পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে ইমামের ছেলেসহ তিন শিশুর লাশ উদ্ধার।

31 August 2019, 12:23:19

মতলব পৌরসভার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে গতকাল ৩০ আগস্ট জুম’আর নামাজের পর ইমামপুত্র আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫), ইব্রাহিম খলিল (১২) ও রিফাত হোসেন (১৫) নামে যেই মসজিদের ইমামের রুমে এই ঘটনা ঘটে সেই ইমামের ছেলেসহ তিন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে যানা যায় ওরা ছিল মতলব দক্ষিন ভাঙ্গারপাড় গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্র। শুক্রবার জুমুয়ার নামাজের সময় নামাজ আদায় করার জন্য তারা ৩জন এক সাথে মতলব দক্ষিন কলাদীর মসজিদে হাজির হয় জুমআর নামাজ আদায় করার জন্য। জুমুয়ার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও দরুদ পাঠের পর মিস্টি বিতরন করা হয় মসজিদের সমস্ত মুসল্লিদের মাঝে। সে সাথে এই তিন শিশু মিস্টি/তাবারক গ্রহন করে তা সেই মসজিদের ভিতরেই তারা খেয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় তাদের পানির পিপাসা পায় এবং ইমাম সাহেবের শিশু ছেলে সহ ওরা তিনজন একত্রে ইমাম সাহেবের রুমে যায় পানি পান করার জন্য। এদিকে ইমাম সাহেব তখনও নিজ কক্ষে প্রবেশ করেনি। তারা সেখানে গিয়ে বোতল বর্তি পানি পেয়ে পান করতে থাকে মসজিদের ব্যাটারির জন্য রাখা এসিড পানি।

একে একে তারা পানি পান করার পর তিনজন একই সাথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। চলে যায় ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে পরপারে। এদিকে ইমাম সাহেব নিজ কক্ষে এসে দেখেন নিজ সন্তান সহ তিনজনের নিথর দেহ পরে আছে তার রুমের মেঝেতে। ইমাম সাহেব যানান তিনি নামাজের আগে তার ছেলেকে রুমের ভিতরে রেখে আসেন কিন্তু নামাজ শেষে দরজা বন্ধ দেখে ছেলেকে ডাকেন। কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খোলার পর এই অবস্থা দেখেন। তারপর তিনি চিৎকার দিলে উপস্থিত লোকজন এসে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হন।

অতঃপর মতলব দক্ষিন থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ, ওসি মহোদয়কে খবর দিলে তিনি সহ চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মহোদয় এসে ২শিশুকে মৃত দেখেন এবং ইমাম পুত্রকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু ঘটে। তারপর তিনটি দেহ মতলব দক্ষিন থানার উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে মৃত্যুর খবর সম্পূর্ন নিশ্চিত হন।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো তার সঠিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়নি। তদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে সে আশায় পরিবারের সদস্যরা অধির আগ্রহে রয়েছে কখন সন্তানের লাশ পাবে তারা। এদিকে মতলবের বাতাসকে ভারি করে তুলেছে এই মৃত্যুর করুন কাহিনি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: