পর্ণাবালা  | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

পর্ণাবালা 

26 April 2016, 12:12:14

সাঈদা নাঈম
সাঈদা নাঈম

সকালের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই সুপর্ণাবালার গলা শুকাইয়া কাঠ হইয়া যায়। কারণ, স্নান সারিবার পর থেকেই শুধাংশু র চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হইয়া যায়। শুধাংশু স্কুলের মাস্টারমশায়। তাও আবার জটিল অন্কের।
আর এইদিকে, সুপর্ণা নিরক্ষর। তাই সারাক্ষণ ভয়ে তটস্থ হইয়া থাকে। স্বামী দেবতা কখন অগ্নিমূর্তি ধারন করিয়া ঘাড় ধরিয়া বাহির করিয়া দেয়!
সুপর্ণা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবেমাত্র আসা যাওয়া শুরু করিয়াছিল, তখন ওর জন্মদাত্রী মাতা ওকে ছাড়িয়া পরকালে চলিয়া যান।
কিছুদিন যাইতে না যাইতেই সবাই বলিয়া কহিয়া ওর বাবার আবার বিবাহ দেন। নতুন মাতা পাইয়া প্রথমে সুপর্ণা খুবই আনন্দিত হইয়াছিল। কিন্তু তিনমাসও সেই আনন্দ ধরিয়া বান্ধিয়া রাখিতে পারিল না।
সুপর্ণা একদিন পড়তে বসিয়াছিল। নতুন মা কি যেন একটা কাজ করিতে কহিয়াছিল। সেই কাজটি না করার জন্য সুপর্ণার বাল্যশিক্ষা বইটি আনিয়া উনুনের ভিতরে গুজিয়া দিলেন। দাউদাউ করে বইটি জ্বলে উঠেছিল।
ইহার পর হইতে সুপর্ণাকে আর কেহ বিদ্যালয়েও যাইতে দেখে নাই। পড়তেও দেখে নাই। নতুন মায়ের কড়া আদেশ ছিল,
এখানে খাইতে থাকতে হইলে বইয়ের পাঠ চুকাইতে হবে।
বাবার কাছে গিয়ে আকুতি করিয়াছিল। বাবা একটা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাবা চলে গেলে ভগবানের কাছে। আর নতুন মা তখন আট মাসের পোয়াতী।
কি আর করিবে সুপর্ণাবালা! নতুন মায়ের শর্ত মানিয়া এই ছোট্ট বয়স থাকিয়াই মায়ের সেবা যত্ন শুরু করিল। মনের ভিতরে যে দুঃখ ছিল তাহা চাপিয়া রাখিল।
নতুন মায়ের একটি পুত্রসন্তান হইলো। সেই কি আনন্দ সবার!
সাথে সুপর্ণাবালার ও। ভাই হইয়াছে। নতুন মায়ের বাড়ির লোকেরা এসে নিচু স্বরে শাসাইয়া যায় ওকে। ওর নতুন মায়ের যেন কোন অযত্নি না হয়।
রাম, রাম! কি বলো গো তোমরা আমার মায়ের কোনো অযন্তি হইবে না।
সবাই চলে যায়। নতুন মায়ের সেবা যত্ন করিতে করিতে একদিন সুপর্ণাবালা বেশ উপযুক্ত হইয়া যায়।
বাল্যশিক্ষা পুড়াইছিল নতুন মা। বলেছিলেন খাইতে ও থাকতে দিবে। কাজের বিনিময়ে এটুকু জুটেছিল ওর ভাগ্যে। ভাইটি ও বড় হইয়াছে। নাম রাখিয়াছে অরবিন্দ।
দেখতে দেখতে এতগুলো বছর কাটিয়া গিয়াছে যে, অরবিন্দ এখন কলেজে পড়ে। একমাত্র ভ্রাত্রিকে খুবই ভালোবাসে। মা যে ওকে খাটায় এটা বুঝিতে পারে।
চারপাশে কানাঘুষা শুরু হইয়া গেছে সুপর্ণবালাকে নিয়ে। বিবাহের বয়স যে পারে হইয়া যাচ্ছে!
কি রে অরবিন্দ বোনকে রাখিয়া দিবি নাকি!
কিন্তু বিবাহের চেষ্টা করিয়াও কোনো লাভ হইতেছা না। একে তো বয়স বাড়িয়া গিয়াছে তারউপর পড়াশোনা তো করেই নাই।
ভাইটি বোনের জন্য হাল ছাড়ে না। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করিতে থাকে।
ওর বাবার সম্পত্তি ছিল প্রচুর, যদি বোনকে বেশকিছু সম্পত্তি পন দিয়া বিবাহ দেয়া যায়!
অনেকেই তো করিতেছে এমন। তাছাড়া সুপর্ণবালা দেখতেও বেশ সুন্দরী, সংসারী। যেন মা লক্ষী।
কাহারো না কাহারো চোখে পড়িবে। ভাইয়ের আকুতি ভগবান শুনিয়াছেন।
শুধাংশুর মাতা আসিয়াই সুপর্ণাবালাকে পছন্দ করিয়া ফেলিলেন। কারণও ছিল। দশ বিঘা জমি বিবাহের পন হিসাবে ছিল। 
দিনক্ষণ দেখিয়া বিবাহ সম্পন্ন হইলো। শুধাংশু পাত্র হিসাবে বেশ ভালো।
সুপর্ণাকে বিবাহ করিতে অমত করে নাই। মায়ের সাথে তর্ক করিয়াছিল পন নিবে না। মা হাল ছাড়েন নাই।
বিবাহ হইলো। কিন্তু সুপর্ণাবালার ভয় কাটিল না। অন্কের মাস্টার তাকে বিবাহ করিয়াছে অথচ সে একটা বাক্য শুদ্ধ লিখিতে পারে না। সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকে।
শুধাংশু যে রাগী ইহা সুপর্ণা বুঝতে পারিয়াছে। তাই তাহার সামনে কম থাকে।
ভালোবাসার জন্যও তো সময় লাগে। ঝট করে একজনের প্রতি আরেকজনের ভালোবাসা জন্ম নেয় না। শুধাংশুর বেলায় এর ব্যাতিক্রম নয়।
একদিন সন্ধ্যায় সুপর্ণাকে কাছে ডাকিয়া জানতে চাহিল :
:আমাকে তুমি এতো ভয় পাও কেন?
:সুপর্ণা ভয়ে ভয়ে বলিতে লাগিল, আপনি কত পন্ডিত মানুষ। আর আমি …
: তোমার এই ভাবিয়া নিজেকে গুটাইয়া রাখার দরকার নাই। পড়ালেখা হয় নাই, তোমার কপালে ভগবান লেখেন নাই। তোমার তো কোনো দোষ নাই! আমার পাশে আসিয়া বসো।
আজ ভরা পূর্ণিমা। তুমি আর আমি মিলিয়া সারারাত চাঁদ দিখিবো। দেখিয়াছো আগে কখনও?
সুপর্ণা মাথা নাড়ায়, না।
:তাহলে যাও, একটা পাটি বিছাইয়া দাও উঠানে । দুইজনে বসিয়া আমাদের জীবনের প্রথম পূর্ণিমা দেখিবো। আমিও আগে দেখি নাই।
সুপর্ণার ভেতর থেকে মেঘ সরিতে লাগিল। এতদিনে যা পায় নাই। তা বুঝি আজ হইতে পাইবে। স্বামী তাহাকে অপছন্দ করে না। এটুকু সে বুঝিতে পারিয়াছে।
ভগবানের কাছে গিয়া নিজের আনন্দের কথা জানাইয়া জোৎস্না দেখার আয়োজন করিতে লাগিল। আর ভগবানকে বলিয়াছে,
ভগবান আমাকে অমাবশ্যা দেখাইওয়া না।
অন্কের মাস্টারবাবুকে নিয়া সারাজীবন যেন জোৎস্না দেখতে পারে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x