বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত এই দেশে পর্যটনশিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ানো অপার সম্ভাবনা রয়েছে...

বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা

26 September 2020, 6:48:29

২৭ সেপ্টেম্বর। আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে এই দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। বাংলাদেশও বিশ্বের পর্যটনীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ।

অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে এদেশের প্রতিটি স্থান। পাহাড় ,বন ,সমুদ্র ও জঙ্গল প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য। শহরে চোখ রাঙ্গানো অট্টালিকা আর গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ,খাল-বিল ও আরো অজানা কতকিছু। এসব কিছু যেন অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি। সুপ্রাচীন কাল থেকে মানুষ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে আসছে। পৃথিবীর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখার জন্য মানুষ সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়েছে। মানুষের এই দুর্নিবার ভ্রমণকাঙ্ক্ষা থেকে পর্যটন শিল্পের উৎপত্তি ।সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে পর্যটনের রূপ ও প্রকৃতিতে এসেছে অভাবিত পরিবর্তন। পর্যটন শুধু এখন কোন ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দেশ ভ্রমণ নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি বিশ্বজনীন শখ ও নেশা। পর্যটন একটি শিল্প, যা অনেক দেশের অর্থনীতির একটি মুখ্য উপাদান। ইতিমধ্যে এই শিল্প বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিকাশমান খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তদ্রুপ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আকর্ষণও বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের নজর কেড়েছে ।বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ।নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং প্রাচীন সভ্যতার একটি কেন্দ্র হিসেবে পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় বা পরিচিত। বাংলাদেশের সুন্দরবন ,সোনারগাঁও ,জাফলং ,চা বাগান, কক্সবাজার, কাপ্তাই ,রাঙ্গামাটি ,বান্দরবান, ময়নামতি ও পাহাড়পুরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ,ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানসমূহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ। সাম্প্রতিককালে এদেশে নজর কাড়ানোর মত বিভিন্ন পার্ক গড়ে উঠেছে। আরে এসবকিছু যেন পর্যটকদের নজর কেড়েছে ।যা অত্যন্ত মনোরম দৃশ্যের দ্বারা গঠিত। প্রাচীনকাল থেকে বহুু জ্ঞানী-গুণী বিদেশি পর্যটক বাংলার বুকে পা রেখে মুগ্ধ হয়েছেন ।করেছেন এদেশের প্রকৃতির প্রশংসা। কিন্তু আমাদের পর্যটন শিল্প যেমন সম্ভাবনাময় ঠিক তেমনি বহুমুুখী সমস্যায় জর্জরিত।

অপার প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত এই দেশে পর্যটনশিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত না হওয়ায় পর্যটন শিল্পের আশানুরূপ বিকাশ ঘটছে না।১৯৯২ সালে ঘোষিত পর্যটন সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যার কারণে পর্যটন শিল্পে সমস্যায় নিমজ্জিত এখনো। যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অভাব,অনুন্নত পর্যটন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তার অভাব, সামাজিক বাধা ও উন্নত তথ্যের অভাব প্রভৃতি। এমনকি অধিকাংশ পর্যটনীয় স্থানগুলোতে দেখা যায় অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ।আর এসব অপরিষ্কার একমাত্র সচেতনতাবোধ না থাকার কারণে কতিপয় লোক এমন কাজটি করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে  আমাদের প্রত্যেক পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে। দেশের পর্যটন শিল্পের সংকট উত্তরণ এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য সুষ্ঠুভাবে পর্যটন সম্পর্কিত জাতীয়় নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে আধুুনিকায়ন করে সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে।

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থানগুলোসমূহে যাতায়াতের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের পর্যটন কেন্দ্র ও আকর্ষণীয় স্থান গুলোর ডকুমেন্টারি তৈরি করে বিদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের কর্মসংস্থানের সীমাহীন সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা বেকারত্ব হ্রাসে সহায়ক হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। যার ফলে,  দেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে।

তাই আসুন,আমরা  সকলে মিলে প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির প্রকৃতিকে ভালবাসি আর পর্যটকদের আপন মনে গ্রহণ  করি নিজ দেশের পরম আতিথেয়তায়। তাহলে গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।

মু, সায়েম আহমাদ
শিক্ষার্থী,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
ঢাকা কলেজ,ঢাকা।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x