শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

বার কাউন্সিল নির্বাচনে আ. লীগের জয় বিএনপির ভরাডুবি

১৬ মে ২০১৮, ১১:২৬:৫৬

সুতীর্থ বড়াল: সারাদেশের আইনজীবীদের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’ নির্বাচনে জয় পেয়েছে আ,লীগ আর ভরাডুবি হয়েছে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের নীল প্যানেলের। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বার কাউন্সিলের কর্তৃত্ব থাকছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের আইনজীবীদের হাতে।
বার কাউন্সিলের সূত্র অনুসারে, সারাদেশের ৭৮টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই আলাদা করে কেন্দ্রগুলোতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই তথ্য অনুসারে নির্বাচিত ১৪টি পদের মধ্যে ১২টি পদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, বিএনপি মাত্র দুটি পদে জয়লাভ করেছে। বার কাউন্সিলের সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, সারাদেশে ভোট গ্রহণ গত সোমবার শেষ হয়েছে। কেন্দ্র থেকে রেজাল্ট ঘোষণা শেষে রেজাল্ট শিটগুলো বার কাউন্সিলে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও অনেক কেন্দ্রের রেজাল্ট শিট আমরা হাতে পাইনি। সবগুলো রেজাল্ট শিট হাতে পেলে তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে পাঠানো হবে। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বার কাউন্সিল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন।

তবে বার কাউন্সিল সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ক্যাটাগরিতে সাতটি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেনÑ বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন,মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল। তবে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে শুধু সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া, গ্রæপভিত্তিক সাতটি পদের মধ্যেও আওয়ামীপন্থীরা ছয়টি পদে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচিতরা হলেনÑ (গ্রæপ এ) অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু,(গ্রæপ বি) মো. কবির উদ্দিন ভ‚ঁইয়া,(গ্রæপ ডি) এ. এফ. মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, (গ্রæপ ই) পারভেজ আলম খান, (গ্রæপ এফ) মো. ইয়াহিয়া এবং (গ্রæপ জি) রেজাউল করিম মন্টু। তবে শুধু (গ্রæপ সি)-এ বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নিয়ম অনুসারে ১৪টি পদের মধ্যে আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে সাতজন এবং আঞ্চলিকভাবে (গ্রæপ আসনে) সাতজন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য সদস্য নির্বাচিত হন। আঞ্চলিক সাতটি আসন হলোÑ ‘গ্রæপ এ’-তে ঢাকা জেলার সব আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রæপ বি’-তে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রæপ সি’-তে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রæপ ডি’-তে কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রæপ ই’-তে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রæপ এফ’-এর মধ্যে রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি এবং ‘গ্রæপ জি’-তে রয়েছে দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ অনুসারে প্রতি তিন বছরে একবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার কাউন্সিল মূলত ১৫ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। উক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে বার কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্ব পান। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যে কারণে এই পদটি ব্যতীত অবশিষ্ট ১৪ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্যে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে মনোনীত প্রার্থীরা ছিলেনÑ বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, জেড আই খান পান্না, পরিমল চন্দ্র গুহ ও শ ম রেজাউল করীম। এছাড়া, সাতটি আঞ্চলিক সদস্য পদে আছেনÑ এ গ্রæপ থেকে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, বি গ্রæপ থেকে কবির উদ্দিন ভ‚ঁইয়া, সি গ্রæপ থেকে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, ডি গ্রæপ থেকে এ এফ রুহুল আনাম চৌধুরী, ই গ্রæপ থেকে পারভেজ আলম খান, এফ গ্রæপ থেকে ইয়াহিয়া ও জি গ্রæপ থেকে রেজাউল করিম মন্টু।

বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে প্রার্থীরা ছিলেনÑ সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া।
আর সাতটি আঞ্চলিক সদস্য পদে ছিলেনÑ এ গ্রæপ থেকে অ্যাডভোকেট মো. মহসীন মিয়া, বি গ্রæপ থেকে অ্যাডভোকেট বাধন কুমার গোস্বামী, সি গ্রæপ থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, ডি গ্রæপ থেকে অ্যাডভোকেট এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন, ই গ্রæপ থেকে শাহ মো. ছারিরুর রহমান, এফ গ্রæপ থেকে অ্যাডভোকেট মো. ইসহাক এবং জি গ্রæপ থেকে শেখ মো. মোখলেছুর রহমান।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সরকার সমর্থকরা জয় পেয়েছিলেন ১১টি পদে। বাকি তিন পদে জয় পেয়েছিলেন বিএনপি জোট সমর্থক প্রার্থীরা।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: