বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওয়ানডেতে জয়ের সেঞ্চুরি | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওয়ানডেতে জয়ের সেঞ্চুরি

2 October 2016, 9:02:14

মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল : ৩০ বছর, ৩১৫ ম্যাচ পর এল ওয়ানডেতে জয়ের সেঞ্চুরি। সংখ্যা-তথ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘ এই পথচলা

সিরিজ জয় ও শততম একদিনের ম্যাচ জয়- এই দুটো লক্ষ্যকে সামনে রেখে মিরপুরে আজ আফগানিস্তানের মোকাবেলা করতে নেমেছিল টাইগাররা। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুটো অর্জনই ধরা দিয়েছে হাতের মুঠোয়।

 

তবে তারচেয়েও বড় আরেকটি বিষয় প্রমাণ করার ছিল আজ টাইগারদের সামনে- গত দুটি ম্যাচের পর চারদিক থেকে ওঠা নানান প্রশ্নের জবাব দেয়া। যেটিও চমৎকারভাবে করেছে মাশরাফি বাহিনী।

 

সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে আফগান বাহিনীকে ১৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তার চেয়েও বড় কথা আজ একটি বারের জন্য মনে হয়নি আফগানিস্তান জিততে পারে এই ম্যাচ। পুরোটা সময় জুড়েই ছিল টাইগারদের আধিপত্য। ব্যাটে বলে টাইগারদের নৈপুণ্যে অসহায় আত্মসমার্পন করতে বাধ্য হয়েছে সফরকারীরা।

 

সিরিজ হয়তো জেতা যেত যেনতেন ভাবেও, শততম ম্যাচ জয়ের আনন্দও আসতো আজ না হোক দুদিন পর; কিন্তু শেষের কাজটি মনে হয় এর চেয়ে ভালোভাবে করার আর কিছু নেই। সব প্রশ্নের, সব শঙ্কার জবাব টাইগাররা দিয়েছে মাঠে।

 

গত দুই বছর দুর্দান্ত খেলতে থাকা একটি দল হঠাৎ করেই যেন অচেনা হয়ে ওঠে অপেক্ষাকৃত দুর্বল আফগানিস্তানকে সামনে পেয়ে। যারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে সিরিজ হারিয়েছে- তারাই ভূগতে থাকে সিরিজ হারানোর শঙ্কায়। এতদিন জাতিকে স্বপ্নের জগতে বিচরণ করানো দলটিকে ঘিরেই ওঠে দর্শক-সমর্থকদের নানান প্রশ্ন।

 

অবশ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ তাদের দেয়া হয়েছে বললে ভুল হবে না। প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও কোন মতে জয়, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পরাজয়। দুটি ম্যাচে অপেক্ষাকৃত ভালো খেলা আফগানিস্তানকে তৃতীয় ম্যাচে কিভাবে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ সেটিই ছিল আলোচনায়।

 

কিন্তু টাইগাররা প্রমাণ করেছে তারা ফিরতে জানে। দীর্ঘ দশ মাস একদিনের ক্রিকেটের বাইরে থাকা দলটি আগের ছন্দে ফিরতে হয়তো একটু সময় নিয়েছে। কিন্তু ফিরেছে ফেরার মতই। বাঘের ডেরায় এসে উল্টো হুঙ্কার দেয়া আফগানদের মাটিতে নামিয়েই তারা জানান দিয়েছে- এই টাইগার, সেই টাইগার।

 

মিরপুরে আজ তিন ম্যাচ সিরজের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। অনেক দিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খোজা সৌম্য সরকার আজও ছিলেন ব্যর্থ। দলীয় ২৩ রানে ব্যক্তিগত ১১ রানের মাথায় সৌম্য ক্যাচ দেন উইকেটের পিছনে।

 

তবে এরপরের গল্পটা শুধুই বাংলাদেশের। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে তিন নম্বরে উঠে আসা সাব্বির রহমানকে নিয়ে দারুণ এক পার্টনারশিপ গড়েন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার তামিম ইকবাল।

 

আফগান বোলারদে কচুকাটা করে দ্বিতীয় উইকেটে তোলেন ১৪০ রান। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে সাব্বির রহমান ফিরে গেলেও তামিম খেলতে থাকেন তার মতো।

 

অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশী ব্যাটিংয়ের বিজ্ঞাপন হয়ে থাকা তামিম আজ আর হাফ সেঞ্চুরিতে থামেননি। তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭ম হাফ সেঞ্চুরি। মোহাম্মদ নবির বলে আউট হওয়ার আগে ১১৮ বলে করেছেন ১১৮ রান।

 

তামিম-সাব্বির জুটি যতক্ষণ ছিল বাংলাদেশের রান তিনশোর কোটা পার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রচণ্ড। ৩৮তম ওভারে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম যখন আউট হন দলীয় রান তখন ২১২। কিন্তু মিডল অর্ডার শেষ ১০ ওভারের সদ্যবহার করতে না পারায় ২৭৯ রানে থামে টাইগার ইনিংস।

 

শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২ বলে ৩২ রান ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করার মত ইনিংস খেলতে পারেননি।

 

২৮০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক মাশরাফির বলে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানকে হারায় আফগানিস্তান। মোহাম্মদ শেহজাদকে শূণ্য রানে ফেরান মাশরাফি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে নওরোজ মঙ্গল ও রহমত শাহর ৪৭ রানের পার্টনারশিপ। এই জুটি ভাঙার পর আফগান ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে ওঠেন বাংলাদেশের বোলাররা।

 

মোশাররফ হোসেন আর তাসকিনের বোলিং তোপে এক প্রকার উড়েই গেছে স্তানিকজাইয়ের দল। মোশাররফ ২৪ রানে ৩টি ও তাসকিন ৩১ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন। ৮৯ রানে ৭ উইকেট হারানো আফগানিস্তান দল ৩৩ দশমিক ৫ ওভারে ১৩৮ রানে অল আউট হয় ।

 

স্কোর: বাংলাদেশ: ২৭৯/৮
আফগানিস্তান: ১৩৮
বাংলাদেশ ১৪১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্যা: ম্যাচ তামিম ইকবার
সিরিজ: ২-১ ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: