মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব ও অপ্রতুল সহযোগিতা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / ধর্ম / বিস্তারিত

মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব ও অপ্রতুল সহযোগিতা

17 November 2017, 5:55:52

অধ্যক্ষ মোঃ ইয়াছিন মজুমদার
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ঘোষনা করেছেন- হে নবী আপনি বলে দিন, যারা জানে আর যারা জানেনা তারা সমান নয় (সূরা জুমার, আয়াত- ৯) আল্লাহপাক আরো বলেছেন- পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন (সূরা আলাক, আয়াত- ১)। নবী (সঃ) বলেছেন- আলেমের মর্যাদা একজন আবেদ বান্দার উপর তেমনি যেমনি আমারও সাধারণ মানুষের মর্যাদার পার্থক্য (তিরমিযী)। নবী (সঃ) আরো বলেন- যখন আল্লাহ কোন বান্দার কল্যাণ কামনা করেন তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন (মুসনাদে আহমাদ)। দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী জীবনের জন্য বিদ্যার্জন, কর্মতৎপরতা যেমনি প্রয়োজন পরকালীন স্থায়ী জীবনের জন্য যথাযথ আমল তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমলের নিয়ম পদ্ধতি, মাসআলা মাসায়েল, বিশুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন তিলাওয়াত জানা না থাকলে, দোয়া, তাছবীহ পড়তে না জানলে পরকালীন জীবনের জন্য আমল করা সম্ভব হয় না। পিতা-মাতার এমন সন্তান রেখে যাওয়া উচিৎ নয় যারা তাদের জানাজায় দাড়িয়ে সঠিকভাবে দোয়াগুলো পড়তে জানে না। বর্তমানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় সাধারণ বই গুলো একই বই পাঠ্য। দশম শ্রেণী পর্যন্ত বই সরকারী ভাবেই সরবরাহ করা হয়। সাধারণ শিক্ষায় একটি বিদেশী ভাষা- ইংরেজী। শিক্ষার্থীরা সাধারণত এ বিষয়ে ফলাফল খারাপ করে থাকে। অপর দিকে মাদরাসা শিক্ষার্থী ইংরেজীর পাশাপাশি আরো একটি বিদেশী ভাষা আরবী শিখতে হয়। দু’টি বিদেশী ভাষার মুখোমুখী হওয়ার পরও মাদ্রাসার ছাত্ররা বরাবরই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে সাধারণ শিক্ষার ফলাফল থেকে ভালো করছে। সাধারণ শিক্ষায় বারংবার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে তা দেখা য়ায় না। মাদ্রাসার পাঠ্য বিষয় সাধারণ শিক্ষার তুলনায় বেশি। এইচ.এস.সি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রকে ১৩০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়, একই সমমানের মাদ্রাসা ছাত্রকে ১৭০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। মাদ্রাসায় মান সম্মত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তার বড় উদাহরণ হল বিশ^বিদ্যালয় গুলোর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। বিগত কয়েক বছরের ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে অধিকাংশ বছরই মাদ্রাসা ছাত্র প্রথম স্থান সহ অনেক গুলো শীর্ষ স্থান দখল করেছে। ২০০৮-০৯ শিক্ষা বর্ষে “খ” ইউনিটে ২য় স্থান অধিকারী মাদরাসা ছাত্র আবদুল খালেক। সে বছর মেধা তালিকার প্রথম দশজনের চারজনই মাদ্রাসার ছাত্র। ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে “খ” ইউনিটে প্রথম হন মাদ্রাসা ছাত্র আবদুল আলীম, ২য় হন মাদ্রাসার ছাত্র সেলিমুল কাদের, ৩য়, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ১০ম, ১৭তম, ১৮তম হন মাদ্রাসার ছাত্র, একই বছর “ঘ” ইউনিটে প্রথম মাদ্রাসার ছাত্রী এলিছ জাহান, ২য় মাদ্রাসার ছাত্র মিজানুল হক, ৪র্থ ও ১১তম হন মাদ্রাসার ছাত্র। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে “খ” ইউনিটে ১ম স্থান হন মাদ্রাসার ছাত্র মাসরুর বিন আনসারী, ২য়, ৪র্থ, ৫ম, ১৬তম, ১৭ তম, ১৮তম হন মাদ্রাসার ছাত্ররা। একই বছর “ঘ” ইউনিটে প্রথম মাদ্রসার ছাত্র আসাদুজ্জামান, ২য় স্থান ও দখল করে মাদ্রাসার ছাত্র। এরপর মাদ্রাসার ছাত্ররা যেন প্রতিযোগিতা করতে না পারে তার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০০ নম্বর করে বাংলা ইংরেজী সিলেবাসে থাকার শর্ত করে দেয়। এতদিন মাদ্রাসায় আরবী প্রাধান্য থাকায় ১০০ নম্বর করে বাংলা ইংরেজী ছিল। ১০০ নম্বর পড়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা ২০০ নম্বর পড়–ুয়া স্কুল কলেজ ছাত্রদের থেকে মেধায় এগিয়ে থাকার প্রমাণ দিলেও শর্তারোপের কারণে বাধ্য হয়ে মাদ্রাসার মূল আরবী শিক্ষা কিছুটা সংকুচিত করে স্কুল কলেজের ন্যায় ২০০ নম্বর করে বাংলা ইংরেজী মাদ্রাসার সিলেবাসভুক্ত করা হয়। এরপর ও থেমে নেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরিক্ষার ফলাফলে (পাশের হার ছিল ৯.৯৮) “ঘ” ইউনিটে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম হন মাদ্রাসার ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন, মানবিক শাখা থেকে ১ম হন মাদ্রাসার ছাত্র রিফাত হোসেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে খ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করে মাদ্ররাসা ছাত্র আবদুল্লাহ মজুমদার। তাছাড়া মেধা তালিকায় স্থান নেয়া সাধারণ শিক্ষার অনেকে এস.এস.সি পর্যন্ত মাদ্রাসায় পড়ে কলেজে ভর্তি হয়ে এইচ.এস.সি পাশ করা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাস্থান প্রাপ্তদের গড়ে সকল বোর্ডে ভাগ করে দিলে মাদ্রাসা বোর্ড পাবে প্রায় ৫ জন, বাকীদের ভাগে গড়ে ১ জন করে ও পড়বেনা। এভাবে মেধার পরিচয় দেয়ার পরও উচ্চ শিক্ষিত সংকীর্ণমনা কিছু ব্যাক্তির কারণে ভর্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদ্রারাসা ছাত্র বিরুপতার শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন সময় সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অবদান রাখলেও বাস্তবতায় সাধারণ শিক্ষায় সরকারের সাহায্যের তুলনায় তা একেবারে নগণ্য। আপনি যে কোন ইউনিয়ন পর্যায়ের একটি স্কুলে গিয়ে তাদের সরকার প্রদত্ত অবকাঠামো এবং একই ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় গিয়ে তাদের জন্য সরকারের প্রদত্ত অবকাঠামো, উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে একটি কলেজের অবকাঠামো ও একই স্থানের সমমানের মাদ্রাসার অবকাঠামোর দিকে তাকালে তা বুঝতে মোটেও অসুবিধা হবে না। একটি ডিগ্রি কলেজে ইন্টার ১ম, ২য় বর্ষ, ডিগ্রি ১ম, ২য়, ৩য় বর্ষ মোট মৌলিক শ্রেণী ৫টি, অপরদিকে ১টি ডিগ্রি মাদ্রাসা ১ম শ্রেণী থেকে ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পর্যন্ত ১৫টি মৌলিক শ্রেণীকক্ষের প্রয়োজন। ভবন বরাদ্দে সে দিকটি বিবেচনা করা হয় না। ১৯৯৪ ইং সনে একই পরিপত্রে স্বতন্ত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গড়ে ওঠে। বেতন ছিল মাসিক ৫০০ টাকা। ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে প্রথমে বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত ও পরবর্তীতে সরকারি করণ করা হয়েছে। অপর দিকে ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকের বেতন ৫০০ টাকার স্থলে বর্তমান সরকার ১০০০ টাকা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে হয়তো বলা হবে- আমরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন দ্বিগুণ করেছি। কিন্তু সে দ্বিগুণ বেতন একজন শিক্ষকের মাসিক ১০০০ টাকা হওয়া উপহাঁস ছাড়া আর কিছু কি? তাদেরকে সংযুক্ত ইবতেদায়ীর সমস্কেলে নিলে ও ইজ্জত কিছুটা রক্ষা পেত। দেশে হাজার হাজার সরকারি স্কুল কলেজ রয়েছে অথচ সরকারি মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র ০৩ টি। বর্তমান সরকার ছয়শতাধিক স্কুল কলেজকে নতুন করে সরকারি করণের ঘোষনা দিলে ও একটি মাদ্রাসাকে ও সরকারি করণের ঘোষনা অদ্যাবধি দেয়া হয়নি। চলতি অর্থ বছরের বাজেটে আমার জানা মতে মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা অথচ সাধারণ শিক্ষার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিশ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ছোট রাষ্ট্র, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশী, এদেশে চাকুরীর বাজার খুবই সীমিত। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে কর্মসংস্থানের অভাব থাকায় তারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য আমাদের বিশাল শ্রম বাজার। বৈদেশিক মুদ্রা যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে তার সিংহভাগ আসছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের ভাষা আরবী, আরবী জানা ব্যতীত সেখানে গিয়ে ভালো চাকুরী ও বেতন পাওয়া কঠিন। ভাষা শিখতে শিখতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মাদ্রাসার ছাত্ররা ব্যতিক্রম, তারা সহজে ভাষা আয়ত্ব করে নেয়। এজন্য আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের পশ্চিমবঙ্গের অনেক হিন্দু ছেলে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে আরবী শিখছে। তারা আরবী ভাষা আয়ত্ব করে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে চাকুরী করবে। এক সময় জঙ্গী বলতে মাদ্রাসার ছাত্রদের দিকে অভিযোগের আংগুল তোলা হত। সে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত করে মাদ্রাসা শিক্ষিতরা মসজিদে জুমার খুতবায়, শ্রেণী কক্ষে, বিভিন্ন সভা সমাবেশে, কোরআন ও হাদিসের আলোকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করছে। এভাবে মাদ্রাসা শিক্ষিতরা মেধার ক্ষেত্রে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে, জঙ্গিমুক্ত জাতি গঠনের ক্ষেত্রে অবদান রাখার পর ও সাধারণ শিক্ষার তুলনায় সুযোগ সুবিধা কম পাওয়া দুঃখজনক। বর্তমান সরকার আরবী বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কওমী মাদ্রাসা স্বীকৃতি প্রদান সহ মাদ্রাসার উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তবে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় তা এখনো অনেক কম। আশা করি সরকারিকরণ, অবকাঠামোগত সুবিধা দান, বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন। [

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: