মহিলা হয়েও সর্বক্ষনিক কোমরে পিস্তল বহনকারী মায়া তালুকদারের অপরাজনীতি! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

মহিলা হয়েও সর্বক্ষনিক কোমরে পিস্তল বহনকারী মায়া তালুকদারের অপরাজনীতি!

22 March 2017, 12:07:24

ষ্টাফ রিপোটারঃ 
মহিলা হয়েও সর্বক্ষনিক কোমরে পিস্তল বহনকারী ও সাংবাদিক নির্যাতনকারী মায়া তালুকদার আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাদপুর) আসনের শান্তিপূর্ন রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করতে অপরাজনীতি শুরু করেছেন।

গ্রুপিং রাজনীতির জননী মহেশপুর উপজেলার ঝিটকিপোতা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী পারভিন তালুকদার মায়ার স্বামীর বাড়ী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে। মায়ার স্বামী ফারুক তালুকদার ছিলেন খুবই গরীবের সন্তান। কিন্তু তিনি পরবর্তিতে হয়ে যান শিল্পপতি। আর মায়া তালুকদার হন বাকেরগঞ্জের নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। মায়া তালুকদারের পিতৃভূমি মহেশপুরের ঝিটকিপোতা গ্রামের নিকট জিন্নাহনগর বাজারের পার্শ্বে শিল্পপতি স্বামী-স্ত্রীদ্বয় গড়ে তোলেন “প্রিটি প্রজেন ফুডস”। এই প্রিটি প্রজেন ফুডস-এর মাধ্যমে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা গরুর মাংস প্রসেস করে ঢাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে গেলে সে আশা ভেস্তে যায়।

বিল্ডিংটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল দীর্ঘদিন। ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় ঐ বিল্ডিং-এ আশ্রয় নেয় কয়েকশত পানিবন্দি মানুষ। ঐ সময় মায়া তালুকদার বন্যার্তদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ঘাড়ে ভর করে সভা-সমাবেশ করে লাইম লাইটে আসেন। শুরু হয় তার রাজনীতির খেলা। মায়া স্বপ্ন দেখতে থাকেন রাজনৈতিক হিরো হওয়ার। এ সময় সে টাকার বিনিময়ে “সাপ্তাহিক চুয়াডাঙ্গা” নামক একটি পত্রিকায় ৩টি পৃথক ব্যানার হেডিং-এ নিজের জীবনের কৃতিত্বের সমস্ত কাহিনী ও মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাতুয জুম্মা এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনের তৎকালীন বিএনপি দলীয় এমপি মরহুম শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মহেশপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সীমান্তবাণীর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও তৎকালীন বিশেষ প্রতিবেদক সরোয়ার হোসেন ১৫ এপ্রিল/২০০১ তারিখে প্রিটি প্রজেন ফুডস-এর দপ্তরে তার স্বাক্ষাতকার নিতে গেলে এক পর্যায়ে তিনি নিজের কোমর থেকে পিস্তল বের করে সাংবাদিকদ্বয়কে গুলি করে মেরে ফেলার ভয় দেখান।

পরবর্তিতে ১৮এপ্রিল/২০০১ তারিখে ‘সাপ্তাহিক সীমান্তবাণী’তে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে সে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সীমান্তবাণীর তৎকালীন সাংবাদিক সরোয়ার হোসেনকে কিডন্যাপ করে মারধর করে ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে মায়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় একটি মামলা হলে টাকার বিনিময়ে সে কয়েকশত গরীব লোক জোগাড় করে বাস ভতি করে আদালতে যেয়ে ঐ মামলায় জামিন নেন। পরে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে সে আওয়ামী লীগের কিছু পাতিনেতা জোগাড় করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে “দেয়ালঘড়ি” প্রতীকে প্রার্থী হয়ে কোটি টাকা খরচ করেও শেষ পযন্ত জামানত হারান। ঐ নির্বাচনে সে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মায়ার গ্রুপিং রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাজ্জাতুয্ জুম্মা প্রায় এক লক্ষ পেয়েও বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

২০০১ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও ২০০৮ সালে তিনি বাকেরগঞ্জ এলাকার সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। ঐ সময় তিনি সংরক্ষিত আসনের এমপি থাকলেও ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাদপুর) আসন এলাকায় কোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ না করলেও এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের কোন সাহায্য-সহযোগীতা না করলেও আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উল্লেখিত মায়া তালুকদার  ২০০১ সালের আওয়ামী লীগের ডিগবাজী খাওয়া হাইব্রিড সেই সব বানিজ্যিক নেতাদের পরামর্শে গত বছর ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে মায়া তালুকদার তার সোয়েটার ফ্যাক্টরীতে আলোচনা সভার আয়োজন করেন। শোকাবহ ঐ দিনটিতে তিনি ১০টি গরু জবাই করে রাজনৈতিক শো-ডাউন করে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের বিদেহী আত্মার সাথে তামাশা করেন। বর্তমানে তিনি মহেশপুরের শ্রীরামপুরের মাঠে জমি কিনে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী করে এলাকার গরীব মানুষের চাকুরীর সুযোগ দিয়ে জনদরদী সাঁজতে পায়তারা চালাচ্ছেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: