বয়স যখন আঠারো | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

বয়স যখন আঠারো

19 June 2014, 8:14:07

 

স্কো. লি. আহসান উল্লাহ (অব.)

শৈশব-কৈশোরের নানান আনন্দ-উৎসব, বড়দের শাসন-তোষণ এবং পারিবারিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-নিষেধের মধ্য দিয়ে বাঙালি শিশুরা বড় হতে হতে একসময় আঠারো বছর বয়সে এসে পৌঁছে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তখন তারা তরুণ-তরুণী বা যুবক-যুবতী। রাষ্ট্রীয় আইনে ‘সাবালক’ বা ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ (adult)। ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধ করার যোগ্য। স্বাধীনভাবে চলা, সিদ্ধান্ত নেয়া ও মতামত প্রকাশ করার উপযুক্ত। শ্রম আইনে কর্মোপযোগী শ্রমিক বা কর্মী। জীবন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রথম পা ফেলতে বৈধভাবে সক্ষম। বাংলাদেশের বাস্তবতায়, যুব সমাজের এক বিপুল অংশ এ সময় আয় রোজগার করে স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকে।

নতুন ‘প্রাপ্তবয়স্ক’দের এই নতুন মানস চেতনাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্তব্য তাকে একজন দায়িত্ববান সুনাগরিক হতে সহায়তা করা। এজন্য প্রথমেই উচিত তার আঠারো বছর বয়সটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাদরে বরণ করা। প্রত্যেক পরিবারের উচিত নামকরণ, অন্নপ্রাশন, আকিকা, জন্মদিন, খত্না প্রভৃতির মতো তাদের সন্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রাপ্তবয়স্কে’র স্বীকৃতি দেয়া। মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ গোল্ডেন ৫+ পাওয়া কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সম্বর্ধনা দেয়ার মতো আঠারো বছর বয়সের তরুণ-তরুণীদেরও সরকারী ও বেসরকারীভাবে সংবর্ধনা দেয়া যেতে পারে। সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্কুল-কলেজ, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, ক্রীড়া ও খেলা-ধুলা ক্লাব-সংঘ-সমিতি, বেসরকারী সামাজিক সংস্থা বা এনজিও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে তারুণ্যকে বরণ করার উপযোগী কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। প্রতি বছর ঈদ-পূজা-পূর্ণিমা উৎসব, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, পয়লা বৈশাখ প্রভৃতির মতো বছরের একটি দিন নব্য যুবাদের জন্য জাতীয়ভাবে উৎসর্গ করা যেতে পারে। পৃথিবীর বহু দেশের মতো (আলবেনিয়া, ইরান, এঙ্গেলা, ক্যামেরুন, চীন, তুরস্ক, থাইল্যাণ্ড, ভেনিজুয়েলা মরক্কো প্রভৃতি) এদিন সরকারী ছুটি হতে পারে। দিনটি আনন্দোল্লাসে, উৎসবে-আনুষ্ঠানিকতায় ভরিয়ে তোলা যেতে পারে। এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের চিত্তে ভালোবাসা, দয়া-মায়া, শান্তি-শৃঙ্খলার সংবাদ পৌঁছে দেয়া যায়। এ সংবাদ তাদের জন্য যেমন, পরিবার, দেশ ও সমাজের জন্যও তেমনই খুব দরকার।

পরিবার, দেশ ও সমাজ তাদের আদর-স্নেহ করে, গুরুত্ব দেয়, মূল্যায়ন করে- এই বোধ তাদেরকে আত্ম-সম্মানী, দায়িত্ববান ও কর্তব্যপরায়ণ হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এই বোধ তাদেরকে সহিংসতা, যুদ্ধ, দুর্নীতি, আত্মঘাতী জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন বিকৃতি প্রভৃতি, যা যৌবনের প্রাণ, প্রাচুর্য ও অমিত সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে পারে, তা থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। এই বোধ তাদেরকে নিজের জীবন সম্মন্ধে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশেপ্রেম, সমাজপ্রেম ও মানবপ্রেম জাগ্রত হবার অণুপ্রেরণা দিবে।এই বোধ তাদেরকে নিজের, পরিবারের, সমাজের ও দেশের ইতিবাচক কাজে ও স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে অনুপ্রেরণা জোগাবে। উপযুক্ত গাইডেন্স এবং সুযোগের অভাবে যেন অতি মূল্যবান মানব জীবন অঙ্কুরেই বিনাশ না হয়, এই বোধ তার গার্ড/ প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে।

তার পাশাপাশি সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় সরকারকেও তার নবাগত প্রাপ্তবয়স্ক জনস্রোতকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে কাজে লাগানোর জন্য চিন্তাভাবনা, কর্ম-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের তাগিদ অনুভব করার সহায়ক হতে পারে। আশার কথা, বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর পয়লা (১) নভেম্বর ‘জাতীয় যুব দিবস’ পালন শুরু করেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (Department of Youth Development)নামে একটি প্রতিষ্ঠানও গঠিত হয়েছে। যুব সমাজকে আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘যুব কল্যাণ তহবিল’ গঠন, পেশাগত প্রশিক্ষণ, খাস পুকুর ও জলাশয় বরাদ্দ, সচেতন করার জন্য ওয়ার্কশপ ও সেমিনার এবং প্রণোদনামূলক পুরষ্কার প্রদান প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এটা নিঃসন্দেহে শুভ প্রচেষ্টা। আশা করি অচিরেই এ প্রচেষ্টা  সমাজের সব স্তরে এবং পরিবারে  ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। তবে এ প্রচেষ্টা যেন দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি ও দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত থাকে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে আবদ্ধ না হয়। তাহলে অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে স্রেফ নিষ্প্রাণ আনুষ্ঠানিকতায় বা দলবাজিতে পর্যবসিত হবে। এ অবস্থা কেউই কামনা করে না। সবশেষে, তারুণ্যের গুরুত্ব উপলব্ধির লক্ষ্যে চিরতরুণ কবি সুকান্তের বিখ্যাত কবিতার কয়েকটি চরণ পুনরুক্ত করে শেষ করছি।

 

আঠারো বছর বয়স

‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ

স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,

আঠারো বছর বয়সেই অহরহ

বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়

পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথরÑবাধা,

এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-

আঠারো বছর বয়স জানেনা কাঁদা।

…      …     …     …

আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,

এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,

বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী

এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।

এ বয়স যেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়।

পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,

এ বয়সে তাই নেই কোন সংশয়-

এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে ॥’

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: