বিয়ের বয়স, ম্যচিওরিটি প্রসঙ্গ : খন্দকার আলমগীর হোসাইন | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / নাঙ্গলকোট / বিস্তারিত

বিয়ের বয়স, ম্যচিওরিটি প্রসঙ্গ : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

21 April 2017, 11:57:04

 

এক ভাই বিদেশ থেকে উচ্চডিগ্রি হাসেল করে এসে বিয়ে করলেন। বিয়ের সময় বয়স ছিল ৩০। যথেষ্ট পরিণত তাই না? কিন্তু বেচারার স্ত্রীর নিয়মিত অনুযোগ ছিল তার ম্যাচিউরিটি নিয়ে। স্ত্রীর প্রয়োজন সংসার ইত্যাদি কিছুই নাকি তিনি বুঝেন না। অবশ্য দু বাচ্চার পিতা, সে ভাই এখন সব বুঝতে পেরেছেন। চিনতে পেরেছেন, ফুলকপি বাঁধাকপি, দেশি আর বিদেশি কইয়ের পার্থক্য।
ভারতে একজন নির্যাতিতা মুসলিম নারী চিঠি লিখেছিল সাহায্য চেয়ে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সেনাবাহিনী প্রেরণ করলেন অত্যাচারী দাহিরের বিরুদ্ধে। সেনাপতি ছিলেন ১৭ বছর বয়সী বিবাহিত এক ‘কিশোর’ মোহাম্মদ বিন কাসিম। তো ১৭ বছর বয়সে ম্যাচিউরিটি না আসলে সামান্য কিছু সৈন্য নিয়ে দাহিরের দম্ভ উড়িয়ে দিয়েছিল কীভাবে?
পিতৃহীন যে ছেলেটা ১২ বছর বয়স থেকে ভ্যান চালিয়ে আয় করে পরিবার চালায়, তারও কি ম্যাচিউরিটি আসতে ২৫ বছর লাগবে? উহু! ম্যাচিউরিটি বয়স দিয়ে হয় না। ম্যাচিউরিটি আসে কাজ ও যোগ্যতা দিয়ে।
আপনি ২২ বছর বয়সী ছেলের হাতে গেম খেলার সামগ্রী কিনে দিয়ে ম্যাচিউরিটির আশা করতে পারেন না। এই ছেলে ৩০ বছর বয়সেও ফিডার খাবে। কারণ তাকে এভাবে বড় করে তোলা হয়েছে, অথবা তুলতে সাহায্য করা হয়েছে।
এখানে যারা আছেন, তাদের নানী দাদীদের বিবাহের ইতিহাস শুনে দেখেন। কত অল্প বয়সে তারা বিয়ে করেছেন। তখনকার মেয়ে বা ছেলেদের ম্যাচিউরিটি হাসেলের নামে বিয়ে আটকে থাকে নি। বিয়েকে ম্যচিউরিটির নামে ভয়ানক বস্তুর রুপ দান করায়, বিয়ে জটিল হয়ে গেছে। ২৫ বছর বয়সের নীচে কোন ছেলে বিয়ে করলে ভ্রুকুচকে তাকায় মানুষ। কিন্তু কেন ভাই? কয়েক দশক আগে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তাহলে কোন সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের দেরীতে বিয়ের মানসিকতা গড়ে উঠেছে?
আমরা আমাদের অজান্তেই অথবা জ্ঞাতসারেই এমন একটা বিয়ে সংস্কৃতি দাড় করিয়েছি, যেখানে বিয়েটা কেবল একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বিয়ের জন্যে যৌবনের আবেদন ও অযাচার আটকে থাকে না। পশ্চিমাদের বিয়ে সংস্কৃতি কী? তারা দীর্ঘকাল বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড হিসেবে যৌবন উপভোগ করেন।
এমনকি বাচ্চাকাচ্চাও হয়। দীর্ঘকাল পর তারা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। আপনি কি ভাবছেন, তাদের বিয়ে সংস্কৃতি শুরু থেকেই এমন ছিল?
উঁহু! ধীরেধীরে বদলে গিয়ে আজকে এই অবস্থায় দাড়িয়েছে। এই পরিবর্তনের ধারায় আমরাও গা এলিয়ে দিচ্ছি। শংকাটা এখানেই।
চোখ মেললেই দেখতে পাবেন, প্রেম/গফ/বফ এসব খুব পরিচিত আমাদের কাছে। দীর্ঘকাল এ প্রেম নিয়েই মত্ত থাকি। তারপর বিয়ে… এমনকি এংগেজমেন্ট করে রাখে কয়েকমাস। এই সংস্কৃতি কোথা থেকে এলো? আর এর গন্তব্য কোথায়?
পরিস্থিতির ভয়াবহতা কি স্পষ্ট? যদি স্পষ্ট হয়, তাহলে আপনার সামনে দুটা পথ খোলা। সহীহ ও হালালভাবে আল্লাহর দেয়া নেয়ামতকে উপভোগ করা। অথবা শয়তানি তরীকায় নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া।
আচ্ছা, একটা ছেলে বা মেয়ে বিয়ে না করলে করে কী? গার্লফ্রেন্ড, ভাইজোন, বোনজোন, বান্ধবীজোন নানা স্টাইলে অনর্থক ”শ্রম, সময় ও অর্থ” নষ্ট করে। বিয়ে না করে ফায়দাটা হচ্ছে কী? রঙ পারসনের জন্যে সময় মেধা সব অপচয় করছে তরুনরা। দেশ এগোচ্ছে এই অপচয়ে? একটা ছেলে বা মেয়ে, তাদের সব প্রেম, আকর্ষণ ও তন্ময়তা এমন ব্যক্তিদের পিছনে অযথা নষ্ট করছে, যে তার কেও না। আজকে একজনকে মুগ্ধ করতে সময় নষ্ট করছে, তো কাল অপরজনকে। পড়াশোনা, মেধা, মনযোগ বিনষ্ট হচ্ছে না এতে???
বিয়ে ও অজুহাতনামা-২
স্ত্রী কি ক্যারিয়ার এর জন্যে প্রতিবন্ধক?
বিয়েতে দেরী করার যত অজুহাত দেয়া হয়, তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ক্যারিয়ার নির্মাণ’! স্ত্রী কি ভালো ক্যারিয়ার এর জন্যে বাধা? আচ্ছা যিনি বিয়ে করছেন না, স্ত্রীকে বাধা ও ঝামেলা মনে করে। তিনি ‘প্রেম’, বিপরীত জেন্ডারকে আকর্ষিত করার পিছনে কি একদমই সময় অপচয় করছেন না? অশ্লীল দৃশ্য দেখে, মনমানসিকতা নষ্ট করে আর বিভিন্ন মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করে ক্যারিয়ার নির্মাণ?
স্ত্রী, বিয়ে এসবকে নিজের জীবনের প্রতিবন্ধকতা ভাবছেন কেন? স্ত্রী হতে পারে আপনার সহকর্মী। সহধর্মিণী বলে না? আপনার অনেক জটিল কাজকে সহজ করে দিবেন তিনি। আপনার পড়াশোনা থেকে নিয়ে ব্যবসা, ঘর সামলানো সবকিছুতেই তিনি আপনাকে সাপোর্ট করবেন। আপনার ঘরে যদি আপনাকে সাহায্য করার জন্যে মা থেকে থাকেন, এখন আরেকজন যুক্ত হল। তিনি আপনার স্ত্রী। স্ত্রী ও সংসার ক্যারিয়ারের জন্যে প্রতিবন্ধক নয়। বরং এডভান্টেজ.. আগে আপনার দুটা হাত, একটা মাথা আপনাকে সাপোর্ট করত। এখন সেখানে ডাবল সাহায্য পাচ্ছেন। সর্বোপরি, আল্লাহর অনুগ্রহের বর্ষণ তো আছেই।
বিয়ে করলে, নিঃসংগের অনুভূতি (loneliness), বিষণ্ণতা (depression), চেপে থাকা মানসিক কষ্ট (sadness) সব লাঘব হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আপনি পড়ায় গতি পাবেন, কাজে উৎসাহ পাবেন। হাজারো হারাম থেকে বাচায়, আল্লাহর রহমত ও দয়ায় সিক্ত হবেন। আপনার স্ত্রী আপনার জন্যে দুয়া করবে, আপনাকে মানসিক সাপোর্ট দিবে। স্ত্রী কখনো ক্যারিয়ারের জন্যে প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: