পাওয়া গেছে নির্বাচন কমিশন! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা

পাওয়া গেছে নির্বাচন কমিশন!

30 January 2017, 11:44:15

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা সার্চ কমিটির। সার্চ কমিটি নাম দেবে, সেখান থেকে কমিশন গঠন করা হবে, এটাই ঠিক ছিল। কিন্তু সার্চ কমিটি নাম না দিয়ে পরামর্শ করার জন্য ডেকেছে সমাজের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। এই ১২ জনের মধ্যে কেউই সমাজে বিতর্কিত মানুষ নন। অনেকে আবার খুবই গ্রহণযোগ্য। এটিই সার্চ কমিটি সম্পর্কে মানুষকে আশাবাদী করে তুলতে পারে।

সার্চ কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই এই ১২ জনকে বাছাই করার জন্য। এর মধ্যে আছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারক বিচারপতি আবদুর রশিদ। তিনি অত্যন্ত উঁচু মানের বিচারক ছিলেন, বিচারকের চেয়ারের সম্মান রেখেই তিনি কাজ করেছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সাধারণত দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেয়ে থাকেন। সার্চ কমিটি তারপরও এমন দুজন উপাচার্যকে পরামর্শের জন্য ডেকেছেন, যাঁরা তুলনামূলকভাবে অন্য বহু উপাচার্যের চেয়ে যোগ্য, প্রাজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য।

সার্চ কমিটি ২০০৮ সালের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনকারী তিনজন নির্বাচন কমিশনারকে ডেকেছেন পরামর্শের জন্য, এটিও একটি ভালো উদ্যোগ। আমার আরও ভালো লেগেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কাশেম ফজলুল হক, তোফায়েল আহমেদ ও বদিউল আলম মজুমদারের মতো নিরপেক্ষ ইমেজের মানুষকেও পরামর্শের জন্য ডাকার কারণে।

সার্চ কমিটির আন্তরিকতা তাই প্রশংসনীয়। আন্তরিকতা আছে বলেই তারা এমন ১২ জনকে বাছাই করতে পেরেছে, যাঁদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত যোগ্য। তাঁদের কারও কারও আওয়ামী লীগ বা বিএনপির প্রতি কিছুটা দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে তাঁদের দায়িত্ববোধ এই দুর্বলতাকে ছাপিয়ে যাওয়ার মতো।

আমি মনে করি, পরামর্শের জন্য ডাকা এই ১২ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তাঁদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের মতো একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব আগে পালন করেছেন, এই বয়েসেও তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তাঁর পিএইচডি গবেষণার কাজ করে চলেছেন। রয়েছেন বিচারপতি আবদুর রশিদ ও পুলিশের সাবেক আইজি নুরুল হুদা, যাঁদের পেশাগত সুনামের পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে সদস্য হিসেবে নাগরিক সমাজের একজন হিসেবে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বদিউল আলম মজুমদার অথবা স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদও থাকতে পারেন।

আমার কথা হচ্ছে, যাঁদের পরামর্শ গ্রহণযোগ্য বলে সার্চ কমিটি মনে করছে, তাঁরা নিজেরাই নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে তরুণতর অথচ অভিজ্ঞদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তা যৌক্তিক হবে বলে আমার বিশ্বাস।

সার্চ কমিটির উচিত হবে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য পাঁচ-ছয়টির বেশি নাম না পাঠানো। কারণ, বেশি নাম পাঠালে সরকারের পক্ষে তার নিজস্ব পছন্দ বাস্তবায়নের সুযোগ বেশি থাকে। বেশি নাম পাঠালে অহেতুকভাবে বেশি সদস্যের একটি কমিশন গঠন করার অবকাশও থাকে। এ দুটোর কোনটিই কাম্য নয়।

সার্চ কমিটি গ্রহণযোগ্য কিছু ব্যক্তির নাম পাঠালে এবং সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেই কি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ে যাবে? না, হবে না। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া। নির্বাচনের সময় যদি সরকারপ্রধানের অফিস নির্বাচন কমিশনের অফিস হয়ে যায়, তাহলে কমিশনের আসলে বেশি কিছু করার থাকে না। আমরা অতীতে তা দেখেছি।

আমি তবু মনে করি, নির্বাচন কমিশনে যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকা ভালো। এমন ব্যক্তিরা কমিশনে থাকলে যা ইচ্ছে তা চাপিয়ে দেওয়া সহজ হয় না। চাপিয়ে দিলেও তাঁরা প্রতিবাদ করেন। মানুষ তখন অন্তত বুঝতে পারে কোন কাজটা কমিশনের ইচ্ছেয়, কোনটা সরকারের ইচ্ছেয় হচ্ছে।

সার্চ কমিটি পরামর্শের জন্য যে ১২ জনকে বেছে নিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম চেয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি না করে এই ১২ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগটি শুরু করতে পারে সার্চ কমিটি। এই উদ্যোগ অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: