বাড়ছে ক্ষতিকর পলিথিন উৎপাদন-ব্যবহার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

বাড়ছে ক্ষতিকর পলিথিন উৎপাদন-ব্যবহার

10 August 2014, 4:39:41

হাবিব রহমান
আইন আছে। নিষিদ্ধ উৎপাদন। তারপরও অবাধে উৎপাদন হচ্ছে এইচডিপিই (হাইয়ার ডেনসিটি পলি ইথালিন) পলিথিন। বাড়ছে ব্যবহার। দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৫ কোটিরও বেশি পলিব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে  ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছেন খুচরা দোকানে। পার পেয়ে যাচ্ছেন মূল উৎপাদনকারীরা।
পরিবেশবিদরা বলছেন, মূলত সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই বন্ধ হচ্ছে না পলিথিনের অবৈধ ব্যবহার। কারণ পলিথিন উৎপাদন কারখানা বন্ধ না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে খুচরা বাজারে। এতে পলিথিন উৎপাদন কমছে না। অন্যদিকে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের কথা বলা হলেও উৎপাদন সংকট, দাম বেশি, সচেতনতার অভাবসহ বেশ কিছু কারণে অধরাই থেকে যাচ্ছে বিষয়টি।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে সারা দেশে পলিথিনের ব্যবহার, উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত নিষিদ্ধ করে সরকার। পরিবেশ সংরণ আইনে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদ- অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে।
পলিথিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এমন কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় শতাধিক পলিথিন কারখানা সচল। সাদা-কালো-নীলসহ বিভিন্ন রঙ ও সাইজের পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন এবং বিপণন করা হচ্ছে এসব কারখানা থেকে। রাজধানীর বেশ কিছু কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানেই পলিথিনের ব্যাগ রয়েছে। ক্রেতাদের কেনা পণ্য দেওয়া হচ্ছে এসব ব্যাগে। এদিকে আইন অনুযায়ী এসব ব্যাগ নিষিদ্ধ হলেও কর্তৃপক্ষের যেন কোনও নজর নেই। মাঝে মধ্যে দু-একটি ঝটিকা অভিযানেই দায় সারা হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাঁচা তরকারির ব্যবসায়ী মজিবর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, পলিথিনে না দিলে কাস্টমাররা নিতে চান না। তাই বাধ্য হয়েই পলিথিনের ব্যাগ রাখতে হয়।
আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে প্রথম শুরু হওয়া পলিথিনের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি মাসে সারা দেশে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অথচ ২ বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল ২০ কোটির মতো। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে নিষিদ্ধ এ পণ্যের ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিনের কারণে দূষিত হচ্ছে পানি, মাটি ও বাতাস। তিগ্রস্ত হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পলিথিনের কারণে স্ক্রিন ক্যানসারসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। পরিত্যক্ত পলিথিন মাটির ওপর একটি স্তর তৈরি করে। এতে আলো, বাতাস ও পানির অভাবে গাছপালা মরে যায়। এভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ও ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পলিথিন বন্ধ করে দেওয়ার পর পাটের তৈরি কম দামের ব্যাগ চালুর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ ও আন্তরিকতার অভাবে তা বিরল। তাই অনেক সচেতন ক্রেতা-বিক্রেতা চাইলেও তা ব্যবহার করতে পারেন না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব মো. আলমগীর কবির গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসাছি- ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পলিথিন উৎপাদনের কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হোক। একই সঙ্গে বিকল্প পাটের ব্যাগ উৎপাদনে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হল- সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলেই পলিথিনের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: