বর্ষার অভিশাপ বনাম আশীর্বাদ ও গণমানুষের নিরাপত্তা | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

বর্ষার অভিশাপ বনাম আশীর্বাদ ও গণমানুষের নিরাপত্তা

20 June 2014, 10:47:23

স্কোয়াড্রন লিডার আহ্সান উল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত)

অভিশাপ 

‘আষাঢ়-শ্রাবণ দু’মাস বর্ষাকাল’ হলেও বাংলাদেশে ঝড়-বাদল-বন্যা গড়ায় কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত। বলা যায় তখনও ভরা বর্ষাই থাকে। আবহাওয়া বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী এ সময় মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের আকাশ ছেয়ে  থাকে। যার প্রভাবে কখনো বিরতি দিয়ে কখনো অবিরত বৃষ্টি ঝরে সারাদেশে। ফলাফলÑপানির ঢল, জলজট, বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবন, নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম, সড়ক-জনপথ জলমগ্ন, বেড়ি বাঁধে নদীরকুলে ভাঙ্গন, মানুষ ও তার গৃহপালিত পশুপাখি পানিবন্দী, ভিটেমাটি-ঘরবাড়ি, শাক-সবজি, রোপা আমন, খেত-খামার, মাছের ঘের, দোকান পাট, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা তথা বিস্তীর্ণ গ্রাম-নগর পানির নীচে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এরই মধ্যে মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় গ্রামাঞ্চলে বন্যার জলে ডুবে শিশুদের এবং সাপে কাটা মানুষের অকাল মৃত্যুর খবর।

দুর্যোগের স্থিরচিত্র

এ পরিস্থিতিতে গতানুগতিকভাবে সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ তৎপর হবে।  প্রচার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সমবেদনা ও আশার বাণী  প্রচারিত হবে। কেউ কেউ দু এক পা এগিয়ে দুর্গত এলাকা সফর করবেন, স্বহস্তে রিলিফ বিতরণের দৃশ্য দেখা যাবে মিডিয়ায়। জল নেমে গেলে রক্ষা। উজানের পানি ঠেলা দিলে কিংবা ঝড় বৃষ্টি বেড়ে গেলে বাড়বে দুরাবস্থা। সরকার ঘোষণা করবেন, দুর্যোগকালীন অবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খোলা হবে মনিটরিং সেল অনুরূপ সকল ডিসি অফিসেও এমন কি সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনী সদরেও। সাহায্য চাওয়া হবে দূর্গত  মানুষের জন্য। বাণী প্রতিশ্র“তি ও রিলিফ আসতে থাকবে  ত্রাণ তহবিলে।  ক্ষমতাসীন, বিরোধী দলীয় ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রিলিফ বিতরণে নামবেন প্রতিযোগিতামূলকভাবে। তার পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট এনজিও দেশী-বিদেশি অন্যান্য সংস্থারও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালিত হবে। বানভাসি মানব সন্তানদের বিধ্বস্ত চেহারার ছবি জাতীয় আন্তর্জাতিক তথ্য মাধ্যমে প্রচারিত হলে ভাল ভিক্ষাও মিলতে থাকবে। সবশেষে দুর্গত মানুষকে উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ডাকা হবে সশস্ত্রবাহিনীকে। ছিদ্রান্বেষী রির্পোটাররা কখনও কখনও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে স্বজনপ্রীতিÑদলপ্রীতি, কারচুপি, আত্মসাৎ, দুর্নীতি প্রভৃতির খবর ছাপবেন পত্রিকায়। আমি আমার জ্ঞান বুদ্ধি হওয়া অবধি বাংলাদেশের মানুষের বর্ষার অভিশাপের এই স্থিরচিত্র দেখে আসছি।

দূর্ভাগ্যের দৃশ্যপট

এই অসহায় অবস্থা থেকে আজও কেন সাধারণ মানুষ পরিত্রাণ পায়নি এই উত্তর খুঁজতে গেলে  মানসপটে ভেসে ওঠে এক দূর্ভাগ্যের দৃশ্যপট।  ১৯৭০ এর ১২ই নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঝড়-জলোচ্ছাসে যখন ভোলা বরিশাল, পটুয়াখালী, সন্দ্বীপ, চট্রগ্রাম, কক্সবাজারে মানুষ মরছে, অথচ পাকিস্তান সরকারের কোনরূপ ভাবান্তর লক্ষ্য করা যায়নি; তখন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তর্জনী উঁচিয়ে বলেছিলেন, ‘ওরা কেউ আসেনি, আমাদের ভাগ্য নিয়ে আমাদেরকেই ভাবতে হবে’। বাংলার মানুষ তো নিজেদের ভাগ্য নিয়ে ভেবেছে !  ১৯৭০ এর নির্বাচনে ম্যাণ্ডেট দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। ‘৭১ এর যুদ্ধে রক্ত দিয়েছে, ইজ্জত দিয়েছে, ভীনদেশে গিয়ে শরণার্থী হয়েছে। পাকি সেনারা গ্রামের পর  গ্রাম জ্বালিয়েছে, অকাতরে মানুষ মেরেছে, লুট, ধর্ষণ, অত্যাচার করেছে। কিন্তু এই সাধারণ মানুষদের বাগে আনতে পারেনি। “যার যা কিছু’  ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা” করেছে স্বাধীনতা পাবার জন্যে, নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করবার জন্যে। ১০ই জানুয়ারী নেতা ফিরে এলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁরই নির্দেশনা অনুযায়ী যারা নিজের জান বাজি রেখে যুদ্ধে গিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল এবং যারা ছিল তাঁর সঞ্জীবনী শক্তি, তাদের ডেকে এনে বললেন ‘তোমরা যে যার কাজে ফিরে যাও, আমি প্রয়োজনে সময়মতো তোমাদের ডাকবো’। তাদের কেউ কেউ এখনও ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছেন। তাদের নিয়ে অনেক দলবাজি, লাইসেন্স পারমিটবাজি সুবিধাবাজি ইত্যাদি রাজনৈতিক খেলা হয়েছে কিন্তু আজও কেউ ডাকেনি ! নেতা গোটা জাতিকে ডেকে বললেন, ‘তিন বছর আমাকে সময় দাও। তিন বছর আমি তোমাদেরকে কিছুই দেবার পারুমনা’। সাধারণ মানুষ সানন্দে তাঁর আহবান মেনে নিয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব আওয়ামী লীগার যুদ্ধে যোগ না দিয়ে স্বদেশে-বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন তারা মানেননি। তারা পাকিদের পরিত্যাক্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে শুরু করে টেন্ডার, লাইসেন্স, পারমিট ও রিলিফের মাল পর্যন্ত সমানে লুট-পাট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। নেতাই নিজের কম্বলটা পাননি বলে আক্ষেপ করেছিলেন। তিন বছরের  মাথায় দুর্ভাগা মানুষ নেতাকেই হারিয়ে ফেলল।

দৃশ্যপট

প্রতিষ্ঠিত ত্যাগী রাজনৈতিক নেতারা আত্মঘাতি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরস্পর বেঘোরে প্রাণ হারালেন। মুক্তিযোদ্ধারা- যাঁদের দৃঢ়তা, ঐকান্তিক মনোবল, রণক্ষেত্রে যাঁদের অমিত তেজ-বীর্য, স্বাধীন বাংলা বেতারে যাঁদের কথা শুনলে, যুদ্ধের নয় মাস মুক্তির আবেশে স্বাপ্নিক করে তুলত প্রতিটি নাগরিককে, পাকিসেনাদের ধর্ষণ, নির্যাতন তুচ্ছ বোধ হতো, তাঁরা কিনা পরস্পরকে ঘায়েল করলেন বিচারে অবিচারে ! সেই দুধর্ষ কমাণ্ডো তাহের! যে এবোটাবাদ থেকে পালিয়ে এসে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের পা হারালো, সেই সাহসী জিয়া! যার কণ্ঠে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের দিক নিদের্শনা পেল, সেই  দুর্ধর্ষ  মঞ্জুর যশোর সেক্টরের কমাণ্ডার, সেই খালেদ ও হায়দার যাঁদের নাম মনে রেখে শত্রু হননে সাহসের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়তো,  ২ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা।  আরও অনেকে যাঁরা একেকজন রণক্ষেত্রে জীবন্ত কিংবদন্তী ছিলেন; তাঁরা কিনা পরস্পর আত্মহনন করে মুক্ত বাংলা মায়ের কোল খালি করল!

জনগণ যাঁদেরকে রাজনৈতিক দেবতা ও গুরুর আসনে বসিয়েছেন তাঁরা নানা ধরনের বিকৃতিতে আসক্ত। তারপর থেকে তো দেখছি গজিয়ে ওঠা নেতা ও পাতি নেতাদের জনগণকে নিয়ে লুকোচুরি-লুকোচুরি খেলা। পাকিস্তান আমলের ‘কোটিপতি ২২ পরিবারের’ স্থলাভিষিক্ত হবার জন্য কী প্রাণান্তকর প্রতিযোগিতা! ভূমিহীন, চোরাকারবারী, ফড়িয়া, দালালরা কোটিপতি ব্যবসায়ী-রাজনীতিক! ‘ভাঙ্গা স্যুটকেসের’ উত্তরাধিকারীরা হাজার কোটি টাকার অবৈধ মালিকানার দায়ে অভিযুক্ত!  জনগণের টাকা মেরে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ায় পলায়ন ! ফাঁকা মাঠে স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসল এই শকুনী গৃধিনীদের মেলা ! ‘৭১ এর পরাজিত শক্তির কূটকৌশলের কাছে আবার পরাজিত হল বাংলার প্রাণসঞ্জিবনী শক্তি। উর্দি পরা টাই পরা হোহাইট কালারের অবসরপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ আর ব্রিফকেসধারী ব্যবসায়ী ঠিকাদারেরা সেজেছেন  রাজনৈতিক নেতা ! নেতাতো দূরের কথা, তারা না পুরুষ না নারী, না মানুষ না জন্তু ! মনে হয় ‘অদ্ভূত উটের পিঠে সওয়ার’ হয়েছে স্বদেশ ! সাধারণ মানুষ এখন কাঁচের বাক্সে সংরক্ষিত সঙ; সার্কাসে প্রদর্শনীর জন্তু। ষড়ঋতুর অভিশাপে অভিশপ্ত  মানুষকে প্রদর্শন করিয়ে দেশী বিদেশিদের কৃপা দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে ভিক্ষা সংগ্রহ করে নিজেদের কায়েমী স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। এতে জাতীয় মর্যাদা, আত্মসম্মান ভুলুন্ঠিত হলে তাদের কিছু যায় আসে না, তাদের লণ্ঠন চললেই হল। তাদের কারণে দেশ হয় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অথচ দোষ দেয়া হয় মূল্যায়নকারীর।

ঘুরে কি দাঁড়ানো যায় না

কিন্তু আর কতদিন ! এর কি শেষ নেই ?  অভিশাপের এই চিত্র থেকে কি ঘুরে দাঁড়ানো যায় না ? অবশ্যই যায়। গণমানুষকে আবার ’৭১-এর মতো আশাবাদী করে তোলা গেলে বর্ষার অভিশাপকে আশীর্বাদে রূপান্তর করা যায়। আল্লাহর এই অকৃত্রিম উদার দান জলরাশিকে পরার্থপরতার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জ্ঞান বুদ্ধি খাটিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে অবশ্যই সাধারণ মানুষের সাংবাৎসরিক কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। তার জন্য এই সমস্যাকে জাতীয় নিরাপত্তার অধিভুক্ত করতে হবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকেও কাজে লাগাতে হবে। আমাদেরকে যা যা করতে হবে, তা হচ্ছে :

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে আমাদেরকে এই আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হতে হবে যে ‘আমরাপারব; সমস্যার সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে’। এই আপ্তবাক্যটিকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে বন্যার জল সংরক্ষণ, সেচ ও পানীয় জল শোধন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিশন/ট্যাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে একটি মাস্টার প্লান বা মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এই পরিকল্পনায় আপৎকালীন, স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি থাকবে। যদি এরকম ব্যবস্থা থেকে থাকে তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আপদকালীন আশ্রয় নির্মাণ করতে হবে পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্যার জল নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার্তদের গৃহপালিত পশুপাখি সহায় সম্পদ সহ অস্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী আশ্রয়/সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করতে হবে।  বন্যার জলের সর্বোচ্চ স্তরের উঁচু স্থান নির্মাণ করে বেড়ি বাঁধ বা দেয়াল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। এতে জনগণ নিজের উদ্যোগেই গুচ্ছনিবাস (Clustered House) গড়ে তুলতে পারেন। যা অপেক্ষাকৃত স্থায়ী হবে। এতে জনগণের জন্য পরিকল্পিত স্থায়ী আশ্রয়ও হবে এবং আবাদি জমির সাশ্রয়ও হবে।

প্রকল্প তৈরি করতে হবে যে যার অবস্থানে থেকেই সমস্যাটার সমাধানের উপায় নিয়ে ভাবতে হবে, প্রকল্প তৈরি করতে হবে, পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে হবে। পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ  রাখতে হবে। ‘যে যার অবস্থানে’ বলতে ও বুঝাবার চেষ্টা করেছি বানভাসি মানুষ, জল ব্যবস্থাপনাবিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ। যার যার ক্ষেত্রে এই বন্যা জলাবদ্ধতা উজানী ঢল প্রভৃতির উৎস থেকে সমুদ্দুর পর্যন্ত  যাবতীয় ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখতে সচেষ্ট থাকবেন।

জলাধার তৈরি করতে হবে উত্তরের উজানের পানি দক্ষিণের ভাটি এলাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই গড়াবে। এই গড়ানো জলরাশি থেকে ঘাটে ঘাটে বা স্থানে স্থানে যতবেশী সম্ভব প্রাকৃতিক ও  কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করে সারা বছরের জন্য জল জমাবার ব্যবস্থা করতে হবে। এই জলাধারে মাছের চাষও করা যাবে। প্রাকৃতিক ও  কৃত্রিম আধারের মাধ্যমে সংরক্ষিত জল  এমন কৃৎকৌশলগতভাবে  সংরক্ষণ ও সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে যেন খরার সময় বরিশাল থেকে  পানি রংপুর দিনাজপুরে সরবরাহ করা যায়। সম্ভব হলে জলস্রোত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে হবে খালবিল নদীনালার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সমুন্নত রাখতে হবে। প্রয়োজনে খনন কর্মসূচি নিয়মিত সারা বছর বজায় থাকতে হবে। প্রশাসন ও জনগণ পারস্পরিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজ করবেন এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবেন।

জবাবদিহিতা চাই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যার যা করণীয় তা সততা ও আন্তরিকতার সাথে করতে হবে। কর্মসূচী বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে। অগ্রগতি, সফলতা, ব্যর্থতা, যাচাই করতে হবে।  গোটা জনগোষ্ঠি পাহারা দেবে। দায়িত্ব পালনে  দুর্নীতি, অন্যায়, অবহেলা, উদাসীনতা ইত্যাদির জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করতে হবে। এ-ই হবে আমাদের রাজনীতির অন্যতম পূর্বশর্ত।

আঞ্চলিক সহযোগিতা চাইতে হবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে, তার উৎসস্থল ভারত, নেপাল, ভূটান ও চীন। কাজেই নদীর পানি বণ্টন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন ইত্যাদি প্রয়োজনে নদীর উৎসস্থল ভেদে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে যৌথভাবে সহযোগিতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসারে সকল দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। এক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন মিডিয়া উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।  আমরা রেডিও, টিভি, পত্রিকা যার যার ক্ষেত্রে সকল শ্রেণি ও পেশার মধ্যে যার যার করণীয় সম্পর্কে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। খাল বিল নদী নালা ভরাট করা যাবে না। ভরাট যেন কেউ না করতে পারে তার জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।  সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে, নিজস্ব ব্যক্তিগত বা যৌথ উদ্যোগে প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক ব্যবস্থায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের মিডিয়ায় নিত্য দিনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হোক জনগণের  স্বার্থ, গণবিরোধী দুষ্ট রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও নেতিবাচক নয়।

বর্ষা হবে আশীর্বাদ

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয়  পানি  সংরক্ষণ, অপ্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশন ও নদী শাসন কার্যক্রমে যদি আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারি তবে ষড়ঋতুর  অন্যান্য অভিশাপ যেমন-ভূগর্ভের  পানিশূন্যতা, মরুকরণ প্রক্রিয়া ও খরার হাত থেকেও রক্ষা পাব। ভূমির উর্বরতা শক্তি বাড়বে। যার  অবশ্যম্ভাবী ফল প্রকৃতিতে  ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জমিতে ফসল, শাক-সবজি, বৃক্ষলতা ও ফুল-ফল আরো বেশী ফলবে। পুকুর বিল নদী ও সাগরে মাছ আরো বাড়বে। চাষীর গোয়ালে থাকবে তরতাজা গৃহপালিত পশু-পাখি, গোলায় থাকবে অফুরন্ত ধান আর জীবনে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি। এরই নাম জাতীয় নিরাপত্তা বা গণমানুষের  নিরাপত্তা ।

শেষ কথা 

প্রতি বছর বর্ষায় বাংলাদেশের মানুষ বানভাসিতে আক্রান্ত হয়। সরকারী প্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনীসহ অন্যান্যদের  সহযোগিতায় দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সাময়িক চেষ্টা চালায়। এ সবই তাৎক্ষণিক উপশম সহায়ক, টেকসই বা স্থায়ী নয়। প্রতি বছর এরকম আপদ আসে আবার কেটেও যায়। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বা না-ও পারে। তাই আগামী বানভাসির আগেই যেন স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় তার জন্য আগাম আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন।

আমি নিতান্ত একজন সাধারণ মানুষ। লিখছি হৃদয়ের আকুতি থেকে আবেগপ্রবণ হয়ে। আশা করি বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এগিয়ে আসবেন।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: