বন্ধুদের হাতেই খুন হয় কুমিল্লার যুবলীগ নেতা ১৪ মাস পর হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ২ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

বন্ধুদের হাতেই খুন হয় কুমিল্লার যুবলীগ নেতা ১৪ মাস পর হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ২

31 August 2016, 3:47:49

নিজস্ব প্রতিনিধি

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের চেষ্টায় আরও একটি হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। গত বছরের ২ জুলাই গভীর রাতে দেবিদ্বার পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি এটিএম তারিকুল হাসান টিটু তার বন্ধুদের হাতেই নির্মমভাবে হত্যাকা-ের শিকার হন। ওই হত্যার ১৩ মাস পর ডিবি পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে টিটুর শরীরের হাড়-কংকাল উদ্ধার করা হয়। নিহত টিটু জেলার দেবিদ্বার পৌরসভার বানিয়াপাড়া (গোমতী আবাসিক এলাকা) গ্রামের মৃত আবু তাহের মাস্টারের ছেলে। এ হত্যাকা-ের সাথে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী অংশগ্রহণ করে, এর মধ্যে লিমন ও হৃদয় নামে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে নিহত টিটুর শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় সনাক্ত করা হবে বলে ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বারের যুবলীগ নেতা টিটু (২৮) গত বছরের ২ জুলাই নিখোঁজ হন। ওইদিন গভীর রাতেই টিটুকে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার শ্মশানঘাটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রথমে গুলি ও পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ও পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লাশ গুম করে রাখে। এদিকে নিখোঁজের পর থেকে স্বামী সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার শোভা ওই বছরের ১৩ জুলাই জেলার দেবিদ্বার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু টিটুর সন্ধান না পেয়ে চলতি বছরের গত ৮ মার্চ টিটুর মা রাজিয়া সুলতানা আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা ডিবি পুলিশ।

এদিকে ডিবি’র এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএমসহ ডিবির একটি দল গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে গুলিভর্তি একটি রিভলবারসহ নগরীর অশোকতলা এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে ১২টি মামলার আসামি চিহ্নিত সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলাম লিমন ওরফে চোরা লিমনকে (৩০) ছোটরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। ডিবি’র জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লিমন তার সহযোগীদের নিয়ে দেবিদ্বারের যুবলীগ নেতা টিটুকে হত্যাসহ লাশ গুম করার তথ্য প্রকাশ করে। পরে লিমনের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকা-ের সাথে জড়িত ঠাকুরপাড়া এলাকার জিয়াউদ্দিনের ছেলে রিয়াদ উদ্দিন হৃদয়কে (২৮) গ্রেফতারের পর উভয়কে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে টিটুর মরদেহের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকি থেকে টিটুর মাথার খুলি, দেহের বিভিন্ন অংশের হাড় উদ্ধার করে। এসময় এলাকার উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিড় জমায়। উদ্ধার কাজ চলাকালে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ও আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জামিরুল ইসলাম, জেলা ডিবি’র ওসি একেএম মনজুর আলম, কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আবদুর রবসহ র‌্যাব-ডিবি ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে টিটুর মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত লিমন ও হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ২ জুলাই টিটু নিখোঁজের দিন গভীর রাতে সন্ত্রাসী লিমন ও হৃদয়সহ তাদের ৬/৭জন সহযোগী কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া শ্মশানঘাটে টিটুকে গুলি করে হত্যা করে । এরপর ঠাকুরপাড়া প্যারামেডিকেল ইনষ্টিটিউট সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রথমে টিটুর লাশ মাটি চাপা দেয়। এর ৩ দিন পর লাশটি উত্তোলন করে বস্তাবন্দী করে ওই বাড়ির একটি সেপটিক ট্যাংকে লাশটি ফেলে গুম করে রাখে। ছেলের শরীরের কঙ্কালের ছবি দেখে টিটুর মা রাজিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে তার বন্ধুদের হাতে এমন নির্মমভাবে খুন হবে তা কখনো ভাবিনি। টিটুর স্ত্রী এবং সিনান (৬) নামে এক ছেলে ও সিতাথী (৪) নামের এক শিশু সন্তান রয়েছে। সন্তানরা বাবা ও স্বামী হারিয়ে তার স্ত্রী এখন নির্বাক হয়ে পড়েছে। তিনি সকল হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবি জানান। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এক প্রেস বিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, এ হত্যাকা-ের কারণ উদঘাটনসহ জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: