পুঁথি কথক জহিরুল হক | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

পুঁথি কথক জহিরুল হক

14 June 2017, 8:44:07

আজিম উল্যাহ হানিফ
সুযোগ পেলেই বসে পড়তেন পুঁথি নিয়ে, প্রচুর পড়তেন পুঁথি, সংগ্রহ করতেন ও। শুনাতেন সবাইকে। চাকুরি জীবনে গ্রামের বাড়িতে আসলে স্ত্রী ও সন্তানদের পুঁথি শুনিয়ে আনন্দ ও মজা করতেন। চাকুরি থাকাকালীন দীর্ঘকাল সহকর্মী ও সহযোদ্ধাসহ প্রতিবেশীদের নিয়ে সময় করে প্রতিনিয়ত রুটিন মাফিক পুঁথি নিয়ে আড্ডা,গল্প ও কথা বলতেন তিনি। তিনি হলেন সৎ যোগ্য ও দক্ষ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মো: জহিরুল হক। বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট দক্ষিন ইউনিয়নের পিপড্ডা গ্রামে। বাবা আবদুল আলী ও মা আয়েশা বেগমের ২ ছেলে ৪ মেয়ের মধ্যে জহিরুল হক ছিলেন তৃতীয়। তৎকালীন পাকিস্তান আমলের শুরুতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পাশ করলেও বেশিদূর লেখাপড়া এগোয়নি। তবে সরকারি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকরিতে যোগ দেন। চাকুররত অবস্থায় দেশ স্বাধীনের পূর্বে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করতেন চাকুরি। চাকুরি অবস্থায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন সততার সহিত চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, বাহাদুরাঘাট, ঢাকা কমলাপুর ষ্টেশনসহ দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে ষ্টেশনে। সারাজীবন সরকারের অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। কখনো মিথ্যা ও দুনীর্তির আশ্রয় নেননি। পরিবারে ছেলে মেয়ে আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীসহ সবার কাছে ছিলেন ভালো মানুষ হিসেবে। সবর্দা হাসি খুশিভাবে চলতেন, কথা বলতেন ও মেহমানদের সমাদর করতেন। ব্যক্তি জীবনে ছিলেন ৬ মেয়ে ৩ ছেলের গর্বিত জনক। ছেলেরা হলেন মো: রবিউল হক, ডা. মো: মোজাম্মেল হক , নাছিমা বেগম, তাহমিনা আক্তার, এইচ এম আজিজুল হক, নাজমা আক্তার, রুজিনা আক্তার, রুবিনা আক্তার, মর্জিনা আক্তার। সন্তানেরা ও বাবার আদর্শ অনুসরণ করে চলছেন। জীবনে কখনো সিগারেট খাননি, চাও তেমন খেতেন না। দোকানে গিয়ে আড্ডা দিতেন না তেমন একটা, তবে মানুষের সাথে মিশতে পারতেন সহজে, সৎ পরামর্শ দিতেন মানুষকে। দ্বীনের দাওয়াত ও নামাজের কথা বলতেন। মানুষের বিপদে আপদে এগিয়ে যেতেন সবর্দা। মানুষের ক্ষতি করতে চাইতেন না কখনো। চাকুরি জীবনে রয়েছে বেশ কিছু স্মৃতি,যা তিনি সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করে গেছেন। পুঁথি কথক ছাড়াও তিনি পুঁথির উপর লেখালেখি করতেন ও নিজের আত্মজীবনী লিখে গেছেন তিনি। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার জগতের মানুষদের সাথেও ছিল সু-সর্ম্পক। সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিল তার। তাইতো নাঙ্গলকোট-লাকসাম,কুমিল্লা,চট্টগ্রাম,ঢাকাসহ নানান জায়গার কবি-লেখকদের সাথে সু-সর্ম্পক করে নিতে পেরেছেন। উঠা বসা ছিল টুপি পরা দাড়ি রাখা লোকদের সাথেও। পড়তেন নামাজ। নামাজ কুরআন হাদীস নিয়ে ও আলোচনা করতেন। বাড়িতে পুঁথি পাঠের পাশাপাশি বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতেন। হাতের থাকতো তসবিহ। আশেপাশে মানুষের দু:সময়ে এগিয়ে যেতেন ঠিকই,তবে অতিরিক্ত করা কিংবা থানায় পর্যন্ত গড়ানো কাজকে কখনো প্রশ্রয় তো দিতেন না, পছন্দ ও করতেন না। তিনি বেশকিছু ছড়া,কবিতা ও রম্য লেখা লিখে গেছেন। ২০১৫ সালের ১১ জুলাই তার মৃত্যুর পর পরিবারসহ শুভাকাংখীও সাহিত্য জগতে তার বন্ধু মহলে লেখা সংগ্রহের বিষয়টি নতুন করে দেখা দেয়,তখন থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে জহিরুল হকের ছেলে এইচ এম আজিজুল হক বাড়িসহ চাকুরিস্থলে যোগাযোগ করা শুরু করেছেন,এতে কিছু পুঁথিও লেখা সংগ্রহ করা হয়েছে,আরো কিছু সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তবে সাহিত্য মহলে তার ছোট্ট পরিসরে একটি অবস্থান থাকায় অনেকেই জানিয়েছেন ‘জহিরুল হকের নামে একটি ফাউন্ডেশন বা প্রতিষ্ঠান করা হোক। এতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে, গবেষনা করতে পারবে।’

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: