পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবনা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবনা

3 May 2018, 12:42:55

আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করি। অভিভাবগণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন আঁকেন তাদের মন মন্দিরে। সেই স্বপ্নের চিত্রাঙ্কন প্রায়শই আমাদের ব্যাখ্যা দেন।হয়তো অবাক হবেন! কিংবা শুনে কর্ণকুহরে অঙ্গুলি প্রবেশ করাবেন। এগুলো কি শুনছি…!!??
বাস্তবতা অনেক কঠিন।সন্তানের বিলাসি সাধ পূরণে তাকে দেয়া স্মার্টফোনটি আপনার সারা জীবনের কান্না হয়ে যেতে পারে…
আমরা গভীরভাবে অবলোকন করেছি, যাদের আচরণগত অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে,তাদের প্রত্যেকে স্মার্টফোন, লেপটপ ব্যবহার করছে।

প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সমাজের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনসহ কিছু মনস্তাত্ত্বিক এবং আচরণগত পরিবর্তনও লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার একটি স্কুলে মোট ৩০ জন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্লাসরুমে বসে পর্নোগ্রাফি দেখে এরকম ২৫ জনের মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি পাওয়া যায়। অপরদিকে, ১০০ জন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ৮৬ জন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, যাদের মধ্যে ৭৬ জন পর্নোগ্রাফি দেখে। ফলে তাদের আসক্তির মাত্রা বেড়ে চলছে পাশাপাশি লেখাপড়ায় অমনোযোগীর সংখ্যাও লক্ষণীয়। কিছু বিকৃত রুচিহীন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, মিউজিক ভিডিও, পর্নোগ্রাফি কিশোর ও যুবকদের খারাপ কাজে উদ্দীপনা তৈরির পাশাপাশি অনুকরণে উৎসাহ দেয়।

মানুষের জীবনযাত্রার মান সহজ ও স্মার্ট করার পেছনে ইন্টারনেট, ইউটিউব, ভাইবার, ফেসবুকসহ প্রযুক্তির আরো অনেক মাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও এর আবার বিপরীত ভূমিকাও লক্ষ করা যায়; যা যুবসমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইন্টারনেট, ইউটিউব, ভাইবার, পর্নোগ্রাফি আসক্তিতে উন্নত দেশগুলোর প্রায় ৬২ শতাংশ যুবসমাজ (১২-১৬ বছর) যৌন হয়রানি ও ধর্ষণসহ বড় বড় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া পর্নোগ্রাফিসহ আরো অন্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাংলাদেশের যুবসমাজকেও অবক্ষয় ও নানাবিধ বিশৃঙ্খলাও গ্রাস করবে।

✔✔সমাজ বিজ্ঞানীদের ভাবনাঃ

এমন প্রশ্নে সমাজ বিজ্ঞানীরা দায়ী করছেন মোবাইল ফোনকে। অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহারের পরিমাণও কম নয়। খুব অল্প বয়সে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রযুক্তি চলে আসায় তারা বুঝতে পারেনা এর সঠিক প্রয়োগ কী। আর তাই ক্রমেই বিপদগামী হচ্ছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের প্রধান মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, ‘পর্নোগ্রাফি আসক্তিসহ প্রযুক্তির অপব্যবহারের জন্য সবচেয়ে দায়ী মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা। তাছাড়া বাবা-মায়েরা সন্তানদের বদ্ধ রুমে কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেন। এর ফলেও তারা পর্নোগ্রাফিগ্রাফিতে বেশি আসক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার বলেন, ‘মাদক যেমন শরীরের ক্ষতি করে তেমনি পর্নো আসক্তি আমাদের শিশুদের চিন্তার জগতকে নষ্ট করে। স্বাভাবিক চিন্তা শক্তি ব্যাহত করে। একটা প্রজন্মকে চিন্তার জগতে শেষ করে দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকর অস্ত্র আর হতে পারে না।’

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা মাদকাসক্তদের চেয়েও বেশি ঝুঁকিতে আছে। প্রমাণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভার বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে পর্নোগ্রাফির আসক্তি হেরোইনের মতোই। শুধু প্রয়োগটা ভিন্ন। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের মস্তিষ্কে মাদকাসক্তদের মতোই নেশা কাজ করে। মাদক গ্রহণের ফলে আসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের যে অংশে অনুভূতি কাজ করে, পর্ন দেখার ফলে ঠিক সেই অংশই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। । মাদকাসক্তদের যেমন স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে, বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা নেমে আসে, তেমনি পর্নো আসক্তরাও ধীরে ধীরে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে এবং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফি আহমেদ বলেন, কোনো সমাজ বা সভ্যতাকে আক্রান্ত করতে হলে তাদের শিশু কিশোরদের টার্গেট করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস বা মাদকের মতো পর্নোগ্রাফিগ্রাফিতে শিশু কিশোরদের আসক্ত করাও তার একটি ধারাবাহিকতা পদক্ষেপ মাত্র। শিশু কিশোরদের পর্নোগ্রাফি সহ নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা সচেষ্ট হবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।

সন্তান আপনার এই সমৃদ্ধ আগামীর কাঙ্খিত মানুষ হিসেবে গড়ার দায়িত্বও আপনি এড়াতে পারেনা। এই জাতির জীবনী শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের পরিচর্যা করি, যত্ন নিই। নৈতিক শিক্ষার হাতেখড়ি দিই। নচেৎ এই জাতি স্বকীয়তা নিয়ে টিকে থাকতে পারবে না।
আসুন এই প্রজন্মের মস্তিষ্কের পচনরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
আফজাল হোসাইন মিয়াজী
(শিক্ষক, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী)

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x