাছ থেকে প্রাপ্য আরো লাখ চারেক টাকার কথাও উল্লেখিত ছিল।’

সেই সঙ্গে সময় চেয়ে কিছু সুবিধা দিতেও অনুরোধ করা হয়েছিল, ‘আমরা জানিয়েছিলাম, বিসিবি আমাদের কাছে ৪০ লাখ টাকা পাবে এবং দ্রুতই তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় সিসিএসের পক্ষ থেকে। ওই টাকাটা কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধাও চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এরপর আর কোনো সাড়াশব্দই নেই বিসিবির। হুট করে একদিন শুনি ক্লাব নিলামে তুলে বেচে দেওয়া হয়েছে।’ বিসিবি প্রধান নির্বাহী আবার তাঁর অভিযোগ এভাবেই খণ্ডন করতে চাইলেন, ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রেও ছাপা হয়েছে। কাজেই এটি বলার সুযোগ নেই যে প্রক্রিয়াটি গোপনেই সারা হয়েছে।’ অবশ্য গঠনতন্ত্রে তো নয়ই, এমনকি ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’-এর নিয়মাবলির কোথাও এটি উল্লিখিত ছিল না যে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যর্থ ক্লাবকে নিলামে তুলে বিক্রি করতে পারবে বিসিবি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, দুটি ক্লাব নিলামে বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে আনার প্রয়োজনই মনে করেনি বিসিবি, যদিও অকারণ অনেক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় প্রায় নিয়মিতই!

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: