বিদ্যুৎ ও এলএনজি পাইপলাইনের করিডর পাচ্ছে ভারত! | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

বিদ্যুৎ ও এলএনজি পাইপলাইনের করিডর পাচ্ছে ভারত!

10 October 2016, 9:58:53

বিদ্যুৎ ও এলএনজি পাইপলাইনের করিডর পাচ্ছে ভারত। এর মাধ্যমে বিহার রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে দেশটি। আর পশ্চিবঙ্গের হলদিয়ায় একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। সেখান থেকে পাইপলাইন বাংলাদেশের খুলনা-রংপুর হয়ে ভারতের শিলিগুড়িতে শেষ হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের খোলাবাজার থেকে আরও বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। প্রতিবেশি দেশটির সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।

ভারত সফর শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দেশে ফেরার পর গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের খোলাবাজারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি হয়। বিদ্যুতের দাম পড়বে ইউনিটপ্রতি দুই টাকা ২০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সায়। প্রতি ঘণ্টায় সর্বনিম্ন এক মেগাওয়াট বিদ্যুতের ক্রেতা ওপেন মার্কেট বা এ খোলাবাজার থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের খোলাবাজার থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ কিনতে পারলে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ জন্য উভয় দেশের সরকারকে ক্রস বর্ডার ইলেকট্রিসিটি ট্রেডকে উন্মুক্ত করতে হবে। এখন ভারত থেকে বাংলাদেশ যে বিদ্যুৎ কিনছে তা ওই দেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নেতৃত্বে গত ১ অক্টোবর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের ১৭ কর্মকর্তা ভারত সফরে যান। ওই সফরে ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী ও কয়লামন্ত্রী এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ভারতের ভূখ- ব্যবহার করে ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, ভারতের খোলাবাজার থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহার করে ভারতকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকগুলোতে দুই দেশেই বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য ভারত তাদের সঞ্চালন লাইন ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে। নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ দুটি দেশ থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আনতে হলে প্রয়োজন হবে ভারতের ভূমি ব্যবহারের। ভারত তাদের ভূমি ব্যবহার করে ভুটান ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। যদি নেপাল, ভুটান ও ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনতে পারে তাহলে বিদ্যুতের দাম বহু অংশে কমে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো ক্রেতা ভারতের কোনো বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করলে ক্রেতাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান সরবরাহ লাইন থেকে ওই বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নির্দিষ্ট বিতরণ কোম্পানি। বাংলাদেশও এ পদ্ধতিতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চায়। দরপত্রের মাধ্যমে ভারতের খোলাবাজার থেকে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। এ বিষয়ে দেশটির নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এখন ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেই বিদ্যুৎ আমদানি সম্ভব।

ভারতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানী পাওয়ার লিমিটেড ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে সরকারকে। বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ। এর বিনিময়ে সেখান থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত দুটি বিদ্যুতের করিডর চেয়েছে। এখন ভারত একটি বিদ্যুতের করিডর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সঞ্চালন লাইনটি ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর হয়ে ভারতের বিহার পৌঁছবে। এই সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা হবে তিন হাজার মেগাওয়াট।

পশ্চিবঙ্গের হলদিয়ায় একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করছে ভারত। এখান থেকে একটি পাইপলাইন বাংলাদেশের খুলনা-রংপুর হয়ে ভারতের শিলিগুড়িতে গিয়ে শেষ হবে। এখান থেকে ভারত বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন থেকে খুলনার ৭৮০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস দেবে ভারত। কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে সরকারি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের এলপিজি ব্যবসায়ীদের ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় এলপিজি ব্যবসায় বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি এলপিজি উদ্যোক্তরা ভারতে এলপিজি খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: