শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

বিদ্যুৎ জ্বালানি সমস্যা না হলে দ্রুত দেশের উন্নয়ন হতো – বাপ্পি মজুমদার ইউনুস

৩ মে ২০১৮, ১২:২৮:৩১

গত ১০ বছরে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়লেও প্রতিযোগী অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ৫৩ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, বিদ্যুতের সংকট তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী কম্বোডিয়ার মাত্র ৬ শতাংশ ব্যবসায়ী ও দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশ ভুটানের মাত্র ১২ শতাংশ ব্যবসায়ী নিজ দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যার কথা জানিয়েছেন, সুত্র ইন্টারনেট।

যার ফলে বিদ্যুৎ-জ্বালানির সমস্যা না থাকলে দেশে আরও দ্রুত উন্নয়ন হতো বলে মনে করি ।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের মধ্যে বড় রকমের সমন্বয়ের অভাব থাকলে এ ধরনের বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। আমাদের বিদ্যুৎব্যবস্থা যেসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে এ সমন্বয়হীনতা অন্যতম। তাই ওই বিপর্যয়কে দুর্ঘটনা বলা যায় না। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের মধ্যে সুষম সমন্বয় হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় উল্লিখিত তিনটি ব্যবস্থার নিজ নিজ কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে যেমন সমন্বয় জরুরি, তেমনি নিজ নিজ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মধ্যেও অনুরূপ সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি তাদের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয়ও দরকার। অথচ এর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। উৎপাদন থেকে বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছানো অবধি ধাপে ধাপে বিদ্যুৎব্যবস্থার নিরাপত্তা রক্ষায় যেসব সুরক্ষা দেওয়া হয়, সেসব সুরক্ষার মধ্যে পারস্পরিক প্রযুক্তিগত সমন্বয় থাকে। ফলে এক স্থানে সমস্যা হলে অন্য কোনো স্থানে যেন তার প্রভাব না পড়ে সে জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে থাকা প্রযুক্তিগত সুরক্ষাদির মধ্যে সমন্বয়ের সঙ্গে ওসব ক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণেও সমন্বয় থাকে। সেসব ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার কারণেই বিদ্যুৎব্যবস্থা এই বিপর্যয়ের শিকার।

বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের আগে পিডিবির কর্তৃত্বাধীনে এ সমন্বয়ের দায়িত্ব ছিল তখন এলডিসির। এখনো এলডিসির। কিন্তু পিডিবি ভেঙে ফেলায় এলডিসি এখন পিজিসিবির অধীন। বিদ্যুৎ বিতরণ এখন ভিন্ন ভিন্ন কম্পানির আওতাধীন। ব্যক্তি ও সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। পিডিবির মালিকানায়ও উৎপাদন করা হয়। এসব কম্পানির মধ্যে প্রশাসনিক ও কারিগরি সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎব্যবস্থায় সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ সমন্বয় বজায় রাখার ব্যাপারে এলডিসি বড়ই দুর্বল। অর্থাৎ পুরো বিদ্যুৎব্যবস্থা এখন সমন্বয়হীনতার শিকার। তবে এলডিসির এ দুর্বলতা কারিগরি নয়, প্রশাসনিক। এ দুর্বলতাকে গ্রিডের দুর্বলতা বলে গণ্য করা হলে বিভ্রান্তি বাড়বে।

বিদ্যুৎব্যবস্থার যে অবস্থা, তাতে উৎপাদন বা বিতরণ, যেকোনো প্রক্রিয়ার সমস্যার কারণে যদি এ বিপর্যয় হয়, তা বুঝতে পারার মতো কোনো উপায় নেই। কোথায় কী সমস্যা সৃষ্টির কারণে আজ পুরো বিদ্যুৎব্যবস্থা আমাদের চোখের সামনে ভেঙে পড়ল, তা বুঝতে পারার মতো কোনো ব্যবস্থা যেমন নেই, তেমনি এ প্রক্রিয়ায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলও কমে গেছে। প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো বুঝতে পারা ও তা মোকাবিলা করার জনবল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের জন্য নতুনভাবে অনুরূপ জনবল তৈরি হচ্ছে না। সে জনবল তৈরির বিষয়টি গুরুত্বও পাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎব্যবস্থার মেরামত ও সুরক্ষায় সমন্বয়হীনতা ও সংকট বাড়ছে। এ বিষয়টি আমলে না নিয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় রোধ করা অসম্ভব।

বিশ্বের ৪৭টি স্বল্পোন্নত দেশে একযোগে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশের হয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সিপিডি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হতে হলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের দরকার হবে। গৃহস্থালির তুলনায় শিল্প ও সেবা খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সুলভমূল্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে শুধু সরকারি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে।

সূত্র:

  • ইন্টারনেট
  • জাতিসংঘ জ্বালানী প্রতিবেদন
  • তথ্যকোষ
  • ইউকিপিডিয়া

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: