প্রিয়তম নবী (দ:) এর ঈদ – গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

প্রিয়তম নবী (দ:) এর ঈদ – গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির

30 May 2018, 12:49:42

হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন অন্তত কয়েকটি খুরমা খেজুর না খেয়ে সকালে বের হতেন না এবং তিনি বেজোড় সংখ্যক খুরমা খেজুর খেতেন (বুখারী শরীফ)। আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, হযরত নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রোজার) ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহা (কোরবানীর) ঈদের দিন ঈদগাহে যেয়ে সর্বপ্রথম নামায আদায় করতেন, নামাযান্তে সব লোক নিজ নিজ স্থানেই বসে থাকতেন। প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি দন্ডায়মান হয়ে ওয়াজ- নসীয়ত ও শরীয়তের আদেশ নিষেধ বয়ান করতেন, তারপর কোথাও কোন সৈন্যদল প্রেরণের প্রয়োজন হলে তার ব্যবস্থা করতেন বা কোন আদেশ জানাবার দরকার হলে তা জানাতেন। তারপর বাড়ি চলে যেতেন। (বুখারী- মুসলিম শরীফ)।
মাসয়ালাঃ ঈদগাহে মিম্বর ব্যবহার জায়েজ, তথায় মিম্বর তৈরি করা উত্তম। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: ঈদুল ফিতরের দিন দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। দুই রাকাতের পূর্বে বা পরে অন্য কোন (সুন্নাত, নফল) নামাজ পড়েননি। তারপর দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বেলাল (রাঃ) কে সঙ্গে নিয়ে ঐ স্থানে এলেন যে স্থানে নারীগন উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাদেরকে ছদকা করার আহবান জানালেন। তখন নারীগন নিজ নিজ কানের ও নাকের অলংকারাদি সদকা স্বরূপ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিতে আরম্ভ করল (বুখারী শরীফ)
ঈদগাহে এক পথে যাওয়া অন্য পথে আসাঃ হযরত জাবের (রা:) বর্ণনা করেছেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন এক পথে যেতেন এবং অন্য পথে আসতেন (বুখারী শরীফ)। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন যথাসাধ্য ভাল পোশাক পড়াকে উত্তম বলেছেন।
ঈদের নামাজ সকালে পড়াঃ আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাঃ) নামাজের সময় লক্ষ্য করে বলেছেন, এই রূপ সময়ে আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর আমলে ঈদের নামাজ হতে অবসর হয়ে যেতাম (বুখারী শরীফ)।
ঈদগাহে যাওয়াঃ হযরত ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে: রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজের ময়দানে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে আসতেন (বুখারী শরীফ)। কেবল তিনি নিজে পায়ে হেঁটেই ক্ষান্ত হননি বলেছেন: ঈদের দিন তোমরা যখন নামাজের জন্য বের হবে তখন অবশ্যই পায়ে হেঁটে যাবে (বুখারী-মুসলিম শরীফ)। হযরত আলী (রা:) হইতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, ঈদের নামাজের জন্য পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং বাহির হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নত রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রীতি (তিরমিজী শরীফ) উপরের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো ঈদের দিনে ময়দানে নামাজের জন্য পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং পায়ে হেঁটে ফিরে আসা বা নীয় কেননা এই দিনটি সর্বসাধারন মানুষের মহামিলনের দিন। এই দিন পায়ে হেঁটে ময়দানে যাতায়াত করলেই সাধারন এই মহামিলনের উৎসব পূর্ণ মাত্রায় বাস্তবায়িত হতে পারে। এই দিনে উট, ঘোড়া কিংবা আধুনিক যানবাহনে চড়ে ময়দানে যাতায়াত করা মোটেই উচিত নয় এবং দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ হতে পারেনা। এই মহাখুশীর দিনে সার্বজনীন উৎসব মহামিলনের ব্যবস্থাই তাদের নিকট অর্থহীন হয়ে দাড়ায়। হজরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে ময়দানে যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করতেন (বুখারী শরীফ) যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করা সত্যিই খুব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর ফলে উভয় পথের জনগণ সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করতেন, রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাত লাভ ও দোয়া নিতেন। এছাড়া এর ফলে চতুর্থদিকে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠত।
উচ্চস্বরে তাকবীর বলাঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের ঈদ সমূহকে তাকবীর বলার সাহায্যে সুন্দর আনন্দময় ও জাকযমক পূর্ণ করে তোল (তিবরানী)। ইমাম যহরী আরও বলেছেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে ঘর হতে বাহির হয়ে যাওয়ার সময় হতে নামাজের স্থানে পৌছা পর্যন্ত তাকবীর বলতে থাকতেন, (ইবনে আবি শাইবা)।
বালকদের ঈদের মাঠে উপস্থিতি প্রসঙ্গেঃ ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালকদের ঈদগাহে যাওয়া বরকত লাভের ও গৌরব প্রকাশের জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন। সুতরাং এই হাদিস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, সব বালক নামাজ পড়ার উপয্ক্তু নহে তারাও ঈদগাহে যেতে পারে, অবশ্য তাদের সঙ্গে এরূপ লোক থাকা বিশেষ প্রয়োজন যে তাদেরকে খেলাধূলা, হট্রগোল ইত্যাদি হতে বিরত রাখবে। (ফতহুল বাকী) -২-৩৩৭)।
ঈদগাহে নিশান ও পাতাকা উড়ানোঃ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, ঈদগাহে নিশান ও পতাকা উড্ডীয়ন করা জায়েয। ঈদের দিন নফল নামাজ পড়াঃ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজের পূর্বে কোন নফল নামাজ পড়তেন না। এ কারণে ঈদের দিন ঈদের নামাজের পূর্বে কোন সুন্নাত ও নফল নামাজ পড়া ঠিক নয়। মেয়েরা ঈদের নামাজের পর বাড়িতে নফল নামাজ পড়তে পারেন।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও সংগঠক

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x