বাড়ছে বসতি, দ্রুত কমছে কৃষিজমি | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

বাড়ছে বসতি, দ্রুত কমছে কৃষিজমি

27 April 2014, 3:55:21

DSC03109

ছবি-মো: রিপন রানা

ছবিটি ধারণ করা হয়েছে জোড্ডা ইউনিয়নের শংকরপুর তালতলা বাজারের পূর্ব পাশে থেকে।

 

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস।(আমাদের নাঙ্গলকোট ডট কম) ২৭ এপ্রিল-২০১৪ ইং।

অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণ, নগরায়ন, শিল্প প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, ইটভাটা ও পুকুর খননের কারণে প্রতি বছরই কমছে কৃষিজমি। কৃষি জমিকে রক্ষা করার আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন নেই। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বেশীরভাগ গ্রামই শহরে পরিনত হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং কৃষি অফিসের হিসেব মতে প্রতি বছরই একশ’ ভাগের একভাগ কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। দেশে এর পরিমান প্রতি বছর প্রায় এক লাখ হেক্টর। এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উষ্ণায়নে জাতি এখন বিপর্যস্ত। শিল্পায়নের নামে গ্রাম হচ্ছে নগর। উন্নয়নের নামে কৃষি জমিকে অকৃষি বানিয়ে মিল কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনাগুলো অবাধে তৈরী হচ্ছে। কৃষি জমি বিক্রি করে ভূমিহীন হচ্ছে কৃষক। মহানগরী গুলোতে বাড়ছে বস্তি। অপরাধ জগতে পা বাড়াচ্ছে ভূমিহীন কৃষিজীবির সন্তানেরা।

একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ নষ্টকারি স্থাপনা হওয়ায় দেশের প্রকৃতির ধরন পাল্টাতে শুরু করেছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অসময়ে শীত-গরম-বর্ষার আগমন ঘটছে। কৃষি ফসল উৎপাদনে যার প্রভাব অনাকাংখিত। আবার বাড়ি ঘর নির্মাণ, নগরায়ন, শিল্প প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা ও পুকুর খননে প্রতি বছরই ব্যাপকভাবে কমছে কৃষি জমি। আপাত: দৃষ্টিতে এটা উন্নয়ন মনে হলেও ভবিষ্যতে যার প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে তা প্রতি বছর ১ লাখ হেক্টর। যার খেশারত দিতে হচ্ছে কৃষি বা ফসল উৎপাদনশীল জমিকে।

নগদ অর্থের লোভে কৃষি জমি বিক্রি করে বাস্তুহারা হচ্ছে কৃষক এবং সংকুচিত হচ্ছে কৃষি জমি। কৃষকদের ফাদে ফেলে জমিগুলো হাত বদল হওয়ার ফলে কৃষি জমি থেকে কৃষকের অধিকার কমে যাচ্ছে। এসব কারণে বিভিন্ন গ্রাস থেকে কৃষি জমিকে রক্ষা করা হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেন্স। পরিবেশবাদিরা মনে করেন এখনই কৃষি জমি রোধে কার্যকরি পদক্ষেপ না নিলে পুরো জাতিকে যার খেশারত দিতে হবে।

অবশ্য বর্তমান সরকার ২০১০ সালে কৃষি জমি রোধে আইন করলেও খোদ সরকারের আন্তরিকতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অদক্ষতার কারণে তা বাস্তবায়ন না হয়ে আতুর ঘরেই রয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে টাকা দিলেই ইটভাটা তৈরীর অনুমোদনের সনদ পাওয়ার অভিযোগ আছে। অপরদিকে পুকুর খননের কোন অনুমোদন লাগছে না। নির্বিচারে কৃষি জমিতে চলছে পুকুর খনন ও ইটভাটার কাজ।

শুধু নাঙ্গলকোট উপজেলাতে ২০১৩ সালে কৃষি জমিতে পুকুর খনন ঘর বাড়ী নির্মান ইট ভাটা ইত্যাদি হয়েছে ১৩৫ হেক্টর। আর ইটভাটা রয়েছে ৩৫ হেক্টর জমিতে। যা এখনো অব্যাহত আর পুকুরগুলো মাঠের এমন এক মোহনায় তৈরী হচ্ছে যে বর্ষাকালে পুকুরের চারপাশের জমিতে পানি থাকায় কৃষি ফসল হচ্ছে না। আবার এসব পুকুর বিলের পানি নিস্কাশনে বাধার সৃস্টি করে চলেছে। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বিশেষ করে এর খেশারত দিতে হচ্ছে প্রকৃত কৃষকদের। এ ছাড়াও ইটভাটায় পরিবেশ নষ্ট হলেও প্রশাসন এখানেও অজানা কারণে থাকছেন নিশ্চুপ। আবার কখনো কখনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও কোন কাজ হচ্ছে না। আদালতের রায়কেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে মাটি পুড়ানো ব্যবসা।

শুধু সরকার নয়, প্রত্যেক জনগণকে কৃষি জমি রোধে সোচ্চার হতে তাগিদ দিচ্ছেন পরিবেশবাদিরা ও সচেতনমহল। তারা বলছেন খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান, বস্ত্র, জ্বালানী ও বর্তমানে বিনোদনের মতো বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যেসব আমরা পেয়ে থাকি-তার চেয়েও বেশী জরুরী হয়ে পড়েছে কৃষি জমির সংকোচন রোধ করা। কৃষি জমিকে যে কোন মূল্যে ঠিক রাখতে না পারলে সব কিছু উলট পালট হয়ে যাবে। এক সময় দেখা যাবে আমাদের অস্তিত্ব, ঐতিহ্য কৃষিপ্রধান এই দেশ আর থাকবে না।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: