পাবলিক পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে প্রশ্নপত্র ছাপা হবে | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / নাঙ্গলকোট / বিস্তারিত

পাবলিক পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে প্রশ্নপত্র ছাপা হবে

4 March 2017, 7:05:04

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে একাধিক সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের বর্তমান প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে ফেলবে এ মন্ত্রণালয়। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা থেকেই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ‘একসেস টু ইনফরমেশন’ (এটুআই) প্রকল্পকে আগামী তিন দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। 

সচিবের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা থেকেই ডিজিটালি প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আগে কোনো প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে না। পরীক্ষার দিন সকাল ৭টায় শিক্ষা বোর্ডগুলো বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশন করাবে। চারটি সেটে এই প্রশ্ন করা হবে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে সেট নির্বাচন করে বোর্ড চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট সেটের প্রশ্নটি নিজ বোর্ডের অধীন সব পরীক্ষা কেন্দ্রে ই-মেইল করে পাঠাবেন। কেন্দ্র সচিব শুধু প্রশ্নটি খোলার কোড জানবেন। তিনি প্রশ্নপত্র ই-মেইল থেকে ল্যাপটপে উন্মুক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রণ করবেন। এরপর কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে। ডিজিটাল এ ব্যবস্থায় প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি মডেম এবং একটি আইপিএস সরবরাহ করতে হবে। 

গতকালের সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য এখনই এ পদ্ধতি কার্যকর করা সম্ভব কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। সব স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে কি-না, তা-ও নিশ্চিত নয়। আবার সংযোগ থাকলেও প্রশ্ন মুদ্রণের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বা সংশ্লিষ্ট এলাকায় লোডশেডিং থাকলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। আবার দেশের প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ই-মেইল ব্যবহারকারী বা আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষক আছেন কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব সভায় বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার আর মাত্র ৬ সপ্তাহ বাকি রয়েছে। নতুন এ পদ্ধতির কোনো নমুনা পরীক্ষা বা পাইলটিং করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।’ অবশ্য এ সভায় উপস্থিত অপর এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘এটা করা খুব কঠিন কিছু নয়। এ ছাড়া এ পদ্ধতি কার্যকর করলে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সুযোগ থাকবে না। বর্তমান পদ্ধতিতে প্রায় এক মাস জেলা ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ করতে হয়। সেখান থেকে প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাড়ে ৯টায় প্রশ্ন ছাপা শুরু হবে, ততক্ষণে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে নিজ নিজ সিটে বসে পড়বে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের প্রশ্ন ছড়ানোর খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।’ 

উল্লেখ্য, এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২ এপ্রিল রোববার। দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষাসূচি কমিয়ে এনে এবার ৪৪ দিনে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছরের পরীক্ষাসূচি ছিল ৬৭ দিনের। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সময়সূচি 

অনুযায়ী, ২ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ১৬ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত। শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ায় গত কয়েক বছর ওইদিন পরীক্ষা নেওয়া হতো না। এবার শনিবারও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়। আবার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অনেকদিন ক্লাস বন্ধ থাকে। এতে ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীদের। 

সূত্র জানায়, এবার চলমান এসএসসির মতো এইচএসসিতেও প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ৩০ নম্বরের এমসিকিউ অংশের সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের সময় আড়াই ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়ে পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ অংশের সময় ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এমসিকিউ ও সৃজনশীল উভয় অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে সাদা উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনীর ওএমআর শিট দেওয়া হবে।

গতকালের সভায় অংশ নেওয়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘সভায় বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটুআইকেও কিছু আইডিয়া ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের আইডিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। এরপর আমরা এ নিয়ে বড় একটি সভা করব। 

সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘ডিজিটালি প্রশ্নপত্র মুদ্রণ করে আগামী এইচএসসির পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করতে সভায় আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

সভায় আরও অংশ নেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান, যুগ্ম সচিব সালমা জাহান, এটুআইয়ের বিশেষজ্ঞ আনিস চৌধুরী প্রমুখ।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: