প্রশাসনের উদাসীনতায় নাঙ্গলকোটে বাল্য বিয়ের ধুম!! | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

প্রশাসনের উদাসীনতায় নাঙ্গলকোটে বাল্য বিয়ের ধুম!!

8 August 2014, 6:29:52

নিজস্ব প্রতিবেদন:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় এখন বাল্য বিয়ের ধুম লেগেছে। আর উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করেছে বেসরকারী মানবাধিকার সংগঠন। অনুসন্ধ্যানে জানাযায়, মক্রবপুর ইউপির ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সাহেদাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে তাছলিমা আক্তার (১৪) সাথে পেরিয়া ইউপির শ্রীফলিয়া গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোতালেব হোসেনের বাল্য বিয়ে হয়। গত ৪ আগষ্ট হেসাখাল ইউপির হেসাখাল দক্ষিনপাড়া মাষ্টার আলী আহম্মদের বাড়ীর পাশে দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী আবদুল আজিজের মেয়ে তাছলিমা আক্তার (১৩) বাল্য বিয়ে সম্পূর্ন করা হয়েছে। বিয়ের কাবিন রেজিষ্ট্রির করেন ছাদেক কাজী একই ইউপির পাটোয়ার মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী পাটোয়ার গ্রামের প্রবাসী নুরুজ্জামানের মেয়ে কামরুন্নাহার (১৫) বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করা হয় পাশ্ববর্তি বাঙ্গড্ডা ইউপির এক জৈনিক ছেলের সাথে।

বিয়ের সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা আনজুমান বানু পুলিশ নিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু অভিভাবকরা প্রশাসনকে না জানিয়ে পরে গোপনে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করে। আদ্রা ইউপির দক্ষিন শাকতলী মোল্লাপাতান গ্রামের শাকতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী প্রবাসী আবদুর রহিমের মেয়ে রুপালী আক্তার (১৪) বাল্য বিয়ে সম্পূন্ন করা হয়। এই ভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় অশংখ্য বাল্য বিবাহ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে প্রশাসনের অনিহার কারনে বাল্য বিয়ে ধুম লেগে যায়। এ বিষয়ে এশিয়া ছিন্নমুল মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নাঙ্গলকোট শাখার সভাপতি এ,কে,এম জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মানবাধিকার কর্মীরা গিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু অভিভাবকরা একতা হয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করে। তিনি আরো জানান, বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ ও বাল্যবিয়ের অপরাধে বর ও কণের পক্ষেকে নগদ অর্থ দন্ড এবং ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়।

কিন্তু নাঙ্গলকোট উপজেলার প্রশাসনের এ ধরনের নজর না থাকায় বাল্য বিয়ে বৃদ্ধি পায়। যতগুলো বাল্য বিয়ে হয়েছে সবগুলো প্রশাসনকে জানিয়েছি প্রশাসন কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম পিপিএম জানান, বাল্য বিয়ের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী প্রশাসনের আমার আওতায় পড়ে না। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা আনজুমান বানু জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য যেখানে বাল্যবিয়ের খরব পেয়েছি সেখানে গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু অভিভাবকরা পরে আইনকে অমান্য করে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করে। নাম প্রকাশে অনুচ্ছক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাহী স্যার ছোট খাটো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাতে করে ছোট থেকে বড় ধরনের অপরাধগুলো বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু কিছু কিছু বাল্যবিয়ের বিষয়ে স্যার নোটিশ করেন। এতে অভিভাবকরা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে এসে ভূয়া কাগজপত্র এনে দেখায় তিনি সাথে সাথে কাগজপত্র যাচাই বাচাই না করে মামলা খারিজ করে দেন। সম্প্রতি বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেন।

সে হচ্ছে কনকইজ গ্রামের এমরান হোসেন। অভাব অনটনের কারনে কম বয়েসে যৌতুকের লোভে বাল্য বিবাহর দিকে ঝুকে পড়েছে এক শ্রেণীর গরীব কিশোররা। এতে করে পারিবারিক নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকাবাসীর জোরদাবী অচিরেই নাঙ্গলকোট উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হউক এবং দূষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানায়। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আরীফের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: