সর্বশেষ সংবাদ
◈ নাঙ্গলকোটে প্রবাসীর স্ত্রীকে চায়ের সঙ্গে ঔষধ মিশেয়ে অচেতন ◈ প্রতিটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিচ্ছি আপনি-আমিও ◈ হামলা না চালাতে পাকিস্তানকে অনুরোধ ভারতের! ◈ পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে হবে-অর্থমন্ত্রী ◈ সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম, সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম ◈ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট থেকে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শোভন ◈ নাঙ্গলকোটের কৃতি সন্তান তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘এডুবট’ ◈ বিনা খরচে বাংলাদেশিদের জন্য জাপানে চাকরির সুযোগ ◈ কুমিল্লায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ◈ তিতাসের জুনাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী হলেন জালাল সরকার

প্রয়াত জয়নাল ভূঁইয়ার মুত্যু বার্ষিকীতে আমাদের নাঙ্গলকোট’র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ক্রোড়পত্র

২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২:০০:০২

 

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস•••

প্রয়াত জয়নলা আবদীন ভূইয়ার মৃত্যু বার্ষিকীতে দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকার শ্রদ্ধাঞ্জলি ক্রোড়পত্র প্রকাশ। নাঙ্গলকোটের লেখক, সাংবাদিক, কবি সাহিত্যিক তার স্বরণে স্মৃতি প্রকাশ কলমের ডগায়-কবিতার পাতা জুড়ে।

নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সফল সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ১৯৪৮ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আনু মিয়া ভূঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা উম্মে কুলসুম। তারা পাঁচ ভাই, চার বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তিনি ময়ুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ফেনী সরকারি কলেজ থেকে ¯স্নাতক (ডিগ্রী) অর্জন করেন। তিনি কলেজে অধ্যয়নকালীন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি একমাত্র কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম মোহছেনা আবেদীন ফেন্সী। একমাত্র আদরের মেয়ের নাম রওশন আরা আবেদীন ভূইয়া।

১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কাজী জহিরুল কাইয়ুমকে বিজয়ী করতে তিনি হোমনাবাদে গড়ে তুলেন বিশাল জনমত। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে অসিম সাহসিকতার সাথে হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু গণ-রায়ের জন্য সংসদ নির্বাচন দিলে ওই নির্বাচনে ফের মনোনয়ন লাভ করেন কাজী জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অনেক বাঘা বাঘা নেতা দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করলেও জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়ার বুদ্ধিমত্ত্বায় শেষ পর্যন্ত নৌকার বিজয় নিশ্চিত হয়।

জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া ১৯৭৭ সালে ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে আওয়ামীলীগের দূর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে মনোনয়ন লাভ করেন ‘‘হোমনাবাদের কীর্তি পুরুষ’’ খ্যাত জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। তখন বয়সে তিনি তরুণ। নৌকার কান্ডারী তিনি। জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী, ইউ.পি.পি চেয়ারম্যান পরবর্তীতে এরশাদ মন্ত্রীসভার প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এম.পি নির্বাচিত হন জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। ওই নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামীলীগের মাত্র ৩৯ জন এম.পি’র মধ্যে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ছিলেন অন্যতম একজন।

প্রথমবার এম.পি নির্বাচিত হয়ে তিনি চৌদ্দগ্রামের হোমনাবাদ অঞ্চল এবং লাকসাম উপজেলার অবহেলিত পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা (থানা) গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন। এরই প্রেক্ষিতে একনেকে পাশ করানোর মাধ্যমে নাঙ্গলকোট উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৮৬ এবং ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু  তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া আওয়ামীলীগের মনোনয়ন লাভ করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে আব্দুল গফুর ভূইয়ার কাছে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া পরাজিত হয়।

 

প্রয়াত জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া জীবদ্দশায় জনকল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নাঙ্গলকোটবাসীকে নিঃশব্দে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে যান। তাঁর তিনটি জানাজায় লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। যা আজো রেকর্ড হিসেবে পরিগণিত। নিজ বাড়ি বদরপুরে বাড়ির পার্শ্বে পুকুর ধারে সবুজ বৃক্ষে ঘেরা শ্যামল মাটিতে অন্তিম শয়ানে শায়িত করা হয় জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে।

মৃত্যুর পরও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার!

 

ফারুক আল শারাহ
আজ ২৭ জানুয়ারি শুক্রবার নাঙ্গলকোটের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুর ১৩বছরেও নাঙ্গলকোটে প্রয়াত এ সংসদ সদস্যের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা রয়েছে।

নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার স্মৃতি স্মরনীয় করে তাঁর নামে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্টেডিয়াম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণের দাবি জানিয়েছেন নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
সূত্র মতে- নাঙ্গলকোটের প্রত্যন্ত অঞ্চল খ্যাত বদরপুর গ্রামের কীর্তিমান পুরুষ জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ‘‘নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের নেতা’’ হিসেবে খেতাব অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন গরীব-দুঃখী, মেহনতি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। যেখানেই সমস্যা, সেখানেই ছিলেন জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। অর্থ প্রাচুর্যে তিনি বিত্তবান না থাকলেও মনের দিক থেকে ছিলেন সবল। সর্বদা নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে ব্যাপৃত ছিলেন। আধুনিক নাঙ্গলকোট গড়ার স্বপ্ন হৃদয়ে লালন করেছেন। নাঙ্গলকোটের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের কথা চিন্তা করে চাকুরি কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোনিবেশ না করে সর্বদা নাঙ্গলকোটের উন্নয়নের কথা ভাবতেন। সচিবালয়ে দপ্তরে দপ্তরে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবদের সাথে ভাব জমিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের বরাদ্দ অনুমোদন করিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে চৌদ্দগ্রামের ৬টি ও লাকসামের ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা (থানা) প্রতিষ্ঠা তাঁর একক অবদান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিঃ এম রহমানের কক্ষে থানার অনুমোদন কল্পে প্রবেশ কালীন সময়ে মন্ত্রী থানার অনুমোদনের ব্যাপারে ইতঃস্তত করতে থাকলে টেবিল চাপড়িয়ে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া বলেন- “এই যদি হয় আমি বিরোধী দল করি। এই অজুহাতে আপনি আমার থানা দিবেন না, তবে এক্ষুনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে থানা আদায় করে ছাড়বো। আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়ার সাথে এক সেক্টরে যুদ্ধ করেছি।’ শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ হতেই সম্মতি আদায়ের মাধ্যমে নাঙ্গলকোট উপজেলা (থানা) অনুমোদন করেন। এভাবেই নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন উন্নয়নে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন।
জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এম.পি ছিলেন কি ছিলেন না এমনটি না ভেবে নাড়ির টানে প্রায়ই নাঙ্গলকোটে বিচরণ করতেন। মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন এলাকার গিয়ে মেহমানের মতো ৩/৪দিন অবস্থান করে বিভিন্ন উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতেন। দলমত নির্বিশেষে তিনি সবার সাথে প্রাণ খুলে মিশতেন বলে ‘‘জয়নাল ভাই’’ নামে খ্যাতি অর্জন করেন। অনেকে তাকে ‘‘নাঙ্গলকোটের বঙ্গবন্ধু’’ বলে ডাকতেন। পরিচিত হোক আর অপরিচিত হোক তিনি কাউকে দেখা মাত্রই জড়িয়ে ধরতেন, হাসিমুখে কথা বলতেন। কখনো একাকী কিছু খেতেন না। যেখানেই থাকতেন সেখানেই নিয়মিত চা চক্র বসতো। দুপুরের খাবার খেতেন এক সাথে ২৫/৩০ জন। ঢাকায় অবস্থানরত নাঙ্গলকোটের কারো সমস্যার কথা শুনলেই সাথে সাথে ছুটে যেতেন। জীবনের প্রতিটি স্তরে উদারতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তিনি মানুষের মন জয় করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি ‘‘নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের নেতা’’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

জননেতা-জনতার নেতা হিসেবে তিনি নাঙ্গলকোটবাসীর হৃদয়ে ছিলেন, এখনো আছেন। মৃত্যুর ১২বছরেও নাঙ্গলকোটে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা রয়েছে। এখনো এখানকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখেন। একজন জনদরদী-দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি নাঙ্গলকোটবাসীর হৃদয়ে চিরঞ্জীব। আর এ জন্যই নাঙ্গলকোটের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নামে একাধিক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্টেডিয়াম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণের দাবি জানান।
২৭ জানুয়ারি ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জুমআর নামাজের পর নাঙ্গলকোটের ৪৩০টি মসজিদে মিলাদ ও দোয়া, স্মরণ সভা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নাঙ্গলকোট উপজেলা সদর সহ উপজেলার সর্বত্র জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোষ্টার লাগানো হয়েছে।
জয়নাল আবেদীন ভঁইয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব-নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাছান ভূঁইয়া বাছির বলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক দুই দুইবারের সফল সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া একজন শান্তিপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। ন্যায়পরায়ন, জনদরদী এ রাজনীতিবিদ জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত নাঙ্গলকোটের উন্নয়নের কথা চিন্তা করতেন। প্রতিহিংসার উর্ধ্বে ছিল তাঁর সুদৃঢ় অবস্থান। সহজে তিনি মানুষকে আপন করে নিতে পারতেন। তাঁর এসব মানবীয় গুণাবলীর কারণেই তিনি নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করেন।
তিনি আরো বলেন- জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার আলোয় আলোকিত নাঙ্গলকোট। তাঁর স্বপ্ন, তাঁর প্রচেষ্টা ছিল নাঙ্গলকোটবাসীকে ঘিরেই। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার স্মৃতি রক্ষায় ‘‘জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন’’ কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমাজ ও শিক্ষা উন্নয়নমুলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার বর্ণাঢ্য জীবন:
নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সফল সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ১৯৪৮ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আনু মিয়া ভূঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা উম্মে কুলসুম। তারা পাঁচ ভাই, চার বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তিনি ময়ুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ফেনী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (ডিগ্রী) পাশ করেন। তিনি কলেজে অধ্যয়নকালীন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি একমাত্র কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম মোহছেনা আবেদীন ফেন্সী। একমাত্র আদরের মেয়ের নাম রওশন আরা আবেদীন স্নিগ্ধা।

১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কাজী জহিরুল কাইয়ুমকে বিজয়ী করতে তিনি হোমনাবাদে গড়ে তুলেন বিশাল জনমত। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে অসিম সাহসিকতার সাথে হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু গণ-রায়ের জন্য সংসদ নির্বাচন দিলে ওই নির্বাচনে ফের মনোনয়ন লাভ করেন কাজী জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অনেক বাঘা বাঘা নেতা দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করলেও জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়ার বুদ্ধিমত্ত্বায় শেষ পর্যন্ত নৌকার বিজয় নিশ্চিত হয়।

জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া ১৯৭৭ সালে ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে আওয়ামীলীগের দূর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে মনোনয়ন লাভ করেন ‘‘হোমনাবাদের কীর্তি পুরুষ’’ খ্যাত জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। তখন বয়সে তিনি তরুণ। নৌকার কান্ডারী তিনি। জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী, ইউ.পি.পি চেয়ারম্যান পরবর্তীতে এরশাদ মন্ত্রীসভার প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এম.পি নির্বাচিত হন জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। ওই নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামীলীগের মাত্র ৩৯ জন এম.পি’র মধ্যে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ছিলেন অন্যতম একজন। প্রথমবার এম.পি নির্বাচিত হয়ে তিনি চৌদ্দগ্রামের হোমনাবাদ অঞ্চল এবং লাকসাম উপজেলার অবহেলিত পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা (থানা) গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন। এরই প্রেক্ষিতে একনেকে পাশ করানোর মাধ্যমে নাঙ্গলকোট উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৮৬ এবং ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু নীলনকশার নির্বাচনে কারচুপির কারণে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি  আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া আওয়ামীলীগের মনোনয়ন লাভ করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে দেশী-বিদেশী চক্রান্তসহ একদল কু-চক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকার পরও জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া পরাজিত হয়। প্রয়াত জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া জীবদ্দশায় জনকল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নাঙ্গলকোটবাসীকে নিঃশব্দে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে যান। তাঁর তিনটি জানাজায় লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে। যা আজো রেকর্ড হিসেবে পরিগণিত। নিজ বাড়ি বদরপুরে বাড়ির পার্শ্বে পুকুর ধারে সবুজ বৃক্ষে ঘেরা শ্যামল মাটিতে অন্তিম শয়ানে শায়িত করা হয় জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে।

জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁ হেটে গিয়ে ছিলেন,  মাঠ থেকে মাঠে, গ্রাম থেকে গ্রামে,  মাটি ও মানুষের কাছে।

ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান মিলন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আমাদের নাঙ্গলকোট•••

জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁ দুই দুইবার এমপি ছিলেন, বাংলাদেশে ইতিহাসে হয়ত এমন এমপি আর পাওয়া যাবে না, যে কিনা দুই দুইবার এমপি থাকার পরও নিজের বাড়িতে একটা বিল্ডিং পর্যন্ত করতে পারেন নি, একটা ছোট টিনের ঘর ছিলো, আর সয় সম্পত্তি বলতে কিছুই ছিলো না, শুধু মাত্র এমপির বেতনের টাকা দিয়া নিজের সংসার চালিয়েছেন।

নিজের কোন ব্যাক্তিগত বিলাস বহুল গাড়ি ছিলো না, ব্যাংক ভর্তি কোন টাকা ছিলোনা, ঢাকা শহরে কোন বাড়ি ছিলো না, ছিলো না কোন বিলাস বহুল বাংলো, ছিলো না কোন দলীয় ক্যাডার বাহীনি, প্রশ্ন উঠে তাহলে এমপি থাকা অবস্থায়
ওনি কিভাবে চলা ফেরা করতেন? ওনি চলতেন রিক্সা করে,চলতেন পায়ে হেটে, তার পিছনে হাটতো হাজার হাজার নিঃস্বার্থ কর্মী বাহিনী।

অনেক সময় ঢাকা থেকে আসতে বন্ধু বান্ধবের গাড়ি নিয়ে আসতেন, কিন্তু গাড়িতে তৈল পুরানোর সমর্থন জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁর ছিলো না, তা বন্ধু বান্ধবরা জানতো তাই গাড়ির সাথে এক টাংকি তৈল ও তার ভরে দিতো, পকেটে ফুরিয়ে দিতো কিছু টাকা। বন্ধু বান্ধবরা ও দলীয় কর্মিরাও জানতো জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁর কাছে টাকা নাই কিন্তু তার বিশাল একটা মন আছে, তাই তারা হাসি খুশিভাবে যাই চাইতো দিয়ে দিতো।

যে কোন মানুষ দল মত নির্বিশেষে জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁর কাছে ছুটে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছে এমন নজির নেই, বিনা পয়সায় বিনা ঘোষে নাঙ্গলকোটে বহু লোকে চাকরি দিয়েছেন, বহু লোক ওনাকে দিয়ে উপরে উঠার সিড়ি হিসাবে ব্যাবহার করেছেন। কিন্তু জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁ  নিজের জন্য পরিবারের জন্য কিছুই করেননি। তার নির্বাচনের সময় দলীয় ভাবে কর্মীরা  নিজেদের থেকে চাঁদা উঠিয়ে নির্বাচন করতো। নাঙ্গলকোটের এমন কোন গ্রাম নাই যে জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁর যান নাই, তার আকস্মিক মৃত্যুর পর তার জায়নাজায় হাজার হাজার লোক হয়েছিলো  কেঁদে ছিলো নাঙ্গলকেটের মানুষ সহ গোটা দক্ষিণ কুমিল্লার মানুষ।

তার জায়নাযায় তে উপস্থিত হয়ে তৎকালীন  বিএনপির এমপি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর ভূইয়া বলে ছিলেন আজকে জয়নাল আবদীন ভূইয়াঁর জায়নাযায় যত মানুষ হয়েছে আমি ১০০ বার মরলেও আমার জায়নাযায় এত মানুষ কখন হবে না।

তার বিরুদ্ধে বিরুধীরা ও কখন  কোন অভিযোগের আঙ্গুল তুলতে পারেননি, কেউ কোনদিন দূর্নীতির অভিযোগের আঙ্গুল তুলতে পারেননি। তিনি ছিলেন নাঙ্গলকোটের  সর্বস্তরের মানুষের জনপ্রিয় মাটি ও মানুষের নেতা।

 

জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া’র শূন্যতায় এখনও নাঙ্গলকোটবাসী

-মোঃ শাহজাহান ভূঁইয়া

২৭ জানুয়ারী। নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের নেতা মরহুম জয়নাল আবেদিন ভূঁইয়া’র মৃত্যূর ১৩ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। ২০০৫ সালের এদিনে তিনি হার্ট অ্যাটকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আর এ মৃতটা আমার বেশী মনে থাকে। কারণ এমাসে আমার অতি প্রিয় বাবাকে হারিয়েছি। তিনি ২০০৭ সালের এমাসের ১৫ তারিখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এছাড়া আরো কিছু আপনজন হারিয়েছি এ মাসেই অর্থাৎ ভোলাকোটের মমিন কাকা ও ভোলাকোটের সাত্তার ভাই। মমিন মারা যান ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারী আর সাত্তার ভাই ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারী। সাত্তার ভাই ও মমিন কাকার সাথে আমার সম্পর্কটা অত্যান্ত গভীর। এয়ারকুইন ট্র্যাভেলস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন দু’জনেই। আর আমারদের এলাকার লোকের ঠিকানা ছিল সেই প্রতিষ্ঠান। তাই জানুয়ারী মাসটা আমার নিকট অনেকটা শোকের মাসও। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে, এইতো সেদিন মৃত্যূর সংবাদ পেয়ে কাল বিলম্ব না করে ছুটে গিয়েছিলাম কুমিল্লার পাটি অফিসের সামনে। নিথর দেহ পড়ে আছে। তবুও ১২ বৎসর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ার জন্য ১৯৯১ সনে ঢাকায় আসি। যতদূর মনে পড়ে ঐ সনের ১৭ সেপ্টেম্বর জিপিও’র সামনে সাধারণভাবে একটা গোল টেবিলের বসে আছে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। আমার পরিচয় জানার পর জড়ায়ে ধরলো, খুব খুশী হয়ে গেলাম, ভাবলাম যাকে একনজর দেখার জন্য কত চেষ্টা করেছি, আর সে লোকটা এত কাছে। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে হাইস্কুলের ছাত্রছিলাম ভোটার হইনি, নৌকার মিছিলে গিয়েছি। ১৯৮৬ সনের নির্বাচনে কলেজ ছাত্র ছিলাম এবং ভোটার হয়েছি। মিছিলে গেলাম এবং ভোটও দিলাম কিন্তু কখনো জয়নাল আবদীন ভূঁইয়ার কাছাকাছি যেতে পারিনি। তবে তিনি আমার বাবাকে খুব ভালোভাবে চিনতেন। এখন উনার সান্নিধ্য পেয়ে আমি যেমন খুশি হয়েছি তেমনি তিনিও তখন থেকে সাথে পাছে রাখতেন। লম্বা চওড়া মোটামুটি ছিলাম এ কারণে অনেকেই উনার বডিগার্ড বলে তিরষ্কার করতো এবং আমিও মেনে নিতাম। ১৯৯৩ সালে নাংগলকোটে হামিদ হত্যা দিবস পালন। এ উপলক্ষ্যে আ-লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী প্রধান অতিথি। গাড়ীতে প্রধান অতিথি, আমি, শাহ্জাহান মজুমদার (পরবর্তী সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান), সাংবাদিক নঈম নিজাম, বামের তিতুভাই, চিওড়ার বাবুল ভাই। সারাদিন নাখেয়ে মিটিং শেষে ফেরার পথে কুমিল্লার বিরতি রেঁস্তোরায় মন খারাপ দেখে শাহ্জাহান মজুমদার বললো জয়নাল ভাই সাজুর মন খারাপ। তিনি মজুমদার সাহেবকে ইশারা দিয়ে বললেন সারাদিন খাইতে পারে নাই সেজন্য। অনেক ব্যতিব্যস্ততার মাঝেও আমার প্রতি তার দৃষ্টি ছিল তীক্ষ্ম। তিনি কোনকিছুই গোপন রাখতে পারতেন না। বলার পর বলতেন খবরদার কাউকে বলতে পারবিনা। এ কথা সবাইকে বলতেন এবং যাকে যা বলতেন সামনাসামনি বলতেন। আমি উনাকে একজন সাদা মনের মানুষও মনে করতাম।

মরহুম জয়নায় আবেদীন ভূঁইয়ার একটা অভ্যাস ছিলো ঘুমাবার সাথে সাথে বিকট শব্দে নাক ডাকা। একদিন কুমিল্লা সার্কিট হাউজে আমি, কিনারার জয়নালভাই, বিষ্ণপুরের নিজাম, মরহুম মাষ্টার নূর মিয়াসহ ৫/৭ জনের রাত্রীযাপন। নাক ডাকার শব্দে কারো চোখে ঘুম নাই। ঘুম থেকে জেগে উঠার পর যখন সবাই একযোগে জিজ্ঞেস করলাম ভাই এমনভাবে নাক ডাকলেন কেহই ঘুমাতে পারলো না। তিনি বললেন আমি যে নাক ডেকেছি তোমরা কি দেখেছ? আমরা বললাম না শুনেছি । তিনি তাৎক্ষনিকভাবে বললেন শুনা কথায় কান দিবানা। সে যে হাসির রোল। সে হাসির আর নাক ডাকার শব্দ মনে হয় যেন এখনো কানে বাজে। আরেকটা স্মৃতি বেশী মনে পড়ে, গুলিস্থান পাটি অফিসের পাশে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার সাথে আমি, প্রিন্সিপাল সফিকুর রহমান ও মন্নারার হাতেমভাই। ক্যানভাসার যাদু দেখাতে গিয়ে তার প্লেয়ারকে জবাই দেখালো। আটিফিসিয়াল রক্তে রঞ্জিত খেলার স্থান। কিন্তু ইতিমধ্যে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খেলা ছেড়ে মানুষ দ্বিগবিদিক ছুটোছুটি। আমরা পড়লাম বিপদে। প্রায় এক ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরলো এবং আমাদেরও স্বস্তির নিঃশ্বাস। তিনি যে কত ভীরু ছিলেন সে দৃশ্য না দেখলে কেউ বুঝবে না।

১৯৯৬ সনের সংসদ নির্বাচনে আমার ভূমিকা ছিল অগ্নীমূখী। দেওভান্ডার কেন্দ্র পাহারা দিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকিও নিয়েছিলাম। সে কেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য স্বয়ং তিনি নিজেই উপস্থিত ছিলেন। সেদিন আমার সাথে ঝুঁকি নিয়েছিলেন আমার আরেক বন্ধুু। তিনি তখন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন এবং এ সৌজন্যে রক্ষা পান, আমি কোন ভাবে দৌড়ে প্রাণ বাঁচাই। সে নির্বাচনে তিনি জয় লাভ করেন এবং আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী নতুন করে দলে যোগ দেয়া কিছু গলায় বুদ্ধিওয়ালাদের দাপাদাপিতে আমি পিছিয়ে পড়ি। গলায় বুদ্ধিওয়ালাদের বুদ্ধির সাথে দ্বিমত দেখা দেয়ায় আমি নিজেই সরে যাই। আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া’ই মূল কারণ। উনার থেকে সরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আর রাজনীতি করব না। কিন্তু অটল থাকতে পারলাম না। ফলে আবারও সক্রিয় হয়ে গেলাম রাজনীতিতে। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার মৃত্যুর আগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দায়িত্ব পেলাম। আমার এ দায়িত্ব যদিও উনার সমর্থন ছিলোনা কিন্তু কখনো বিরোধীতা করেন নাই। উনার একটা আতœবিশ্বাস ছিলো উনার ডাকে সাড়া দিবো। কিন্তু বিধিবাম উনার ডাক দেয়ার সময় হলোনা। এর আগেই তিনি পরকালে চলে গেলেন। তিনি ছিলেন একজন নির্লোভ মানুষ যার কোন ব্যাংক একাউন্ট ছিলো না। মৃত্যুকালে মাত্র ১৭০০ টাকা নগদে রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মরহুমের বাসায় ছিলো নাংগলকোটবাসীর মিলন মেলা। বর্তমানে এলাকাবাসী এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া’র শূন্যতা এখনও বিরাজ করছে। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার মৃত্যুতে নাংগলকোট বাসী শোকাতিত। আল্লাহ পাক যেন এ শোক সইবার ক্ষমতা দেন। সে যে দেখলাম কুমিল্লা পার্টি অফিসের সামনে ঘুমাচ্ছে মনে হয় তিনি আগের ন্যায় ‘‘নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন এবং জেগে উঠবেন, বলবেন কখন নাক ডেকেছি, তোরা শুনা কথায় কান দিবি না”। পরিশেষে আল্লাহ্ জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া সহ সকল হারনো আপনজনকে স্বর্গবাসী করুন…………..আমিন।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, দৌলখাঁড় জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন ও রাজনৈতিক কর্মী, না্গংলকোট, কুমিল্লা।

কবিতার ছন্দে প্রিয় অভিবাবকে স্বরণ আমাদের নাঙ্গলকোটের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিকগন….

জয়নাল অাবেদীন

মুকুল মজুমদার

ধর্ম নয় কর্ম তোমার জীবন
কর্মেই তুমি আজও জীবিত।
মানুষ মানবতার উদাহরণ
তুমি অহংকার মুক্ত- পবিত্র।
সমাজ সংস্কার, তুমি আমৃত-
তুমি আলোর প্রদীপ শতত।
ধনীর বন্ধু, দরিদ্রের সহায়ক
ভীটাহীনের কষ্টে তুমি অাহত।
মাটিকে ভালোবেসে তুমি
ঘুমিয়ে অাছো পাতাল পুরে।
বাংলাকে ভালোবেসে-
তুমি চির অমর বাংলার বুকে।

 

 

জয়নাল তোমাকে খুঁজি

আজিম উল্যাহ হানিফ
(উৎসর্গ: সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ভূইয়াকে)
চোখের পলকে কেটে গেল ১৩টি বছর,
জয়নাল তোমাকে খুঁজে বেড়াই নাঙ্গলকোটের প্রান্তর।
ছাত্রজীবন থেকেই মিশেছ মানুষের সাথে,
মানুষের মঙ্গলের জন্য ছুটে বেড়িয়েছ দিনে-রাতে।
এখনো তোমার সহ¯্র স্মৃতি মাঠে ঘাটে পড়ে আছে
বুকের ভিতর লুকিয়ে রাখত তোমাকে পেলে কাছে।
সত্যিকারের জননেতা তোমাকেই বলতে হয়
বদরপুরের মাটিতে শুয়ে রইলে নিঝুম নিরালায়।
তোমাকে হারিয়ে কৃষকেরা কাঁদে
নামটি যখন মনে পড়ে,
চায়ের টেবিলে এখনও ঝড় উঠে
ভাল মানুষ জয়নাল জয়নাল করে।
এখনো আসো স্বপ্নের রাতে হাতছানি দিয়ে
তোমার জন্য এখনও কাঁদে
নাঙ্গলকোটের ৩২৯টি গ্রামের আপামর জনতা নিরবে নিভূতে।
তোমার শূন্যতা কখনো পূরন হওয়ার নয়
বাছির ভূইয়ার নেতৃত্বে তোমার আর্বিভাব কিছুটা ফুটবে মনে হয়।
ঢালুয়া পেরিয়ে নাঙ্গলকোট ছাড়িয়ে
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান তুমি,
পরকালে আছ ভাল রাখুক তোমায় মোদের অর্ন্তযামী।

 

প্রিয় জয়নাল ভাই

এস এইচ রুবেল

হে প্রিয় নেতা

আজ তুমি নেই এই ধরায়,

একথা ভাবতে গেলে

শিহরিত মন,অশ্রুসিক্ত দু-নয়ন

কিছুতেই মানতে চায়না।

জীবনের তরে চলে গেলে তুমি

না ফেরার দেশে,

আজও কাঁদে নাঙ্গলকোটের মানুষ

তোমাকে ভালোবেসে।

মানুষের মন জয় করেছো তুমি

তোমার ভালোবাসা আর

কর্মের মধ্য দিয়ে,

দিশেহারা,পাগলপ্রায় নাঙ্গলকোটবাসী

তোমাকে হারিয়ে।

এমন জীবন করেছিলে গঠন

মানুষের তরে বিলিয়ে দিয়েছো নিজেকে

সারাটি জীবন ধরে,

লাখো ভক্তের ভালোবাসায় সিক্ত তুমি

কাঁদে মানুষ আজও

প্রিয় জয়নাল ভাই

যখনি তোমাকে মনে পড়ে।

১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ

দোয়া করি প্রাণ ভরে

ভালো রাখুক বিধি

তোমাকে ওপারে।

 

 

 

স্মৃতিচারণ-

মুহাম্মদ এ জে শরীফ
মরহুম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার রাজনীতি আমি দেখি নাই.. যদিও দেখেছি তখন বুঝার বয়স হয় নি..যতটুকু শুনেছি তার রাজনীতি প্রশংসিত ছিল। আমার নানা মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী জয়নাল এম.পির একজন আস্তাবাজন লোক ছিলেন।সকল প্রোগ্রামেই তার একান্ত সঙ্গী ছিলেন।সম্ভবত ২০০৩ সালের একটি স্মৃতি,আমি তখন প্রথম শ্রেণির ছাত্র, বাইয়ারা জয়নাল উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠের একটি সমাবেশে নানা আমাকে সাথে করে নিয়ে গেল,জয়নাল এম.মি আমাকে দেখে তার কোলে টেনে নিল, তার বলা কথা গুলো মনে নেই, তবে তার স্নেহশীল মুখটা আমার এখনো মনে পড়ে..

 

মরহুম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নাঙ্গলকোটের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তিনি মাটি ও মানুষের মজলুম নেতা। ১৯৭৯ সালে সাবেকে প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরকে পরাজিত করে প্রথম বারের মত এম.পি নির্বাচিত হয়। দ্বিতীয় বার ১৯৯৬ সালে।স্বর্নাক্ষরে লিখা না হলেও নাঙ্গলকোটের মানুষের হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে মিশে থাকবে মরহুম জয়লাল আবেদীন ভূঁইয়া।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: