প্রতিবাদের ভাষা গুলো আমরা ভুলে যাচ্ছি- এ,কে,এম মনিরুল হক

27 January 2020, 10:19:37

প্রতিটি সমাজে ভালো-মন্দ মিশে আছে।আদিম সমাজগুলো থেকে শুরু করে বর্তমান সমাজ এবং ভবিষ্যৎ সমাজ কাঠামো গুলোতে ভালোমন্দের বেশ রেষারেষি থাকবে।কিন্তু তার থেকে যেমন আদিম মানুষগুলো ভালোকে বেঁচে নিয়েছে এবং মন্দকে সমাজ থেকে প্রতিহত করেছে।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা তার খুব বিপরীত। রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন হানাহানি,রাহজানি,দুর্নীতি,ধর্ষণ,মাদকের ব্যাপকতা,যৌতুকের ভয়াবহতা, সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এর থেকে প্রতিকার পেতে হলে আমাদের প্রয়োজন সচেতনতা, ন্যায়ের পক্ষে থাকা,প্রতিবাদ করা।এখন প্রশ্ন হল প্রতিবাদের ভাষা কেমন হবে?কেমন হওয়া উচিত?আমরা যদি ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে দেখবো বাঙ্গালী জাতির স্বাধীকার আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। তারা কখনো আপোষ করেনি অন্যায়ের সাথে, ভয় করেনি বুলেটকে,সরে দাঁড়ায়নি রাজপথ থেকে।তাদের ছিলো দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততা যার কারনে দমে যায়নি অন্যায়ের কাছে।

তখন প্রতিবাদ হতো রাজপথে, মিছিলে, জনগণের দুয়ারে দুয়ারে। বুকে প্রতিবাদের ভাষা লিখে,ঝুলিয়ে তারা প্রতিবাদ করতো।প্লেকার্ড, পোস্টার, ব্যানার ছিলো তাদের প্রতিবাদের ভাষা।দেয়ালে লিখুন, চিত্রাঅঙ্কনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতো তাদের প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। মশাল মিছিল, নানান রঙ বেরঙের পোশাক ছিলো প্রতিবাদের ভাষা।

অথচ তুরণ সমাজ প্রতিবাদ করছে ফেসবুকে, ঘরে বসে।সারাদিন তারা অনলাইন থেকে প্রতিবাদের ভাষাগুলো না লিখে শুধু সহমত আর হোক প্রতিবাদের মধ্যেই সীমিত। হারিয়ে ফেলছে তারা স্বজাতির ইতিহাস, ভুলে যাচ্ছে তারা মানুষের পক্ষে দাড়ানো, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা, গরীব দুংখি,মেহনতি মানুষের মনের ভাষা।ইন্টারনেটে কানেকশন হয়ে তারা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতি যে তাদের নূন্যতম দায়বদ্ধতা আছে তার বোধগম্য মনে হয় নেই।

পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে সবার প্রয়োজন হয়না,একজনই যথেষ্ট। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন শান্তির বাণী নিয়ে পুরো পৃথিবীকে জয় করেছেন,আজও পৃথিবী বাসী তার আদর্শে অনুপ্রাণিত। পশ্চিম পাকিস্তানের জুলুমের বিপক্ষে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার সাহসিকতা এবং সততার মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পুরো জাতি তার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনে ঝাপিয়ে পড়ে।তাই একটি সমাজের অপসংস্কৃতি রুখে দিতে আপনি একাই যথেষ্ট। শুধু প্রয়োজন হিম্নত,সততা,সাহসিকতা এবং ভালোবাসা। তাইতো শিল্পী মশিউরের ভাষায় –

এসো সংগ্রামী মানুষের সারিতে,

আমাকেও রাখিও রহমান।

বর্তমান তরুন প্রজন্মের ভালোবাসা মিজানুর রহমান আজহারীর ভাষায় বলতে গেলে-

যুগ যামানায় পাল্টে দিতে চাইনা অনেকজন,

এক মানুষই আনতে পারে জাতির জাগরন।

সত্যের পক্ষে সবাই থাকতে পারে না। সত্যকে জয় করতে এবং পক্ষে থাকতে বড় হিম্মতের প্রয়োজন। এজন্য কবি আলমাহমুদ বলেছেন-

সত্যের সেনানীরা নিবো নাকো বিশ্বাম,

আমাদের সংগ্রাম চলবে অবিরাম। 

অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়।প্রিয়জন,পরিবার সব কিছুর উর্ধে গিয়ে আমাদেরকে সমাজ এবং রাষ্ট্রে কিছু উপহার দিতে হবে।যেনো আগামী বাংলাদেশ হয় তরুণদের একটি শান্তির আবাস। যেখানে তারা প্রতিবাদ করতে জানবে,প্রতিবাদ করতে শিখবে,প্রতিরোধ করতে পারবে সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতি।

আজকের সমাজ,পরিবার, রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে তাকালে মনে হয় যেনো আমরা সহমতের সভ্যতায় বাস করছি।কোন প্রতিবাদ নয়,কোনো প্রশ্ন নয়।নতজানু এবং আনুগত্য প্রকাশ করে টিকে থাকাই যেনো তরুনসমাজকে ধাবিত করছে।বলা হচ্ছে সময় এখন সহমত বলে টিকে থাকার।সাংবাদিক তুষার আব্দুল্লাহর ভাষ্যমতে-সহমতে ভাষছে দেশ।

এই যাবত একটি পরিচিতি শব্দ হলো হোক প্রতিবাদ।সবাই ঘরে বসে,ফেসবুকে, চুপেসারে অন্যের লেখা এবং প্রতিবাদকে কমেন্ট স্বরুপ ব্যবহার করে হোক প্রতিবাদ।অথচ যেখানে তার অভিমত প্রকাশ করার কথা,ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি ধার করার কথা,প্রকাশ্য কথা বলার কথা,নিজের উপস্থিতিতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কথা।অথচ সেখানে তারা নিশ্চুপ, একটি ভাষা ব্যবহার করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করতে চায়।এটা আমাদের জন্য ভয়াবহতা। এভাবে চলতে পারে না,চলতে দেয়া যায় না।তরুণদের আগামীর জন্য তৈরি করতে হবে।

তরুণরা আজ প্রিয় শব্দটিকেও সঠিক ভাবে ব্যবহার করছে না।চাটুকারিতা তাদেরকে এমন ভাবে ঘায়েল করেছে,যেনো নিজের আত্নমর্যাদাবোধ বলতে কিছু নেই।একজন মানুষের কতজন প্রিয় ভাই,প্রিয় নেতা হতে পারে বলেন?এগুলো কি আমাদের তরুণদের তৈলসমাধিতে ধাবিত করতেছেনা।কে শিখাবে তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে,নিজের আত্নমর্যাদাবোধ ধরে রাখতে,ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে।

একটি আত্নমর্যাদাবোধ জাতি এবং রাষ্ট্র গঠনে আমাদের উচিত প্রতিবাদের ভাষা জানা,প্রতিবাদ করতে শিখা,ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করতে জানা।নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাড়ানো। তাহলে সমাজে থাকবে না কোন অন্যায়,ভেদাভেদ। আমরা বিনির্মান করতে পারবো আগামীর ন্যায়ের,সাম্যর,মর্যাদাবোধ এবং লাল সবুজের বাংলাদেশ।।

লেখক-
নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: