মাশরাফি দিয়ে শুরু, মাশরাফিতেই শেষ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

মাশরাফি দিয়ে শুরু, মাশরাফিতেই শেষ

10 October 2016, 9:59:03

টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ও মাহমুদুল্লাহর লড়াকু ৭৫ রানের পর আবারো ব্যাটিংয়ে ধ্বস। খাদের কিনার থেকে টাইগারদের টেনে তোলার দায়িত্ব নেন দলে ফেরা নাসির ও অধিনায়ক মাশরাফি। অষ্টম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলের রান ২৩৮ রানে পৌঁছে দেন এই জুটি। মাশরাফির ২৯ বলে ৪৪ ও নাসিরের অপরাজিত ২৭ রান ছিল বাংলাদেশ ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ব্যাটসম্যান মাশরাফির পর নতুন বলে বোলার মাশরাফির তোপের মুখে পড়ে ইংলিশরা। পাওয়ারপ্লেতে মাশরাফির তিন উইকেট ও সাকিবের ঘূর্ণির পর বাটলার-বেয়ারস্টর লড়াই, ম্যাচ তখন পেন্ডুলামের মত দুলছিল। পরবর্তীতে তাসকিনের গতিময় স্পেলে বাটলার-বেয়ারস্ট সহ তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের লক্ষ্য যখন মাত্র ২৩৯, ইনিংসের শুরুতে উইকেট নেয়াই ছিল টাইগারদের প্রাথমিক লক্ষ্য। সেটাই করলেন বাংলাদেশের দুই তরুপের তাস মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান।

ইংল্যান্ড ইনিংসে প্রথম ধাক্কাটা দেন সেই মাশরাফি। চতুর্থ ওভারে মাশরাফির আউট সুইংয়ে পুশ করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন ৫ রান করা ওপেনার জেমস ভিন্স।

আরেক প্রান্ত থেকে সাকিবের ভয়ঙ্কর টার্ন ও আর্মে পরাস্ত হতে থাকে নতুন ব্যাটসম্যান বেন ডাকেট ও ওপেনার রয়। মিরপুর স্টেডিয়াম তখন ভিন্নরকম আবহ।

দুই প্রান্ত থেকে রান শুকিয়ে যাওয়ায় চাপের মুখে থাকা ডাকেটকে অষ্টম ওভারে দুর্দান্ত টার্নে বোল্ড করেন সাকিব।

সেখানেই থামলেন না মাশরাফির বাংলাদেশ। নবম ওভারে ওপেনার রয়কে দারুন ইনসুইংয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পেলেন মাশরাফি।

বাংলাদেশ তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রনে। ইংল্যান্ডের রান তখন ২৪ রান, তিন উইকেটে। সেখানেই থামলেন না মাশরাফি। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ার ভয়ঙ্কর অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন তিনি।

পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে মাশরাফির লেন্থ বলের সাথে খানিকটা সুইং মেশানো বলে সরাসরি বোল্ড হন স্টোকস। দ্রুত উইকেট পতনে ব্য়াকফুটে থাকা ইংল্যান্ডকে টেনে তোলার দায়িত্ব তখন অধিনায়ক বাটলার ও জনি বেয়ারস্টর কাঁধে।

ধীরে হলেও দুই ইংলিশম্যানের ব্যাটে ১৫ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৬৫ রানে পৌঁছায়। সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে ব্যাট করে রান রেটের সাথে পাল্লা দিতে থাকে এই দুই ব্যাটসম্যান।

কোন ঝুঁকি না নিয়েই ২২তম ওভারে শত রানে পৌঁছে যায় ইংলিশরা। ম্যাচে ফেরার জন্য উইকেটের দরকার ছিল টাইগারদের। ২৪তম ওভারে মাশরাফি বল তুলে দিলেন ফাস্ট বোলার তাসকিনের হাতে।

ভুল করলেন না তাসকিন। গুড লেন্থ থেকে লাফিয়ে ওঠা বলটিকে ড্রাইভ করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন উইকেটে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্ট।

আউট হওয়ার আগে ৫৩ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। বাঁহাতি মইন আলি শুরুতে তাসকিনের বলে কয়েকবার বেঁচে গেলেও অফ স্পিনার নাসিরের বলে ২৭তম ওভারে পুল করতে গিয়ে সাকিবের দারুন ক্যাচের শিকার হন তিনি।

ইংল্যান্ডের আশা তখন বাটলারের ব্যাটে। কিন্তু তাসকিনের ২৮তম ওভারে লেন্থ বলে তেড়ে মারতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তাসকিন সহ পুরো মিরপুর আম্পায়ারের দিকে চেয়ে ছিল তখন।

কিন্তু সরফতুল্লাহ নেতিবাচক সাড়া দেয়ায় আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি রিভিউ নেন। পরবর্তীতে রিভিউতে ৫৭ বলে ৫৭ রান করা বাটলার সাজঘরে ফিরে যান।

সেখানেই থামলেন না তাসকিন। ক্রিস ওকসকে ৩০তম ওভারে সুইংয়ে পরাস্ত করে মুশফিকের গ্লাবস বন্দী করেন তিনি। দলের রান তখন ১৩২ রান, আট উইকেট।

ইংল্যান্ডের চোখে হারের ভয়। বাংলাদেশ তখন জয় থেকে দুই উইকেট দূরে। একই ওভারে উইলির বিরুদ্ধে লেগ বিফরের আপিল করেন তাসকিন। কিন্তু অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি।

কিন্তু শেষ রক্ষা হল না এই নটস ওপেনারের। ইনিংসের ৩৯তম ওভারে মোসাদ্দেকের প্রথম ওভারে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফর আউট হন উইলি।

বাংলাদেশের জয় তখন সময় ব্যাপার মাত্র, কিন্তু আদিল রাশিদের শেষ উইকেটের লড়াইয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। সাথে যোগ দেন পেসার জ্যাক বল।

ইনিংসের ৪৪তম ওভারে দলের রান ২০০ রান পৌঁছে দেন এই জুটি। বাংলাদেশি সমর্থকদের কপালে তখন চিন্তার ভাজ। দশম উইকেটে পার্টনারশিপ তখন ৪৫, ৪৫তম ওভারে অধিনায়ক মাশরাফি নিজেকে ফিরিয়ে এনেই ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।

মাশরাফির অফ কাটারে জ্যাক বল তেড়ে এসে মারতে গিয়ে মিরপুরের আকাশে তুলে মারেন। কাভার বাউন্ডারি থেকে দৌড়ে আসা নাসির কোন ভুল করলেন না এবার।

২০৪ রানে অল আউট ইংল্যান্ড ৩৪ রানের পরাজয় বরন করে। মাশরাফি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ রানের পর বল হাতে ২৯ রান খরচায় চার উইকেট শিকার করেন।

তাসকিনের শিকার তিন উইকেট, সাকিব নেন একটি। এই জয়ে সিরিজে ফিরে আসে বাংলাদেশ।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: