পীরতন্ত্রের ইতিবৃত্ত-এম. এ.সুফিয়ান রাসেল | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

পীরতন্ত্রের ইতিবৃত্ত-এম. এ.সুফিয়ান রাসেল

1 November 2016, 2:46:11

লেখক ও সাংবাদিক

বর্তমান ভারত উপমহাদেশে যে তাছাউফ বা পীরতন্ত্রকে ইসলাম প্রচারের ও আত্নশুদ্ধির অন্যতম মাধ্যম মনে করা হয় ,এই তন্ত্রটি ইসলামের স্বর্নযুগে ছিলনা ।আজও আরব দেশগুলিতে পীরতন্ত্র বলতে কিছুনেই । এই তন্ত্রটি রসুল সঃ এর ইনতেকালের অনেক অনেক বছর পর ভারতে জন্মগ্রহন করেছে ।যাদেরকে এই তন্ত্রের জন্মদাতা মনে করা হয় তারা সবাই আরবের এবং তাদের অনেকেরই জন্ম রসুল সঃ এর ইনতেকালের পাচঁ থেকে ছয়‘শ বছর পর ।

 

যেমন মনে করা হয় ,কাদেরিয়া তরিকার প্রবর্তক আঃ কাদের জিলানী রহঃ তার মৃত্যু-৫৬১ হিঃ । রিফায়ী তরিকার প্রতিষ্টাতা আহমাদ ইবনে আলী রিফায়ী রহঃ তার ইনতেকাল-৫৭৮ হিঃ । সোহরোয়ারদী তরিকার প্রতিষ্ঠাতা শিহাব উদ্দীন সোহরোয়ারদী রহঃ যার ইনতেকাল ৬৩২ হিঃ ।চিশতিয়া তরিকার প্রচারক মুঈনুদ্দীন চিশতি রহঃ তার ইনতেকাল ৬৩৩ হিঃ ।নকশাবন্দিয়া তরিকার প্রবর্তক বাহাউদ্দীন নকশাবন্দী যার ইনতেকাল ৭৯১ হিঃ ।

 

এই লোকগুলি সবাই স্ব স্ব জামানার শ্রেষ্ট আলেম,আবেদ,যাহেদ ও খতিব ছিলেন ,কিন্তু কেহুই পীর ছিলেন না ।সমসাময়ীক জামানার লোকেরা তাদেরকে পীর বলত না ।ভারত উপমহাদেশের লোকেরা তাদেকে পীর বানায়ে রেখেছে ।বাস্তব সত্য হলো এই মহামনিষীরা কখনও পীর বলে নিজেদের পরিচয় দেননি এবং প্রচলিত প্রথায় কখনও কাউকে মুরীদ করেছেন এরুপ কোন প্রমানও নাই ।

 

যেমন শিয়ারা দাবী করে আলী রাঃ হাসান রাঃ হোসাইন রাঃ যয়নুল আবেদীন রহঃ জাফর সাদেক রহঃ মুসা কাজেম রহঃ তকী আলী রহঃ নকী আলী রহঃ প্রমুখ তাদের ইমাম । বাস্তব সত্য হলো এই মহান লোক গুলি সকলেই ছিলেন স্বীয় জামানার শ্রেষ্ট আলেম শ্রেষ্ট ফকিহ । কিন্তু কেহুই শিয়া ছিলেন না । তারাঁ কেহ কখনও নিজেদের কে শিয়া মতালম্ভী বলে দাবী করেন নি ।এরা সকলেই ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমাম ,এরা কেন গোমরাহ শিয়াদের ফেরকাভুক্ত হতে যাবেন ।শিয়ারা যেমন এই সকল মহামনিষীদের নিজেদের ঈমাম বলে দাবী করে তাদের দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা করছে, পীর পন্থিরাও ঐ সকল মহামনিষদিেরকে তাদের পীর বলে দাবী করে নিজেদের বাতিল মতবাদকে সঠিক প্রমান করার হীন চেষ্টা করছে ।

 

পীর-মুরীদির প্রবক্তারা তাদের এই বিনা পুজির ব্যবসা কে চালু করার জন্যে ,তাদের সিলসিলা স্বীয় জামানার বড় আলেম আঃ কাদের জিলানী রহঃ পর্যন্ত নিয়ে গেছে ,এবং তাকেই বড় পীর লকব দিয়েছে । কিন্তু যখন দেখা গেল আঃ কাদের জিলানী রহঃ ৫৬১ হিঃ ইনতেকাল করেছেন ফলে তাদের পীর তন্ত্রের সিলসিলা ইসলামের স্বর্নযুগ পর্যন্ত না পৌছায় ,বেদাতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । তখন তারা এই বেদাতকে সুন্নত প্রমান করার জন্যে দাবী করে বসল ,এই সিলসিলা বিশিষ্ট তাবেঈ হাসান বসরী রহঃ আলী রাঃ এর মাধ্যমে রসুল সঃ থেকে লাভ করেছেন ।হাসান বসরী রহঃ আলী রাঃ থেকে এই চিশতিয় ও অন্যান্য তরিকার দিক্ষা লাভ করেছেন ,এই দাবীটি অমুলক ও অসত্য ।

 

যুগশ্রেষ্ট তাবেঈ হাসান বসরী রহঃ স্বীয় জামানার শ্রেষ্ট আলেম ও খতিব ছিলেন একথাটা যেরুপ অকাঠ্য সত্য ,তিনি আলী রাঃ থেকে তরিকতের কিলাফত লাভ করেছিলেন , একথাটাও সেরুপ নির্ভেজাল মিথ্যা।ইবনে দাহিয়া,ইবনে সালাহ ,ইবনে হাজর,সাখাবী,মোল্লা আলী কারী প্রমুখ মোহাদ্দিস গন এই কথাকে ভিত্তিহীন ও বাতিল বলেছেন।

 

ইতিহাস সাক্ষী হাসান বসরী রহঃ ২২ হিঃ সনে মদীনায় জন্মগ্রহন করেন । ৩৫ হিঃ সনে আলী রাঃ যখন মদীনা ছেড়ে কুফায় চলে যান তখন হাসান বসরীর রহঃ বয়স ১৩ বছর । ৪০ হিঃ সনে আলী রাঃ কুফায় শহীদ হন ,এর মধ্যে আলী রাঃ কখনও মদীনায় আসেননি আর হাসান বসরীও রহঃ কুফায় যাননি ।অতএব হাসান বসরীর পক্ষে আলী রাঃ এর খিলাফত ও খিরকা লাভ অবাস্তব ,অসম্ভব ।হাসান বসরী রহঃ আলী রাঃ থেকে হাদীস শুনেছেন বলে যা কথিত আছে সবই অনুমান নির্ভর ,অবাস্তব ।

 

কথিত পীর সাহেবেরা হাসান বসরী ও রাবেয়া বসরী কে নিয়ে যে সকল কল্পকাহীনি আবিষ্কার করে মানুষদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতেছে তাও শতভাগ মিথ্যা। ইতিহাস সাক্ষী হাসান বসরী রহঃ ইনতেকাল করেন ১০৯ হিঃ,আর রাবেয়া বসরী জন্মগ্রহন করেন ১০০ হিঃ । ১০/১১ বছরের এক নাবালিগা বালিকাকে নিয়ে মারেফাতের এতো কাহীনি আবিষ্কার করা অবাস্তব ।

 

প্রচলিত পীর-মুরীদি ইসলামের স্বর্নযুগে ছিল না ,এর জন্ম ভারতে,আরবে সে কালেও ছিলনা ,একালেও নাই ।হকপন্থী উলামায়েকেরামদের উচিত এই প্রথাকে না বলা ।আল্লাহ তায়ালা হাটহাজারী মাদ্রসার মুফতি আজম ,মরহুম মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেবকে সুউচ্চু সন্মান দান করুন ,এই মহান ফকিহ “রাহে নবুওয়াতের” দাওয়াত দিয়ে কৌশলে “রাহে বেলায়াতের” (পীরতন্ত্রকে ) বেদাতী রাস্তা থেকে মানুষদেরকে সড়ানোর অক্লান্ত চেষ্টা করে গেছেন ।যারা নিজেদেরকে মুফতি আজম সাহেবের অনুসারী মনে করেন, তাদের উচিত মরহুম মুফতি সাহেবের অনুসরনে আল্লার বান্দাদেরকে কোআন-হাদীসের আলোকে আত্নশুদ্ধির সঠিক রাস্তা বাৎলে দিয়ে পীর তন্ত্রেও মরন ব্যধি থেকে উপমহাদেশের মুসলমানদেরকে রক্ষাকরার প্রানন্তকর চেষ্টা করা ।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: