বটিয়াঘাটা সুরখালীতে ব্লু গোল্ডের নামে ১৮ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

বটিয়াঘাটা সুরখালীতে ব্লু গোল্ডের নামে ১৮ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ

17 April 2017, 7:27:04

মহিদুল ইসলাস (শাহীন) বটিয়াঘাটা খুলনা :

খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নে ৩১পার্ট পোল্ডারে চলছে ব্লু গোল্ড প্রোগ্রামের প্রায় ১৮ কোটি টাকার কাজ। যাহার সিংহ ভাগ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছ। সন্দেহের তীরটা ব্লু গোল্ড ও পানী উন্নয়ন বোর্ডের দিকে। একটি সুত্রে জানাগেছে ব্লু গোল্ডের প্রধান কার্যক্রম ঘন ঘন মিটিং দেখিয়ে টাকা লোপাট করা, বাহারী রঙ্গের গাড়ী নিয়ে আসা যাওয়া করা, ঠিকাদারের অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে টাকা লুটপাট করাই এ প্রকল্পের মুল কাজ। নেদারল্যান্ড ও বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ ভাবে এ কাজ পরিচালিত। সুরখালী ৩১ পার্টে রয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন যেমন  wma১টি দল, wmg ১২ টি দল, Lcs ৩৬ টি দল ও সকল কাজ তদারকি করার জন্য রয়েছে ৫ সদস্য বিশিষ্ট মনিটরিং সেল। কিন্ত নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, যতই কমিটি থাক না কেন, অনিয়ম হচ্ছে, আমরা দেখছি কিন্ত কোন কাজ বন্দ করতে গেলে তখন ঢাল হয়ে দাড়ায় আমাদের বড় অফিসাররা। দেখে মনে হয় আগে থেকে তারা বেশ খুশি হয়ে বসে আছে। এ পোল্ডারে দায়িত্ব প্রাপ্ত সিও আছাদুজ্জামান।  তার কাজ শুধু সারাক্ষণ মোটরসাইকেলের পিছনে মহিলা কর্মি নিয়ে গ্রামে গ্রামে মিটিং করা। তার কাছে কোন বিষয় জানতে চাইলে মনে হয় তিনি কিছুই জানে না। কোন বড় অফিসার আসলে সকল অনিয়মকে বলেন, সব ঠিক আছে স্যার।এ পোল্ডারে রায়পুর, সুরখালী, কেচুরাবাদ,বজরা, গোন্দামারী,চরা ও নাঈনখালি খাল খননের কাজ চলছে। সরোজমিনে এলাকা বাসী ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, যে সকল খালগুলো LCS সদস্যরা খনন করেছে সেগুলি মোটামুটি মান সন্মত, যে খালগুলো ঠিকাদার মেশিন দিয়ে খনন করেছে সে খালগুলো দুই পাড়েই এলোমেলো করে মাটি ফেলে পাহাড় তৈরি করে ঐ ভাবেই ফেলে রেখে গেছে। যাহা কোন ড্রেসিং করা হয়নি। ড্রেসিং বিহীন এই পাহাড়ের উপর দিয়ে চলাচল করতে না পারছে কৃষক, না গরু ছাগল। কিন্ত ব্লু গোল্ডের কাছে কৃষকের প্রশ্ন এ দায় কার। শুধুই তো দেখি সুন্দর সুন্দর গাড়ীতে ব্লু গোল্ডের ষ্টিকার লাগিয়ে রাস্তা দিয়ে রাউন্ড দেওয়া কিন্ত অনিয়মের বিষয় খোজখবর নেওয়ার দায়িত্ব কার। অন্যদিকে প্রায় ২০ কিঃ মিঃ ওয়াবদা রিপিয়ারিং কাজ হয়েছে যাহা বেশির ভাগ নিয়ম বহির্ভূত ভাবেই চলছে। নিয়ম আছে রাস্তায় মাটি দেওয়ার আগে সম্পুর্ন আগাছা তুলে ফেলতে হবে। তাছাড়া রাস্তার পাশে মাটি দেওয়া আগে তিনটা বেঞ্চ করতে হবে এবং স্তরে স্তরে মাটি দিয়ে দুরমুচের সাহেয্য বড় বড় মাটি ডেলাগুলি গুড়ো করে দিতে হবে কিন্ত কোন নিয়ম নিতিকে তোয়াক্কা না করে সংস্লিষ্ট সকলের পকেট ভারি করে ঠিকাদার ইচ্ছা মতো কাজ করছে বলে অনেকের মন্তব্য। অন্যদিকে
স্লুুইস গেট সংস্কারের কাজ চলছে গজালিয়া, শাফা বারোভুঁইয়া ও গাওঘরা। সম্প্রতি গাওঘরা গেট ক্রনিং কাজে অনিয়মের কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ কামরুজ্জামান কাজ বন্দ করেদেন। তাছাড়া নতুন একটি থ্রি ব্যান্ড গেটে তৈরি হচ্ছে  নাঈনখালী নদীতে যাহার বরাদ্দ ২কোটি ২৫ লাখ টাকা। ব্লু গোল্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, সকল কাজ দেখবাল করার জন্য নন্দনখালী স্লুইস পানি ব্যবস্হাপনা এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সার্বিক তদারকি করার জন্য রয়েছে ৫ জনের মনিটরিং কমিটি। কিন্ত তাদের কাজ শুধু কাগজে কলমে সিমাবদ্ধ কোন অনিয়ম হলে কাজ বন্দকরে দেওয়া যাবেনা তবে সকল বিষয় ফাইনা বিল উঠানোর সময় তাদের সকলের স্বাক্ষর লাগবে। সকল বিষয় নন্দনখালী এসোসিয়েশন সম্পাদক আলিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে জান। এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নিত্যানন্দ সরকার বলেন, আমাদের পোল্ডারে কয়েক কোটি টাকার কাজ হচ্ছে তবে LCS সদস্যরা যে কাজগুলো করেছ সেগুলি খুব ভালো কিন্ত ঠিকাদারের কাজগুলো বেশ অনিয়ম। ব্লু গোল্ডের ইন্জিনিয়র আঃ হান্নান বলেন, সমগ্র পোল্ডারে নিয়ম বহির্ভূত কোন কাজ হচ্ছে না। সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ হাদী সরদার বলেন, ৩১ পার্ট পোল্ডারে কোথাও নিতিমালা অনুযায়ী কাজ হচ্ছেনা সম্পুর্ন নিতি বহির্ভূত কাজ হচ্ছে। নতুন গেট তৈরি ও পুরাতন গেট সংস্কার এ বিষয় তিনি বলেন, সবখানে খোজ নিয়ে দেখ কাজ কেমন হচ্ছে সেটা বুঝবে, তবে ইউএনও স্যার গাওঘরা গেটের ক্রনিং বাধের মাটি ওয়াবদা রাস্তার পাশ দিয়ে কাটার কারনে কাজ বন্দ করে দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ওদের সরাসরি চুক্তি, আমাদের সাথে অর্থাৎ লোকাল প্রশাসনের সাথে কোন সমন্বয় নাই। বিভিন্ন লোকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুললেও আমরা সরাসরি কিছু বলতে পারছিনা এ বিষয় হাই কমান্ডোর সাথে কথা হয়েছে দেখছি আগামী যে কোন মিটিংয়ে ওদের ডাকা যায় কিনা। সার্বিক বিষয় ব্লু গোল্ডের জোনাল সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান বলেন, আমি সরাসরি এ কাজের সাথে সম্পৃক্ততা নাই। এ কাজে সরাসরি জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ড ,স্হানীয় পোল্ডার এ্যাসোসিয়েশন ও মনিটরিং কমিটি।  কিছু অনিয়মের খবর আমি পেয়েছি এমনকি ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: