মা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

মা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

10 May 2020, 3:22:52

বাড়িতে সচরাচর যাওয়া হয় না। গ্রামের একজন যশস্বী শিক্ষক ইন্তেকাল করেছেন।জানাযার উদ্দেশ্যে গ্রামে যাব। আম্মা কল দিলেন তুই জানাযায় আসবি?
আমি বললামঃ জ্বি
আম্মা বলল দুপুরে বাড়িতে খেতে হবে।
বললামঃ জ্বি..
বাড়ি রাওয়ানা দিয়ে আম্মাকে কল দিলাম।
বললাম কিছু লাগবে? আম্মা বলল হালকা সবজি লাগবে…
পকেট খুব একটা ভারী ছিল না। কর্তব্য কাজ সেরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রাওয়ানা দিয়ে বাজারে গিয়ে টুকটাক সদাই করতে করতে পকেট মোটামুটি শুন্য ….

সিএনজি করে বাড়ি গেলাম তারপর যথারীতি মায়ের আয়োজন দেখলাম। তড়িঘড়ি করে জানাযায় অংশগ্রহণ করলাম। কবরস্থ করে বাড়ির দিকে ছুটলাম ততক্ষণে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষুধার আগুন দাউদাউ করছে…
তার চেয়েও মায়ের রান্নার স্বাদ যেন চৌম্বকীয় পদ্ধতিতে টানছে। গিয়ে দেখি বাবা খাওয়ার টেবিলে খাবার নিয়ে বসেছে। আম্মা রান্না করা সব আয়োজন পাতিলসহ টেবিলে সাজিয়ে রেখেছে। মুরগীর মাংস, কাচকি মাছের ঝোল, রসুনে ভর্তা, সবজি, ডিমসহ ভাজা মাগুর মাছ, আস্ত তিনটি কৈ মাছ, পায়েস!
লোভ সামলাতে পারলাম না প্রথমে কৈ মাছের উপর আক্রমণ, তারপর মাগুর মাছের মাথার অংশ। খুব তৃপ্তি সহকারে ভূঁড়ি ভোজ সম্পন্ন হলো।

খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিলাম। তারপর উঠব, এমন সময় আম্মা বললঃ তোর গাড়ী ভাড়া আছে?
আমি মৃদু স্বরে বললাম আছে। আম্মা ভিতরে গিয়ে পাঁচশত টাকার একটা নোট এনে হাতে দিলেন। আমি বললাম একশ টাকা হলে চলবে। তারপরও জোর করে পকেটে পুরে দিলেন। এমন সময় বাবা আসল ….
আমাদের ব্যতিব্যস্ততা দেখে অনেকটা উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে?
আমি তাৎক্ষণিক জবাব দিতে পারিনি।
আম্মা বললঃ “মানিকে আমারে টাকা দিতে চাইছে”
আমি আম্মার চোখে তাকিয়ে থাকলাম। চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক।
আমি সত্যি বিস্মিত হলাম!!
মা যেন জ্যোতিষী! মনোরোগ বিশেষজ্ঞ!

মানুষের মুখ দেখে মনের কথা বুঝতে পারা জোত্যিষী ভুল বললেও সন্তানের মুখ দেখে মা কখনো ভুল বলতে পারেন না। মায়ের এই অপার এক ক্ষমতা আছে। যাতে তিনি না বলেই বুঝে যান সন্তানের মনে কী চলছে। মাকে সে কি বলতে চায় নয়তো মায়ের কাছে সে কি লুকাতে চাচ্ছে। শত কষ্ট হলেও মা তার সন্তানের সেই আবদার রাখে। সন্তানের হাসিমাখা মুখটিই যেন মায়ের কাছে তপ্ত রোদে এক পশলা বৃষ্টি।

সত্যিই মা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জ্যোতিষী।

আফজাল হোসাইন মিয়াজী
(শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিক)

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x