সর্বশেষ সংবাদ
◈ মারছে মানুষে মানুষ!- মোঃ: জহিরুল ইসলাম ◈ নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের নামে ভূয়া আইডি খুলে প্রতারনার ফাঁদ ◈ “কাজী জোড়পুকুরিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ” কমিটি গঠন ◈ ছাত্রদলের সভাপতি পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বাগেরহাটের ছেলে হাফিজুর রহমান ◈ চৌদ্দগ্রাম থানার ওসির নির্দেশে কবরে রেখে যাওয়া বৃদ্ধ মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করলো পুলিশ ◈ নাঙ্গলকোটে ইভটিজিংয়ে প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলা প্রতিবাদে মানববন্ধন ◈ আজ টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন ডোমিঙ্গো ◈ জাতীয় দিবসগুলো শিক্ষকদের ছুটি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে কেন? ◈ কুমিল্লা মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাড়ছে লাশের সারি; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে; পরিচয় মিলেছে সবার ! ◈ কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ৭ যাত্রী নিহত

মহিমান্বিত পবিত্র শবে বরাত

২২ মে ২০১৬, ১০:১৪:৪১

শবে বরাত

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস

আজ রবিবার দিবাগত রাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবে বরাত। প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র শবে বরাতের রাতে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে কুমিল্লাসহ সরাদেশে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত হবে। এ রাতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্যদিয়ে সারারাত অতিবাহিত করবেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানগণ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া খায়ের করবেন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আগামী সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে।

 

মহান রাব্বুল আলামিনের অসীম দয়া যে, তিনি আমাদের জীবনে কল্যাণ দান ও অফুরন্ত সওয়াব হাসিল করার জন্য বিশেষ বিশেষ ‘দিবস’ দান করেছেন। তেমনি ‘শবে বরাত’ হচ্ছে আল্লাহর প্রদত্ত অনুরূপ এক বরকতময় সুবর্ণ সুযোগ। পবিত্র শবে বরাতের অর্থ হচ্ছে ভাগ্য রজনী। এই রাতে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ মুমিনদের ওপর বর্ষিত হয়। মহা ফজিলত পুর্ণ ও বরকতময় রাত লাইলাতুল বরাত। শবে বরাত ফরাসি শব্দ। সবে অর্থ রাত আর বরাত অর্থ ভাগ্য। সেই হিসেবে শবে বরাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সৌভাগ্যের রাত্রি। এই রাত মুসলিম জাতির ভাগ্য রজনী বা শবে বরাত। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই হচ্ছে মহিমান্বিত এই পবিত্র শবেবরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এই রাতটি বিশেষভাবে তাৎপর্যম-িত। কোরআন শরীফ-এর ভাষায় ‘শবে বরাতকে’ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী’ এবং হাদীস শরীফ-এর ভাষায় শবে বরাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সম্পের্কে পবিত্র আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, হুজুরে পাক (সাঃ) সাবান মাস সম্পর্কে এত বেশী খেয়াল রাখতেন যে রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পর্কে ততটা বেশী খেয়াল রাখতেন না। নবী করিম (সাঃ) আরো বলেছেন, রমজানের জন্য তোমরা সাবান চাঁদের হিসেব রাখ। কারণ সাবানের চাঁদের হিসাব নির্ভূল বা সঠিক হলে রমজানের চাঁদের হিসেব হতে অসুবিধা হবে না।  হযরত আশেয়া সিদ্দিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদা রাতে আমি হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে বিছানায় দেখতে না পেয়ে তাহার খোজে বাহিরে গেলাম, তিনি তখন জান্নাতুল বাকী নামক কবর স্থানে ছিলেন। তিঁনি (সাঃ) বললেন, আমার নিকট জিব্রাইল (আঃ) আসিয়া বললেন যে, আজ সাবানের ১৫ই রাত। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা যতগুলি গুনাগার বান্দাকে মাফ করে দেন। যতগুলি লোক বণী কলব গোত্রের পালের মধ্যে ছাগ পালের গায়ে রয়েছে। ঐতিহাসিক গণের মতে ঐ গোত্রের পালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশী বকরী ছিল। কিন্তু যারা আল্লাহর সহিত অন্য কাউকে শরিক করে, নিজেদের বাবা মায়ের সাথে নাফারমানি করে, যারা অন্যের প্রতি ইর্শ্বা প্রশোন করে, আরা যারা পায়ের গাঁটের নীচে পর্যন্ত পায়জামা বা লুঙ্গি পরিধান করে তারা এই ব্যাপক মা লাভের রাতেও আল্লাহ তায়ালার রহমত ও মা লাভ করতে পারবেনা (রায়হাক্কী)। ‘হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত. মহা নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহপাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাস নাযিল করেন।
অতঃপর ঘোষণা করেন, ‘কোনো মা প্র্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে মা করে দেব। কোনো রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করব। কোনো মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দেব। এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
চন্দ্র মাসের অস্টম মাস সাবান। সাবানের চাঁদ এমন একটি ফজিলত পুর্ণ ও বরকত ময় রাত আছে, সেই রাতে ইবাদত বন্দেগী করলে অসীম ছওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। সেই রাত্রির নাম লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। আজ ১৪ই শাবান দিবগত রাত্রি সেই ফজিলতপুর্ণ ও বরকতময় রাত শবে বরাত। এ রাতে গুনাগার বান্দারা আল্লাহ তায়ালার দরবার থেকে মা লাভ করবে বলে এ রাতের নাম লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত নাম করণ করা হয়েছে। এ নাম হতে এ রাতের ফজিলত ও গুরুত্ব বিষয়ে অতি সহজেই অনুমেয়। 
বুখারি ও মুসলিম শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বলেন, আমাকে ডাকার কেউ আছে কি? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। আমার কাছে চাওয়ার কেউ আছে কি? আমি তাকে তা প্রদান করব। আমার কাছে মা চাওয়ার কেউ আছে কি? আমি তাকে মা করব। 
বুখারি ও মুসলিমের এই হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, মুমিনের প্রতি রাতই ফজিলতপূর্ণ। অনুরূপভাবে সিহাহ সিত্তার অন্যতম হাদিসগ্রন্থ তিরমিজি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আয়েশা সিদ্দিকা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) খুঁজে পেলাম না। তখন বের হয়ে দেখি, তিনি জান্নাতুল বাকিতে আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে রয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছিলে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমার ওপর অবিচার করবেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আমি ধারণা করেছিলাম যে আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর নিকট গমন করছেন। অতঃপর তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহিমান্বিত পরাক্রান্ত আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি ‘কালব গোত্রের মেষপালের পশমের অধিক সংখ্যককে মা করেন।’


মানুষ সৃষ্টি করার আগে মহান আল্লাহ তায়ালা তার ফেরেশতাদের ডেকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি পৃথিবীতে পাঠাতে চাই। তখন ফেরেশতাগণ বললেন ইয়া রব্বুল আলামিন কেন মানুষ সৃষ্টি করবেন? আমরা তো আপনার এবাদত করছি। মানুষ সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠালে তারা সেখানে গিয়ে ঝগড়া বিবাদ মারামারি, কাটাকাটি ইত্যাদি করবে (সুরাঃ বাকারা)। তবুও অনেক মহাব্বত করে মহান রব্বুল আলামিন ১৮ হাজার মাকলুকাতের মধ্যে মানুষকে ”আশরাফুল মাখলুকাত” করে সৃষ্টি করেছেন। ”আশরাফুল মাখলুকাত” অর্থ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। পৃথিবীতে যত মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আল্লাহ তায়াল সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টির সুচনা লগ্নে মানুষের বয়স ছিল ১শ’ থেকে ২’শ বছর। তখনকার মানুষ ১শ’ থেকে ২শ’ বছর বেঁচে থেকে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগী করে তারা সন্তুষ্টি অর্জন করেছে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মতগণের বয়স কম করে দিয়েছেন। আগে যেখানে মানুষ একশ থেকে দুশ’ বছর বেঁচে থেকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করে তার সন্তুষ্টি লাভ করেছে, সেখানে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মতগণ ৬০ থেকে ৮০ বছর বেঁচে থেকে কিভাবে আগেকার মানুষের মত ইবাদত বন্দেগী করবে এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করবে। সেই জন্য হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মতগণের জন্য মহান রব্বুল আলামিন কয়েকটি রজনী, পর্ব বা উপল্য দান করেছেন। এই রজনীগুলোতে নানা রকম ইবাদত বন্দেগী করবে তাহলে আগেকার উম্মতগণের মত হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মতগণও পুর্ণ লাভ ও মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবে। যে সকল রজনী পর্ব বা উপল্য পুর্ণ আন্তরিকতার সহিত মহান পালনকর্তার বন্দেগী করে ষাট থেকে আশি বছরের সংপ্তি জীবনের পূর্ব কালের শত সহস্র দীর্ঘায়ূ প্রাপ্ত ব্যক্তিগণের সমান নেকী ও সওয়াব লাভ করতে পারবে। সেই সব রজনী, পর্ব বা উপল্েযর মধ্যে গুরুত্ব ও ফজিলতের দিক থেকে যার স্থান দ্বিতীয় বা রজমানের পরই যে পর্ব, রজনী বা উপল্য প্রতি বছর সাবান মাসের আমাদের নিকট এসে থাকে। যে পাঁচটি রাতে বিশেষভাবে দোয়া কবুল হওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে তার মধ্যে শবে বরাতের রাত একটি, মহা নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।’ (মা-ছাবাতা বিসসুন্নাহ)


এ রাতে কবর জিয়ারত করার কথা বলা হয়েছে, মৃত্যুরা আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে। কোন কোন আত্মীয় আমার জন্য দোয়া করে। এ সর্ম্পকে হাদিস শরীফে উম্মুল-মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিীকা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সাঃ) শবে বরাতের রাতে ”জান্নাতুল বাকী”নামক স্থানে কবরের পার্শে তাশরীফ নিয়ে মৃত্যু ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করেছেন। আমাদের জীবনের সকল গুনাহর কাজ থেকে দুরে থাকতে চেয়ে সকল বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রেখে সুন্দর, সুখময় জীবন , মৃত ব্যক্তিদের জন্য দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে পরম করুনাময় বিশ্ব ভূখন্ডের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া প্রার্থনা করা আমাদের সকলের একান্ত কাম্য। শবেবরাতের এ রাতটিকে পবিত্র রমজানুল মোবারকের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে যেন রমজানের অভ্যর্থনার জন্যই রাখা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ পর যে রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মহান মাস আসন্ন, তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এ শবে বরাত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র রমজানের মাধ্যমে তার যে রহমতের দ্বার খুলে দেবেন, তার আগে একটি রাত রেখেছেন। 
মানুষ অভ্যাসের দাস। আগেভাগে নেক আমলের অভ্যাস না করলে হঠাৎ কোন বড় রকমের সাধনা বা পরীার সম্মুখীন হলে তাতে অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কায় থাকে বেশি। কাজেই,শাবান মাসের আমল নামায, রোযা, কোরআন শরীফ তেলওয়াতের প্রভৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।


বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে এ রাতটি শবেবরাত হিসেবে অধিক পরিচিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশে এ মাসের একটি রজনীকে ‘শব-ই-বরাত’ বলা হয়। দণি-পূর্ব এশিয়ার কোনো কোনো দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে শবেবরাত ভিন্ন নামে পরিচিত। আরব বিশ্বের মানুষ এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বলেন।
ইসলামী পরিভাষায় এর অর্থ হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এই রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে মা পাওয়ার জন্য। রাসূল (সা.) এর হাদিসে এবং আলেম-ওলামা ও তাফসীরকারকদের বর্ণনায় শবেবরাতের বহু তাৎপর্য এবং এ রাতের মহিমার কথা উল্লেখ করেছেন।
শবে বরাত পালন বলতে আতশবাজি করা, হালুয়া-রুটির আয়োজন করা, বিশেষ পদ্ধতির নামায পড়াকে জরুরি মনে করা, এ রাতে গোসল করা ফযিলতপূর্ণ মনে করা, এ রাতে মসজিদে গিয়েই ইবাদত করাটা বাধ্যতামূলক মনে করা ইত্যাদি বিদআত। এসব করা জায়েজ নয়। পবিত্র শাবান মাস ও শবেবরাত অধিক ইবাদতের উর্বর মৌসুম। শবেবরাত কোনো আনন্দ-উৎসবের সময় নয়। অনাকাক্সিত লৌকিকতা, উন্মত্ততা, উৎসব প্রবণতায় শাবান ও শবেবরাতের প্রকৃত আবেদন এবং পবিত্রতা নষ্ট হয়। 
মাঝেমধ্যে দেখা যায়, সঠিক কোনো প্রমাণ না থাকলেও ইবাদতের শুরুতে মুসলিম সমাজে বিদয়াত চালু হয়েছে ব্যক্তিবিশেষের দোহাই দিয়ে। উদাহরণস্বরূপ কাউকে যদি বলা হয়, কেন তুমি এভাবে জিকর বা ইবাদত করছ? সে সঙ্গে সঙ্গে বলবে, অমুক অলি, অমুক পীরসাহেব, অমুক আলিম বা অমুক আকাবের করেছেন, তাই করি। সে এ কথা বলে না যে, আল্লাহ বলেছেন তাই করি, রাসুল  (সা.) বলেছেন, করেছেন বা সম্মতি দিয়েছেন, তাই করি বা অমুক সাহাবি করেছেন, তাই করি। সত্যিই এটি মহাপরিতাপের বিষয়। 
এমনিভাবে মধ্য শাবানের রজনীকে (শবে বরাত) নিয়ে আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু আমল মুরুব্বিদের দোহাই দিয়ে চলছে, যাতে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর কোনো দলিল খুঁজে পাওয়া যায় না। 


একটি প্রশ্ন রাখতে চাই আলেমদের কাছে, তা হলো, একশ শবে বরাতের আমল একটি ফরজের সমান হবে কি? উত্তর আসবে, অবশ্যই না। তাহলে আসুন, এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে ব্যক্তিগতভাবে একাকী নিজ গৃহে ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে কটা না করে, মুসলিম মিল্লাতকে ঐক্যের পথে পরিচালিত করি। 

তথ্যসূত্র
১.    সুনানে ইবনে মাযাহ, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৬০, হাদিস নং-১৩৮৮,
২.    ইসলামিকভয়েস.কম, ডিসেম্বর ১৯৯৯,
৩.    ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’,
৪.    আল-কোরআন,
৫.    উইকিপিডিয়া,

Bappy M

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস
সম্পাদক
দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট
01930 10 62 63

 

 


 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: